করোনায় চরম সংকটে শিক্ষাব্যবস্থা

  • 10 June
  • 03:42 AM

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক (জবি) 10 June, 20

করোনা এ যেনো এক আতংকের নাম। পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনই মৃত্যুর সারিতে যোগ হচ্ছে হাজার, হাজার লাশ। এখন পর্যন্ত করোনা বিস্তারের একটি কারন বেশি করে লক্ষ্য করা গেছে। সেটি হলো অসচেতনতা। পৃথিবীর যতো গুলো দেশে আজ করোনা ভয়ানক হয়ে উঠেছে তার জন্য তাদের খামখেয়ালী ও অসচেনতাই দায়ী।

বাংলাদেশ এদিক থেকে ব্যাতিক্রম। প্রথম থেকেই সতর্ক। করোনা মোকাবেলায় প্রথম থেকেই জনসমাগম হয় এমন সব কার্যকর বন্ধ ঘোষণা করেছে। প্রথম দিকে সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করলেও পরবর্তীতে সকল অফিস, আদালত ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সরকারের এ পদক্ষেপের ফলে করোনা অনেকাংশে মোকাবেলা করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা চরম সংকটের মধ্যে পরেছে।

ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস এর কারনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা গত ১লা এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল।

পঞ্চম শ্রেনী পড়ুয়া রাফির মা তার ছেলেকে নিয়ে বেশ চিন্তিত। তিনি বলেন, 'আমার ছেলের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা এপ্রিল এ হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা পিছিয়ে দিয়েছে। কবে নাগাদ পরীক্ষা হবে তা নিশ্চিত না। করোনার কারনে স্কুল বন্ধ থাকায় তার পড়ার গতি তেমন নেই। যা নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত।'

শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের পরিবার এ নিয়ে চিন্তিত। আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, 'আমাদের পরীক্ষা এপ্রিলের ১ তারিখ হওয়ার কথা থাকলেও, কবে নাগাদ পরীক্ষা হবে সে ব্যাপারে আমরা সন্দিহান। তিনি আরো বলেন, যদিও আমরা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সময় বেশি পেয়েছি তারপরেও দেরিতে পরীক্ষা হওয়া আমাদের জন্য নেতিবাচক। আমরা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবো না।'

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নাসরিন রিয়া বলেন, করোনা মহামারীতে শিক্ষাব্যাবস্থা চরম সংকটে। মাসের পর মাস বন্ধ পড়ে আছে স্কুল,কলেজসহ সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো। এই অনির্দিষ্টকালের বন্ধে ঘরে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। সব থেকে বেশী কোনঠাসা হয়ে আছে ২০২০ ব্যাচের এইসএসসি পরীক্ষার্থীরা, কবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে নেই কোনো প্রকার নিশ্চয়তা। আতংকিত হয়ে কাটাচ্ছে এই অনির্দিষ্টকালের অবকাশ। এরই মধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন ক্লাস শুরু করেছে, নেটওয়ার্কিং ব্যাবস্থার শোচনীয় অবস্থার জন্য অনেক শিক্ষার্থীই পাঠদান হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এস আহমেদ ফাহিম বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।পিএসসি,জেএসসি,এসএসসি,এইচএসসি এবং ভর্তি পরীক্ষা গুলো পিছিয়ে যাবে এবং কবে হবে তাও অনিশ্চিত। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে দুশ্চিন্তা। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটছে।অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস শুরু হলেও সব শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। দীর্ঘসময় এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং পুনরায় তা চলমান করতে শিক্ষাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে বলে আমি মনে করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ কলেজ এর শিক্ষার্থী স্বর্ণা বলেন, 'কেবলমাত্র আমাদের সেশনজট এর জট খুলতে শুরু করেছিল। এর মাঝেই এই দুর্যোগ। আমাদের পরবর্তী পরীক্ষা সঠিক সময়ে হবে কি-না তা নিয়ে আমরা সন্ধিহান।'

উল্লেখ্য যে, গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে সরকারি, আধা-সরকারী অফিস সহ অন্যান্য অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমিত পরিসরে যানবাহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার।