মহাসচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগে তুলে ইবির জিয়া পরিষদের ১৭ নেতার পদত্যাগ

  • 11 Oct
  • 09:30 PM

আজাহার ইসলাম, ইবি প্রতিনিধি 11 Oct, 20

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অগণতান্ত্রিক চর্চা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ তুলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদের ১৭ জন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। একইসাথে পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেনের বিরুদ্ধে ইবির ডায়েরি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগামীকাল সোমবার তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

পদত্যাগ করা শিক্ষকরা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন, প্রফেসর ড. মুন্সী মর্তুজা আলী, প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. এ. এস. এম. শরফরাজ নেওয়াজ, অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড.কাজী মোস্তফা আরীফ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এম. শরিফুল বারী, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মিনহাজ উল হক, আল- হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড.আবুল হুসাইন নুরুল ইসলাম এবং বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মনজুর রহমান।

এছাড়াও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আ. ও. ম. আছাদুজ্জামান, আল-ফিকহ এন্ড লিগাল স্টাডিজ বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মোহাম্মদ আনোয়ারুল ওহাব, লোক প্রশাসন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. এস. এম. শফিকুল আলম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান এবং ইংরেজী বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দিলসাদ সুরমা।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে ২২ নভেম্বর শহীদ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরীতে প্রতিষ্ঠাতার নাম সংযোজন করে ডায়েরী প্রকাশিত হতো। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রশাসন ডায়েরী থেকে নামটি বাদ দেওয়ায় চরম আন্দোলনের মুখে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠাতার নাম সংযোজন করে ডায়েরী প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সে অনুযায়ী নিয়মিত ডায়েরী প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি থাকাকালীন শিক্ষক সমিতি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরী প্রকাশিত হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দেয়া হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে সূত্র ধরে পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠাতার নাম বাদ দিয়ে ডায়েরী প্রকাশ করছেন।

জিয়া পরিষদ এক্ষেত্রে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়নি। ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী পালনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে জিয়া পরিষদ কোন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে কার্যকর কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে বিগত দিনগুলোতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকরা নেতৃত্ব দিলেও বর্তমান জিয়া পরিষদের কর্মকাণ্ড একটি কুচক্রি মহলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে সকল সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন না দিয়ে কতিপয় ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ায় নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে পরাজিত হয়ে আসছে।

এমন পরিস্থিতি সাধারণ সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে বলে উল্লেখ বিজ্ঞপ্তিতে রয়েছে। তাছাড়া সাধারণ সদস্যদের উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে এবং তাদের বিভিন্নভাবে প্রশাসন কর্তৃক হয়রানির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বরং দূর্নীতিগ্রস্থ প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজসে একটি প্রভোস্ট এবং দুইটি হাউজ টিউটর পদ গ্রহণ করে প্রশাসনকে প্রকারান্তরে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন কর্তৃক ইবি জিয়া পরিষদে বিভাজন সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ক্রমান্বয়ে দূর্বল করে ফেলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জিয়া পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্নীতিগ্রস্থ প্রশাসনেরই একটি অংশে পরিণত হয়েছে দাবি করে বলা হয়, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন কর্তৃক ইবি জিয়া পরিষদে বিভাজন সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ক্রমান্বয়ে দূর্বল করে ফেলা হয়েছে।

জিয়া পরিষদ ইবি শাখার কার্যকরি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে কতিপয় ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী সংগঠনটি পরিচালিত হয়ে আসছে এবং হচ্ছে, যা সাধারণ সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ, অসোন্তষ এবং অনাস্থার জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘদিন যাবত জিয়া পরিষদ ইবি, কুষ্টিয়া শাখা চরম অনিয়ম, অগণতান্ত্রিক চর্চা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা জিয়া পরিষদের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পুরোপুরি বিপরীত। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এ সংগঠনটির বাস্তবিক পক্ষে দৃশ্যত কার্যকর কোন ভূমিকা নেই।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের নিয়ে ২৬ সদস্য বিশিষ্ট ‘সাদা দল’ আত্মপ্রকাশ করে। এতে লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমানেকে আহবায়ক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. এ. এস. এম. শরফরাজ নেওয়াজকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।