এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীরা এখন যেভাবে প্রস্তুতি নিবে

  • 25 July
  • 11:03 AM

আব্দুল্লাহ আল মামুন 25 July, 20

একদিকে করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং অন্যদিকে বন্যার কবলে অধিকাংশ পরিবার।প্রাকৃতিক দূর্যোগে দূর্বিষহ আমাদের জীবন।এখন কবে প্রতিষ্ঠান খুলবে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না,কবে যে তোমরা এইচ.এস.সি দিতে পারবা সে বিষয়টিও বলা যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় অধিকাংশ স্টুডেন্ট পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে অলসভাবে সময় পার করছে।অনেকে নানান অজুহাত দেখিয়ে পড়াশুনা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে,কিন্তু এই পালিয়ে বেড়ানোটাই ভবিষ্যৎ জীবনে কাল হয়ে দাড়াবে।হাতে গোনা ২০% স্টুডেন্ট পাওয়া যাবে যারা সিরিয়াস পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে, আসলে এই ২০% ই সবসময় ভালো করবে।
এই সিচুয়েশনটা সবাই ফেস করতেছে।আর এখন অনেক ফ্রি টাইম পাওয়া যাচ্ছে,এরকম ফ্রি টাইম অতীত বা ভবিষ্যতে কেউ পাবে না।সবারই উচিত ছিলো ঠিক এই টাইমটাতে পড়াশুনায় সিরিয়াস হওয়া।

যারা ক্যান্ডিডেট আছো তারা হয়তো গায়ে মাখতেছো না। যারা আজকে সিরিয়াস নয় তারাই পরীক্ষার সময় হায় হায় কোম্পানির সদস্য হবে। এখন টাইম পাচ্ছো বলে তোমরা এই ভেবো না সারাজীবনই এরকম যাবে।একদিন দেখা যাবে হুট করেই এক্সামের ডেট দিয়ে দিছে,তখনও তোমার ঘুম ভাঙ্গেনি। একজন স্টুডেন্ট কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নামক অন্য এক পৃথিবীতে বিচরণ করে ঠিক এইচ.এস.সি'র পরে।তবে হ্যাঁ, আগের মতো এবারের স্টুডেন্টরা ভর্তি পরিক্ষার আগে খুব বেশি টাইম পাবে না।আর যারা এই সময়কে কাজে লাগাবে তারাই মূলত ভালো করবে,এরাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখবে।

এইচ.এস.সি পরীক্ষাটা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পা রাখার সিঁড়ি, এই সিঁড়ি দিয়েই যেতে হবে কাঙ্খিত গন্তব্যে।বিশ্ববিদ্যালয় নামক জগতে বিচরণ করার জন্য দরকার এইচ.এস.সি'তে ভালো ফলাফল করা।কেননা ঢা.বি, রা.বি'সহ দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এইচ.এস.সি'র জিপিএ বিশাল বড় একটি ফেক্টর।তাই মেইন ফোকাস দিতে হবে অনলি এইচ.এস.সি উইথ রয়াল জিপিএ।একটি নাম্বারের ব্যবধানে একজন ক্যান্ডিডেটের পজিশন এক হাজার পিছিয়ে যেতে পারে।

তোমাদের প্রথমেই পাঠ্যবই খুব ভালো করে পড়তে হবে।মেইন বইয়ের একটি লাইনও বাদ দেয়া যাবে না।গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো মার্ক করে পড়তে হবে,রিভাইজ দেয়ার সুবিধার্থে লাইনগুলো মার্ক করে রাখবে।এবং সেই সাথে লিখবা,হাতের লিখা যাতে কোনমতে স্লো না হয়ে যায়।

এবং রেগুলার টেস্টপেপার সলভ করবে।টেস্টপেপারে দেয়া বিভিন্ন কলেজের কোশ্চেনগুলো বুঝে বুঝে সলভ করতে পারলে তোমাকে পরিক্ষায় কেউ আটকাতে পারবে না।বহুনির্বাচনি প্রশ্ন খুব বেশি প্র্যাকটিস করতে হবে।এরপর নিজে নিজে ঘড়ি ধরে মডেল টেস্ট দেয়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে হবে।তুমি যতো বেশি মডেল টেস্ট দিবা ততো বেশি পরিক্ষার জন্য প্রিপেয়ার হবা।মডেল টেস্ট যে কতটা কাজে আসে তা পরীক্ষার হলে কোশ্চেন আনসার করতে গিয়ে বুঝতে পারবা।

যারা ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার চিন্তা করছো তারা মেইন বই সাথে ভর্তি পরীক্ষা রিলেটেড বই থেকে কম্পেয়ার করে পড়বা।তবে অবশ্য ফ্রি টাইমে এই কাজ করতে হবে।আগে এইচ.এস.সি তারপর অ্যাডমিশন।
সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকো এবং সুস্থ থাকো।বাহিরে একদম যেও না,যতটা সম্ভব ঘরের ভিতরে থেকে পাঠ্য বই পড়ো।দেখা হবে অন্যকোন দিন,অন্য একটি আর্টিকেল নিয়ে।