মিড কুইজের পরিবর্তে এসাইনমেন্ট একটি ভালো বিকল্প- অধ্যাপক রাজিব হাসান

  • 20 Dec
  • 01:25 PM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি 20 Dec, 20

২০১৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( হাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্নাতক সম্পন্ন হবার কথা থাকলেও স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। এর কারণ হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা করোনা মহামারির পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত আন্দোলনকে দায়ী করছেন।

হাবিপ্রবির ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার দাবীতে গত অক্টোবর থেকে আন্দোলন করে আসছে। এর প্রেক্ষিতে আগামী ২১ শে ডিসেম্বর (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে একাডেমিক কাউন্সিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম। ঐদিনই ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার দিন তারিখ নির্ধারিত হবে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস কার্যক্রমে অংশ নিলেও উপস্থিতির হার সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছেন হাবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের একাধিক শিক্ষক। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ চূড়ান্ত লেভেলের পরীক্ষায় অংশ নিলে রেজাল্ট বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে। এজন্য শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর সিলেবাস সংক্ষেপ করার পাশাপাশি অসমাপ্ত মিডটার্ম পরীক্ষা, কুইজ টেষ্ট ও উপস্থিতির সম্পূর্ণ নাম্বার যাতে এসাইনমেন্টের মাধ্যমে হয় সে ব্যাপারে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।

শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যায় হাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রাজিব হাসান মতামত দিয়েছেন। অধ্যাপক রাজিব হাসান বলেন, 'শিক্ষক হিসেবে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় সিলেবাস শেষ না করে পরীক্ষা নেওয়া উচিৎ নয়। তবে যেহেতু করোনাকালীন সময় এছাড়া কোন উপায় নেই এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন লেভেলের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এর সাথে জড়িত সেক্ষেত্রে তাদের দাবী, কুইজ এবং মিড সিমেস্টার পরীক্ষার পরিবর্তে এসাইনমেন্ট প্রদান, বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে আমি সমর্থন করি।

শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত আমার লেখা নিবন্ধেও আলোকপাত করেছিলাম। যেহেতু সময় খুব কম এবং কোন পরীক্ষাই নেওয়া সম্ভব হয়নি সেহেতু এখন সিলেবাস অনুযায়ী কুইজ ও মিড-সিমেস্টার পরীক্ষা নিয়ে মূল্যায়ন করাটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

এখন প্রশ্ন হল এসাইনমেন্টের ফরম্যাট কেমন হওয়া উচিৎ? গতানুগতিক এসাইনমেন্ট হলে আবারও সেটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাড়াবে !

আমার মনে হয় ২ অথবা ৩, যত ক্রেডিটই হোক না কেন, সিলেবাসের মধ্যে থেকে প্রতিটা কুইজের পরিবর্তে দুইটি করে প্রশ্ন এবং প্রতিটা মিড-সিমেস্টার পরীক্ষার পরিবর্তে চারটি করে প্রশ্নের উত্তর লিখতে দেওয়া উচিৎ। তবে প্রশ্নগুলো এমন হতে হবে যাতে করে এই ৮ টি বা ১০ টি প্রশ্ন থেকেই ফাইনালের প্রশ্ন করা যায় এবং এসাইনমেন্ট অবশ্যই হাতে লিখে জমা দিতে হবে।

এতে করে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ে তাদের সিলেবাসের মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষা সম্পর্কে ধারনা পাবে, এবং এসাইনমেন্ট লেখার সময়ই বার্ষিক পরীক্ষার অর্ধেক প্রস্তুতি হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তারা দ্রুততার সাথে বার্ষিক পরীক্ষাও শেষ করতে পারবে।

আমি আশা করছি বিজ্ঞ একাডেমিক কাউন্সিলরগণ এই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখবেন এবং ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভদেরও উচিৎ তাদের কোর্স টিচার ও চেয়ারম্যান মহোদয়গনের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা। আর আমি এটি শুধু ১৬ ব্যাচের জন্যই করতে বলছি না বরং লেভেল ১ থেকে শুরু করে যাদের একাডেমিক সিলেবাস অফলাইন অথবা অনলাইনে শেষ হয়েছে,তাদের সকলের মিড-কুইজের বিকল্প হিসেবে এসাইনমেন্ট
নেওয়া উচিৎ। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে শুধু ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে নিলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের আর কোন বাড়তি চাপ থাকবে না। আমি শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করছি'।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, 'যেহেতু ইউজিসি থেকে সকল সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষেই এসেছে সেহেতু আমরাও চাইবো নিয়মের মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সবচেয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে। শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ। তাঁদের জন্য যে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয় আমরা ইউজিসির নির্দেশনা মেনে সেভাবেই পদক্ষেপ নিবো'।

আমি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পক্ষে এমন মন্তব্য করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাসেম বলেছেন, 'আগামীকাল (২১ শে ডিসম্বর) একাডেমিক কাউন্সিলে আমরা সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করছি শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত আসবে'।