এটা একটা ষড়যন্ত্র, আমাকে অপদস্থ করতে কুচক্রীরা চেস্টা করেছে: মেস মালিক ড.সাইফুল ইসলাম

  • 27 June
  • 01:42 PM

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 27 June, 20

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া মেস মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক মেসের শিক্ষার্থী কে হেনস্থা করার যে বিষয়টি সকলের দৃষ্টি গোচর হয়েছে,তা নিছক একটি ষড়যন্ত্রের অংশ এবং তাকে ফাঁসাতে একটা শ্রেণী এই কুট কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মেস মালিক ড.সাইফুল ইসলাম।

২৭শে জুন (শনিবার) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেইসবুক গ্রুপের একটি স্টাটাসে দেখা যায় যে,
করোনা পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনিশ্চয়তা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু মেস ছাড়তে বৃহস্পতিবার (২৫জুন) বগুড়া থেকে ত্রিশালে আসে। স্টাটাসে উল্লেখ করা হয় যে,তাৎক্ষণিক ভাড়া দিতে না পারায় মেসে প্রবেশ করতে দিতে নারাজ হন ছাত্রাবাসের মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম। করোনা চলাকালীন বকেয়া চার মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে মেসে ঢুকতে না দেয়ার জন্যে মেসের কেয়ারটেকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী।

স্টাটাসে আরো উল্লেখ করা হয়, ছাত্রাবাসের মালিককে সিট ছেড়ে দেয়ার বিষয় অবগত করলে মালিক সকল বকেয়া পরিশোধ করে দিতে বলেন। শিক্ষার্থী মজনু মেস মালিক সমিতি,বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ ভাড়া মওকুফ এর কথা বললে ছাত্রাবাসের মালিক বলেন এই সিদ্ধান্ত আমি অবগত নই । আমি জেনে পরে তোমাকে জানাচ্ছি। মালিকের সম্মতির বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্রাবাসের কেয়ারটেকার মজনুকে তার রুমে রাত থাকতে দেয়। মজনু পরদিন ২৬ জুন বিকাশে টাকা উত্তোলন করতে গেলে মেসের মুল ফটকের তালা পরিবর্তন করে ফেলে। পুরো ভাড়া না দিলে কোনভাবেই যেতে দিতে না করেছে স্যার এমনটাই জানান কেয়ারটেকার আব্দুল আজিজ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই স্টাটাস ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থী মজনুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার মায়ের সাথে উপরোক্ত বিষয়ে কথা বললে জানান, মজনুর স্যার মেসের সকল বকেয়া পরিশোধ করার জন্য বলে। পরে মজনু আমার কাছে টাকা চাইলে পরের দিন সকালে টাকা পাঠিয়ে দেই।

অপরদিকে মেস মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড.মোঃসাইফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে বলেন, আমার সাথে মিথ্যাচার করা হয়েছে।
এই ঘটনার সাথে তার বিন্দুমাত্র সংস্পর্শতা নেই বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, মজনু আমার খুব কাছের একজন ছাত্র। তাকে আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করি। তার কাছ থেকে প্রতি মাসের সিট ভাড়া অন্য ছাত্রদের তুলনায় কম নিয়েছি। অনেক সময় তিন চার মাস পর একসাথে ভাড়া দিয়েছে।
সে আমার বিভাগের ছাত্র। তার সাথে আমার সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ। তার পরিবারের সদস্যদের সাথে মাঝেমধ্যে আমার কথা হয়। সুতরাং তার সাথে আমার এই রকম ঘটনা ঘটার প্রশ্নই আসে না। একটা কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে এই নাটক সাজিয়েছে। মজনুর বক্তব্য তা কখনোই হতে পারে না।
অভিযোগ অসত্য হলে এতে আপনার মানহানি হয়েছে।সে ক্ষেত্রে আপনার পদক্ষেপ কি, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অবশ্যই আমার মানহানি হয়েছে। আমার মানহানির মাধ্যমে পুরো শিক্ষকসমাজকে জড়ানো হয়েছে। আমি এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি।আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর একটা ব্যবস্থা নিবে। ছাত্রাবাসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলো এবং এখনো আছে।

শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, একজন ছাত্রের সাথে কখনোই এই ধরনের আচরণ কাম্য নয়। ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক ও অপমানকর। এর সত্যতা জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করি নজর দিবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.উজ্জ্বল কুমার প্রধান জানান, "শিক্ষার্থী মজনু আমাকে ঘটনার সময় ফোন দেয় এবং সিট ভাড়া কি পরিমান মওকুফ হয়েছে তা জানতে চায়,আমি তাকে সর্বোসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত জানাই।
তার সাথে আমার এর বেশি কথা হয় নি। ছাত্রাবাসের নাম কি কিংবা ছাত্রাবাসের মালিক কে,এসব কোনো কিছুই আমাকে সে জানায় নি।
বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছি। এই ধরনের বিষয় সত্য হয়ে থাকলে তা আমাদের জন্য অতীব দুঃখজনক। উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি,বিষয়টা আমরা ইতিমধ্যে খতিয়ে দেখার চেস্টা করছি।
তিনি আরো জানান,ছাত্রাবাস মালিক ড.মোঃসাইফুল ইসলামের সাথে কথা বলে এই বিষয় জেনেছি, শিক্ষার্থী মজনুর সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করছি । বিষয়টা প্রসেসিং এ আছে।