উন্নয়ন, মানবিকতা ও নেতৃত্বে যিনি অদম্য

  • 28 Sept
  • 07:37 PM

অনন্য প্রতীক রাউত 28 Sept, 21

চারদিকে সবুজ মনোরম পরিবেশ, হেরিং বোনের রাস্তা বা ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা, খেয়ে পড়ে টিকা থাকার চেয়েও নিম্নমুখী অর্থনীতি - বলছিলাম স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের বাংলাদেশের কথা৷ পিতা মুজিবের দূরদর্শীতায় তখনকার "তলাবিহীন ঝুড়ি" বাংলাদেশ যতোটা এগিয়েছে বিভীষণ বা স্বার্থান্বেষীদের ষড়যন্ত্রে ততোটাই মুখ থুবড়ে পরার মতো অবস্থায় পর্যবসিত হয়েছে। যারা কিনা আবার মুজিব পরবর্তী শাসন ব্যবস্থায় বিভীষণ সুলভ কাজের জন্য পেয়েছেন হাতে নাতে পুরস্কার। যেন দেশদ্রোহী হওয়া, জাতির পিতাকে হত্যা করাই বিরাট পদক্ষেপ। "মুজিব শেষ, বাংলাদেশ শেষ আর আমরা অগ্রসরমান নিজ স্বার্থে "- এমন ওভার কনফিডেন্স সাময়িক ভাবে ঘাতকদের প্রশান্তি দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। কেননা ওরা ভেবেছিল মুজিব শেষ!ওরা বুঝতে পারে নি মুজিব মানেই বাংলাদেশ।

মুজিবকে হৃদয় ধারণ করে এদেশের জনগণ খুঁজছিল মুক্তির পথ, দাবানল থেকে বেরোবার রাস্তা। ঠিক তখনই পৌরাণিক ফিনিস্কের মতো মুক্তির আলোয় উদ্ভাসিত হবার বার্তা নিয়ে এদেশে পদধূলি দিলেন বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনা। পরের গল্পটা শুধুই অগ্রগতির, বাঁধাহীন এমনটা ভাবার কারণ নেই। ২৯ বার অপশক্তি, মৌলবাদী ধর্মান্ধ'রা অসাম্প্রদায়িকতার বিমূর্ত প্রতীক বঙ্গবন্ধু তনয়াকে হত্যার অপচেষ্টা করেছে। উল্লেখ্য যে, ২১ শে আগট ২০০৪ সালে প্রিয় নেত্রী ও দল হিসেবে বাংলাদেশ বির্ণিমানের সাংগঠনিক কারিগর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে ধ্বংসের নীলনকশা প্রণয়ন করা হয় তখনকার সময়ের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোশকতায়। সৌভাগ্যক্রমে, সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়ায় প্রিয় নেত্রীর গায়ে এক চুলো আঘাত করতে পারে নি একাত্তরের ঘাতক দালালদের উত্তরসূরীরা। নেত্রীকে অক্ষত রাখতে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিতে একবারো ভাবে নি গাড়িচালক নেত্রীর স্নেহধন্য মাহাবুব। এই ভয়াবহতায় জাতি হারিয়েছে বেগম আইভি রহমানের মতো সংগ্রামী নারী নেত্রীকে এবং নাম না জানা রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের। ঘাতকদের ধারণা ছিল হাওয়া ভবনের মতো হামলার ঘটনাকে হাওয়ায় মিলিয়ে দিবে, প্রমাণ লোপাট করে বাঁচাতে পারবে পোষা পাকপন্থী ক্যাডারদের। এবারেও সম্ভব হয় নি সে অপচেষ্টা।

