ঈদে অন্যরকম বাড়ি ফেরা

  • 25 July
  • 05:15 PM

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ 25 July, 21

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়া প্রতিটি শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে অনেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস বলতে মূলত বিআরটিসির লাল বাসকেই বুজানো হয়। যদিও প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব রংয়ের বাস রয়েছে। তবুও লাল বাসকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। আর লাল বাসই আবার কারো কারো জীবনের অংশ হয়ে উঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ার মধ্যে একটা অন্যরকম অনুভূতি তো থাকেই, আর সেই বাসে করেই যদি বাড়ি ফেরা যায় সেই অনুভূতিটা যেনো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় বাসে বাড়ি ফেরা এ যেনো অন্যরকম এক অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীদের এই অনূভুতি, আবেগ তাদের আপন নীড়ে পৌঁছে দিয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের বাসে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মাত্র তিন দিনে ৫৪ জেলায় প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছাতে পেরে আনন্দে আত্নহারা শিক্ষার্থীরা।

করোনা মহামারির লকডাউনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন ঢাকায় আটকে, ঠিক তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসগুলোর পাশাপাশি বিআরটিসির দ্বিতল ভাড়া বাস ভাড়া করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দেয় জবি প্রশাসন। যদিও বাড়ি যেতে বাস চেয়ে স্মারকলিপি জমা দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বাস সার্ভিসের দাবি জানায় ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টও। এ প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য চায়। এরপর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১৭-১৯ জুলাই ৪৮টি বাসের মাধ্যমে দেশের সর্বমোট ৫৪ জেলায় প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে বিশেষ বাস সার্ভিসের আওতায় বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রথম দিন রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট, দ্বিতীয় দিন বরিশাল ও খুলনায় ও তৃতীয় দিন ময়মনসিংহ ও চট্রগ্রাম বিভাগে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা বাড়ির উদ্দেশ্য রওনার পূর্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই বাছাই সহ এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ সহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রক্টরিয়াল বডি, পরিবহন প্রশাসক, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও অন্যান্য শিক্ষকদের সম্মুখ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার অনুভূতি ছিলো সত্যি ভালো লাগার মতো। এ যেনো ঈদের আগে তাদের জন্য আরেক ঈদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে, শারীরিক তাপমাত্রা মেপে বাসে উঠতে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি বাসের সামনে লাগানো হয়েছে বিশেষ স্টিকার। বাস যাত্রার শুরুতেই গানের আড্ডা। আর এ আড্ডা যেনো শেষ হওয়ার নয়। এ যেনো হাজারো স্বপ্নের একসাথে বাড়ি ফেরা। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নিজ এলাকায় যাওয়ার অনূভুতি ব্যক্ত করার মতো নয়। স্বপ্ন পৌঁছে গেছে বাড়িতে, জগন্নাথের গাড়িতে। বাড়ি ফেরার গল্প গুলো সত্যিই অন্যরকম। চলতে পথে জ্যামের সাথে বৃষ্টি। এ যেন ঈদ যাত্রার পূর্ণতা। জবিয়ানদের বাড়ি ফেরা সোনালী হরিণ ও লাল বাসের সঙ্গী হয়ে থাকলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে গন্তব্যে পৌঁছানোর কিছু মুহূর্ত গুলো অনেকটা সময় ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ ছিলো হাজারটা স্বপ্নের বাড়ি ফেরা। স্বপ্নের টানে প্রতিবার বান্দর ঝুলানো অবস্থা হতো। আর এবার তা সবার কাছে ট্যুর ট্যুর লেগেছে। স্বপ্নের বাড়ি যাওয়া এ এক অসাধারণ মুহূর্ত। তীব্র জ্যামে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি নিয়ে আসার প্রচেষ্টায় সঙ্গী ছিলো গান, সিটে বসে কিংবা বাসের গেইটে; গিটার-তবলায় কিংবা খালি গলায় গান চলছেই। স্বপ্ন গিয়েছে বাড়িতে, জবির প্রতিটি গাড়িতে। এবারের ঈদে বাড়ী ফেরা ছিলো সত্যি অন্যরকম। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খুব দ্রুতই বাড়ি ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। পদক্ষেপটি যুগান্তকারী এবং সময়োপযোগী। যা স্মৃতির পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

-
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়