বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একমাত্র অংশীদার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ

  • 23 June
  • 06:06 PM

23 June, 21

কাকতালীয়ভাবে বাংলার মাটি ও মানুষের যে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিলো ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মধ্যদিয়ে সেই স্বাধিনতার সূর্য আবার নতুন রুপে উদিত হয়েছিলো ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত বাংলার সরলমনা মানুষগুলো তাদের অধিকার সম্পর্কে বুঝার আগেই শুরু হয় পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর অনাধিকার চর্চা। আঘাত করা হয় সবথেকে দূর্বল অনুভূতির জায়গা প্রিয় মাতৃভাষায়। এক অশুভ পেশিশক্তির সংস্কৃতি চর্চায় বিভোর পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী।কিন্তু তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলো বাংলার মাটি, মানুষ আর ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিতেও পিছুপা হবেনা। বাংলা ভাষার দাবীতে আআওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃত্বে গড়ে তুলা হয় দুর্বার আন্দোলন। ভাষা প্রথম গ্রেফতার হন দাবীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ ৬৯ জন নেতা কর্মী। আন্দোলন সংগ্রাম আর রক্তের বিপরীতে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। বিশ্ব মানচিত্রে ইতিহাস লিখার সূচনা সেখান থেকেই। আর নিজেদের অধিকার আদায়ে সরব হয় বাঙালি জাতি।

তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে ৫৪ 'র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে ২২৩ টি আসন পেয়ে জয়ী হয়, ৬২ 'র শরীফ শিক্ষা কমিশন বিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন, ৬৬ 'র ছয় দফা, ৬৯'র গণ অভ্যূত্থান, ৭০'র সাধারণ নির্বাচন প্রতিটি আন্দোলনে জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ১৯৭১ সাল শুরু হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুন উপাখ্যান। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও ক্ষমতায় বসতে দেওয়া হয়নি আওয়ামীলীগ সরকারকে। শুরু হয় অধিকার আন্দোলনের নতুন সংগ্রাম বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ১৮ মিনিটের ভাষণ সমগ্র জাতিকে একাকার করে দেয়। তিনি ডাক দেন অসহযোগ আন্দোলনের।২৫ মার্চ রাতে ওয়ারলেসের মাধ্যমে জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঐ দিন রাতেই গ্রেফতার হন জাতির পিতা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ তারপরের ইতিহাস আমাদের সবার জানা। স্বাধীন হয় বাংলাদেশ মুক্ত হন ববঙ্গবন্ধু তিনি যখন ব্রিটেন হয়ে বাংলাদেশে আসেন ততকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ সকল প্রটোকল ভেঙে গাড়ির দরাজা খুলে দেন সেটিই ছিলো ব্রিটেনের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া প্রথম কোন ঘটনা যা ছিলো বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের।যুদ্ধবিধ্বস্ত বংশ স্তুপে দাড়িয়ে জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছেন একটি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের। অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশ পুনঃগঠনে তিনি সারা বিশ্বের বিস্ময়ে পরিণত হন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করা হয় ৭৫'র ১৫ আগস্ট।

শতসহস্র প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন মমতাময়ী নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। অতঃপর বাঙালি আবার নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সোনার বাংলা বিনির্মাণের। ৯০ ' গণঅভ্যুত্থানে অগ্রভাগ থেকে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। নূর হোসেন, ডা.মিলনদের বুকের রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্রের পুনঃ উদ্ধার হয়। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসেন বাংলার মাটি ও মানুষের দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।বাবার রেখে যাওয়া ৭ কোটি থেকে ১৬ কোটি বাঙালির দায়িত্বভার তুলে নেন শেখ হাসিনা। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর মধ্যদিয়ে বাংলাকে কলঙ্ক মুক্ত করার সাহসী পদক্ষেপ নেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালে পুনঃ রায় ২৬২ টি আসন পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টির মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। দেশরত্নের দিনরাত নিরলস পরিশ্রমের ফলে নিজস্ব অর্থায়নে আজ পদ্মা সেতু বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙালি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে আরেকবার। পরিকল্পিত ২০২১ সালের উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হয়েছে বাংলাদেশ।৪১ সালের সালের মধ্যে উন্নত দেশ এবং ডেলটা প্ল্যান ঘোষণার মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা আজ পরিণত হয়েছেন বিশ্ব নেতৃত্বে। মেট্রোরেলের মতো প্রকল্প জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমাদের গর্ব করতে শিখায়। করোনা মহামারিতে যখন বিশ্ব অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে তখন আওয়ামীলীগ সরকার ৬,০৩৬৮১ কোটির প্রণয়নের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে করেছে বলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে। আজ মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডালার যা একসময় কল্পনাই করা যেতো না।

সর্বপরি একবিংশ শতাব্দীর নতুন প্রজন্মের একজন হয়ে বলতে চাই বাংলা ও বাঙালির যা গৌরব, ঐতিহ্য, অর্জন তার একমাত্র অংশীদার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মাওলানা হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শামসুল হক সহ জাতীয় চার নেতাকে যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমাদের এই আধুনিক বাংলাদেশ।


লেখক-
জাহিদুল ইসলাম শিহাব
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,দিনাজপুর।