অবশ্য অপ-রাজনীতির গল্পটা ওখানেই শেষ। পরের পথচলাটা শুধুই ইতিবাচকতার, মানবিকতার এবং দেশকে বির্ণিমানের। বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশের নতুন ঠিকানা জনগণের জননেত্রী শেখ হাসিনা। অপশক্তির অপচেষ্টার কাছে বারবার জয়ী হয়ে যিনি গড়ে তুলেছেন নিজেকে, বাংলাদেশকে। দেখিয়েছেন দৃঢ়তা, সৃষ্টি করেছেন উন্নয়নের মহাত্ত্বতা। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কিংবা রূপসা থেকে পাথুরিয়া পুরোটাই আজ সমৃদ্ধ, উন্নত, ক্ষুধা-দারিদ্র‍্য মুক্ত। পাশাপাশি বসবাস অনুপযোগী হিসেবে স্বীকৃত রাজধানী ঢাকা শহরকে পরিকল্পিত নগরায়নের আওতায় আনতে শেখ হাসিনা বা তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার হাতে নিয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। মেট্রোরেলের যাদের মধ্যে অন্যতম৷ সবকিছু ঠিক থাকলে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই বিজয়ীর বেশে আকাশে উড়বে মেট্রোরেল, স্বস্তি পাবে ঢাকাবাসী৷ পাশাপাশি বিগত এক দশকে ঢাকা শহরে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক ফ্লাইওভার। যানজটের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নিরসনে যা বিশাল এক পদক্ষেপ। এমনকি ব্যবস্থাপনাও অত্যাধুনিক ফলশ্রুতিতে নতুনত্বের ভোগান্তির সুযোগ যেমন নেই তেমনী অপশক্তির অপচেষ্টা চালানোর সহজ রাস্তাটাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশকে অবিশ্বাস্য রকমের সব বৃহৎ প্রকল্প আনার চাইতেও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দুটি। যথাক্রমে - ১.যা এদেশের সাধারণ মানুষ কোনদিন কল্পনা করে নি তা নির্মাণ এবং বিশ্বাসের জায়গা অর্জন৷ ২.অপশক্তির অপচেষ্টাকে রুখে দেওয়া। মোটাদাগের এই দুটি বড় চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলাতেও নেত্রী দেখিয়েছেন কৌশলী রাজনৈতিক ছোঁয়া। জনগণের ভালোবাসায় বরাবরের মতোই সিক্ত হয়েছেন জননেত্রী। তাঁর প্রতি ভালোবাসা থেকেই বারবার তাঁকেই চেয়েছেন এদেশের জনগণ। বিশ্বাসের প্রতিদান জননেত্রী দিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন নিরলসভাবে নিঃস্বার্থ ভাবে। পিতা মুজিবের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার এ স্বপ্ন চলুক অবিরাম। পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফূলী টার্নেল, মেট্রোরেল, একাধিক এলিভেটেস এক্সকপ্রেস ওয়ে সহ নানামুখী বাস্তবায়িত ও অপেক্ষমান প্রকল্পগুলো দেখুক আলোর মুখে এটাই কামনা।

বর্তমানে শুধু জাতীয় নেতাই নন,তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন অনন্য ভূমিকায়। রোহিঙ্গা সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের জন্য হয়েছেন ভূয়সী প্রশংসিত , পেয়েছেন "Mother Of Humanity" উপাধি । পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা ।

নিজের সক্ষমতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা । তাঁর সুদৃঢ় বা সুনিপুণ দক্ষতায় বাংলদেশ আজ অবস্থান করছে উন্নয়নের মহাসড়কে, পৌঁছে গেছে অসীম দিগন্তহীন মহাকাশে।

শেখ হাসিনা মানে শুধুই শেখ হাসিনা ! তাঁর কোন বিকল্প নাই ।

প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করি। তাঁর হাতেই নিরাপদ বাংলাদেশ। জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা ও অবিরাম শুভ কামনা দেশরত্ন। আপনি বাংলাদেশকে নতুন মোড়কে নতুনত্বে পৌঁছে দেয়ার কারিগর, আপনি মমতাময়ী, আপনি দূরদর্শী, দুর্বিত্তের কাছে ভয়ংকর, দেশদ্রোহী অপশক্তির কাছে আতঙ্ক। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।


-
অনন্য প্রতীক রাউত
কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।