ইবির সর্ববৃহৎ বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ ০.৫১ শতাংশ

  • 13 June
  • 11:27 AM

আজাহার ইসলাম, ইবি প্রতিনিধি 13 June, 20

২০২০-২০২১ অর্থ বছরের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে (ইবি) ১৫৭ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। যা ইবির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮০ লক্ষ টাকা। যা মোট বাজেটের ০.৫১ শতাংশ। এ বাজেট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণার্থে প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বাজেট বিশ্লেষণে জানা যায়, মোট বাজেটের মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা-পেনশন বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ১১৪ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। যা মোট বাজেটের ৭২.৮৮ শতাংশ। পণ্য ও সেবা সহায়তায় দেয়া হয়েছে ৩৬ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা, যার মধ্যে পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাত রয়েছে।

এছাড়া মূলধন অনুদান হিসেবে ৫ কোটি ৪২ লক্ষ এবং অন্যান্য অনুদান বাবদ ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। সংশোধিত বাজেটে বিশেষ ভাতা হিসেবে মুজিব শতবর্ষ উদযাপনে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে চাইলে গবেষণা বাড়াতে হবে। আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা খাতে এ ক্ষুদ্র পরিমাণ বাজেট কীভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে তা আমার বোধগম্য নয়। প্রশাসনের উচিত এই খাতে শিক্ষকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা করা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা বলেন, ‘গবেষণা খাতের যে বাজেট তা অপ্রতুল নয়। প্রয়োজন হলে, বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি, মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন খাতে কিছু অর্থ বরাদ্দ পায়। সেখান থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে ২৯৯ কোটি ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার বাজেট চাহিদা পাঠানো হয়। এর মধ্যে থেকে ১৫৭ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা অনুমোদিত হয়। বাজেটের মধ্যে কমিশন থেকে ১৩৯ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ১৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটেও নিজস্ব আয় ছিল ১৮ কোটি টাকা।

১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছর থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত ২৪টি অর্থবছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঘাটতি ৭৮ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কোন বাজেট ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক সিদ্দীক উল্লাহ।