প্রতিবন্ধকতা জয় করে এগিয়ে যাওয়া মিলনের গল্প

  • 13 Feb
  • 02:48 AM

মেহেদী হাসান, পবিপ্রবি 13 Feb, 20

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে মিলন একটি পরিচিত নাম। তাকে চেনে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। ক্যাম্পাসের কোন কর্মচারী বা কোন শিক্ষার্থী নয় সে। একজন সংবাদপত্র বিক্রেতা। সকাল বেলা ক্যাম্পাসের রাস্তায় সংবাদপত্র হাতে দেখা যায় মিলনকে। দেখা হলেই দূর থেকে একটা সালাম আর হাতটা বাড়িয়ে দেয় করমর্দনের জন্য।মুখে হাসি নিয়ে আবছা আবছা ভাষায় জিজ্ঞেস করে, কেমন আছেন? মনে হয় ক্যাম্পাসের সবাই তার আপনজন খুব পরিচিত।

বলছি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মিলনের গল্প। ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, কথাটাও স্বাভাবিক না, সংবাদপত্রের বান্ডেলটা থেকে সংবাদপত্রটা বের করতেও তার সময় লাগে।ভোর বেলা সংবাদপত্র নিয়ে কখনো হেঁটে আবার কখনো ভ্যানে করে এলাকার সব অফিস, দোকান, বিদ্যালয়ে সংবাদপত্র ঠিক সময়ে পৌছে দেয়াই যেন তার দায়িত্ব। রোদ,কুয়াশা বা বৃষ্টি কোন কিছুই তাকে আটকিয়ে রাখতে পারে না। হয়ত ঘেমে না হয় ভিজে ঠিক পত্রিকাটা পৌঁছে দেয় সে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সে পত্রিকা বিলি করে। ২/৩/৪ তলা যেন কোন ব্যাপারই না তার কাছে। প্রতিবন্ধকতা তাকে আটকাতে পারে নি‌। প্রতিবন্ধকতাই মিলনের কাছে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।

পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান মিলন। জন্মলগ্ন থেকেই বিকলাঙ্গ ও বাক প্রতিবন্ধী মিলন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিতৃহীন হয় মিলন।সংসারের হাল ধরতে মায়ের সাথে কাজ করা শুরু করা সে।কারো সাহায্য বা অন্যের মুখাপেক্ষী নয় নিজেই কিছু করা শুরু করে সে। বেছে নেয় সংবাদপত্র বিলি করার পথ।
দিনশেষে কোন আক্ষেপ বা অভিযোগ নেই তার।সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ঠেলে এগিয়ে যাওয়া এক সৈনিক সে।