এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ অবিনশ্বর থাকুক

  • 21 Mar
  • 08:36 AM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 21 Mar, 20

গত ৯ মার্চ, ২০২০ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হবার পর থেকে আমাদের চিন্তার অবকাশ নেই।সচেতন অভিভাবকবৃন্দ নিজ সন্তানদের সুরক্ষিত রাখতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৩১মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।l নিষিদ্ধ করা হয়েছে গণ জমায়েত। তবে ডাক্তারদের জন্য এর কোনটিই প্রযোজ্য নয়। ছুটি বাতিল করে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে সবাইকে। এ নিয়ে চিন্তিত অনেকের পরিবারবর্গ।
এমন পরিস্থিতিতে যখন একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে তাঁর মা বলেন, “শোন, অন্যকে সেবা দিতে যেয়ে তুই যদি মরেও যাস আমি কখনোই আফসোস করব না। কিন্তু তুই যদি এই সময় অন্যের জন্য কিছু না করিস তাহলে সেটা আমার জন্য লজ্জাজনক হবে।" -এটা আমাদের জাতির জন্য আত্মত্যাগ এর মতোই বলা চলে।

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমনটাই তুলে ধরেছেন এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. তাহমিনা আহমেদ তন্বী।
তিনি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, "আব্বা আম্মার ট্রিটমেন্ট করানোর জন্য কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে বাসায় এসেছিলাম। আব্বা -আম্মা দুজনই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি সহ নানা রোগে আক্রান্ত। আপাতত কিছু কাজ গুছিয়ে ফিরে যাচ্ছি দিনাজপুরে। করোনার এই ক্রিটিকাল সময়ে আমার ডিউটি চলছে মেডিসিন বিভাগে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোগী এবং তাদের এটেন্ডেন্টের ভীড়যুক্ত ওয়ার্ড বলে সব হাসপাতালের এই বিভাগটার একটা বদনাম আছে। আব্বা-আম্মা স্বভাবতই আমাকে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন কিন্তু সামনাসামনি যেভাবে সাহস দিচ্ছেন তাতে অবাক না হয়ে পারছি না।"
তিনি আরো লিখেন, "দুজন অসুস্থ মানুষকে রেখে যাচ্ছি এই শহরে; রেখে যাচ্ছি সমস্ত স্মৃতি আর আমার ভালবাসা। কোনো প্রোটেকশন ছাড়া ডিউটি করার পর এই শহরে ফিরে আসতে পারবো কিনা জানি না। শুধু জানি সৃষ্টিকর্তার হাতে প্রিয় মানুষগুলোকে রেখে যাচ্ছি। তিনিই একমাত্র হেফাজতকারী।"
আমাদের এ দূর্দিনে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে আমাদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাওয়া চিকিৎসক, নার্স,আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দের এ আত্মত্যাগ অবিনশ্বর থাকুক।অবিনশ্বর থাকুক তাঁদের এ কর্ম,তাদের এ ত্যাগ।