এনিম্যাল হাজবেন্ড্রীর ৬৭% শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিনের আওতায়

  • 06 Aug
  • 12:28 PM

মেহেদী হাসান 06 Aug, 21

করোনা ২০২০ সালের একটা ভয়াবহ দুর্যোগ যার ভয়াবহতা থেকে এই বিশ্ব এখনো বের হতে পারেনি।করোনার থাবায় এখনো থমকে আছে এই বিশ্ব। বাংলাদেশেও লেগেছে করোনার থাবা। একের পর এক বিধি নিষেধের পরও থামানো যাচ্ছে না সংক্রমণের মাত্রা। প্রতিনিয়ত যেমন দীর্ঘ হচ্ছে সংক্রমণের হার তেমনি দীর্ঘ হচ্ছে স্বজনদের আহাজারি। এমতাবস্থায় সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায় হচ্ছে করোনার ভ্যাক্সিন গ্রহণ করা। প্রায় ১.৫ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভ্যাক্সিন সংকটের কারণে প্রথমে প্রথম সারির যোদ্ধাদের আনা হয় ভ্যাক্সিনের আওতায়। প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীরা এর আওতায় না থাকলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে ভ্যাক্সিন নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুততার সাথে শিক্ষার্থীদের ভ্যাক্সিন নেয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করে দেয়। পরবর্তীতে সুরক্ষা এপে রেজিস্ট্রেশন এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড দেখানোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভ্যাক্সিন নেয়ার সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল‌ অনুষদের শিক্ষার্থীরা নিজ‌‌ নিজ জায়গা থেকে ভ্যাক্সিন গ্রহণ করছেন।যার ব্যতিক্রম হয় নি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের ও। প্রাপ্ত তথ্য মতে, পবিপ্রবির এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী ডিসিপ্লিনের মোট ১৯৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিনের আওতায় এসেছে।যা ডিসিপ্লিনের মোট শিক্ষার্থীর ৬৭%। ভ্যাক্সিনের বাইরে থাকা ৬৪জন‌ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭জন শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং ১ম ডোজ নেয়ার অপেক্ষায় আছে এবং ২৭ জন শিক্ষার্থী এখনও রেজিস্ট্রেশন করে নি। রেজিস্ট্রেশন করে নি এমন ২৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় বর্ষের ১১ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সুরক্ষা এপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারে নি‌ বলে জানা‌ যায়। ১ম বর্ষের মোট ৪০জন‌ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯জন শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছে, ৫জন‌ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে ১ম ডোজ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে।২য় বর্ষে মোট ৫৭ জন‌ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছেন এবং ৯জন ১ম ডোজ গ্রহণের অপেক্ষায় আছেন।৩য় বর্ষে মোট ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০জন শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছেন এবং ১২ জন গ্রহণের অপেক্ষায় রেয়েছেন।৪র্থ বর্ষে মোট ৪৪ জন‌ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০জন শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছেন এবং ১১জন ভ্যাক্সিন গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন। ১ম ডোজ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সকলের চলতি মাসেই ভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন‌ হবে বলে তথ্য সূত্র থেকে জানা যায়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তা কাজ করছে যার ফলে অনেক শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।ভ্যাক্সিন কার্যক্রমের শুরুর‌ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভ্যাক্সিন কার্যক্রমে ভ্যাক্সিন প্রাপ্তির আওতায় না থাকলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে ভ্যাক্সিন দেয়ার কার্যক্রম শুরু করে।

এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী ডিসিপ্লিনের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল রাব্বি বলেন, "ক্যাম্পাসে যাওয়ার দিন কিছুটা হলেও এগিয়ে আসছে মনে হয়।প্রায় ২ বছর বাসায় থাকায় সকল শিক্ষার্থীদের জীবন প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিলো, সবাই এখন ফিরে যেতে চায় তাদের প্রানের ক্যাম্পাসে। যাই হোক এর মধ্যে অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস নিয়ে এলো কোভিড ভ্যাক্সিন।ইতোমধ্যে প্রায় সকল শিক্ষার্থী ১ম ডোজ সম্পন্ন করেছে, কেউ কেউ বা দ্বিতীয় ডোজও।প্রায় সকল শিক্ষার্থী এখন করোনার এই ভয়াল থাবা থেকে আশঙ্কা মুক্ত । এজন্য সকল কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিতে চাই, তার নিরলস চেষ্টায় সকল শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে।"