ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গবিতে সেমিস্টার ফি ধার্য, শিক্ষার্থীদেরকে জীবন নষ্টের হুমকি

  • 25 June
  • 06:25 AM

আব্দুল্লাহ আল মামুন, গবি প্রতিনিধি 25 June, 20

চলছে মহামারী বিপন্ন মানব সভ্যতা, অনাহারে মধ্যবিত্ত। দিন যত গড়াচ্ছে আক্রান্তের হার পূর্বের রেকর্ড ভেঙ্গে তরতর করে বেড়েই চলেছে। ঘরবন্দী মানুষ, টাকা নেই হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই নিজে ইনকাম করে পরিবারের হাল ধরে।কিন্তু কয়েকমাস যাবৎ সবকিছু বন্ধ থাকায় ঘরবন্দী হয়ে গবি শিক্ষার্থীরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে,এবং কি অনেকের পরিবার খুবই অসহায়।
ঠিক এরকমই একটা পরিস্থিতিতে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়(গবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে সেমিস্টার ফি প্রদানের কড়া হুশিয়ারি এবং বকেয়া ফি প্রদান না করলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার পাশাপাশি জীবন নষ্টের হুমকি।এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে গবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

চলমান পরিস্থিতিতে আর্থিক সঙ্কটে পড়ায় উৎকন্ঠিত শিক্ষার্থীদের ছাত্র সংসদের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য কিছু ছাত্র প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেমিষ্টার ফি ছাড়া বা বকেয়া রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত চটকদার কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাস কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ জাতীয় প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে যাবতীয় বকেয়া পরিশোধ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অন্যথায় নিজের জীবন নিজেই নষ্ট করবেন এবং এতে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন গর্হিত সিদ্ধান্তে ফেসবুক পাড়ায় চলছে সমালোচনার ঝড়।এ নোটিশের কড়া সমালোচনা করে শিক্ষার্থীরা বলেন, "ইউজিসি যেখানে বলছে সেমিষ্টার ফি'র ব্যাপারে চাপ দেয়া যাবেনা, সেখানে আমাদের প্রশাসন বলছে টাকা শোধ না করলে পরীক্ষায় বসতে দেবে না।এবং জীবন নষ্ট হলে প্রশাসন দায়ী নয়। প্রথমে মনে হয়েছিল তাঁরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত।কিন্তু এখন দেখছি সব টাকা আদায়ের ধান্দা। তাঁরা শুধু টাকা চিনে।টাকার জন্য যে শিক্ষা ব্যবসায় এরা নেমেছে তাদের সে চরিতার্থ হাসিল করার জন্য এবার হায়েনার মতো ঝাপিয়ে পড়ছে অসহায় শিক্ষার্থীদের উপর।"

আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ বাপ্পি বলেন, 'এমন দুর্যোগকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে না দাড়িয়ে প্রশাসন সেমিষ্টার ফির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। যারা বিগত সময়ে বকেয়া পরিশোধ করতে পারে নাই, তাদের জরিমানা ধরা হয়েছে। এখানে অধ্যয়নরত বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাদের কথা চিন্তা না করে, ইউজিসি গৃহীত পদক্ষেপ না মেনে জোরপূর্বক সেমিষ্টার ফি ও জরিমানা আদায় করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।'

সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, বকেয়া পরিশোধ করতে আসা শিক্ষার্থীদের থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে। সদ্ব্য জরিমানা দেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, এটা একদম অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। মানুষ না খেয়ে মরছে আর এরা আছে জরিমানা নিয়ে। এই অবস্থায় সেমিষ্টার ফি দেয়াই অমানবিক, সেখানে জরিমানা আদায় রীতিমত জুলুম।

সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. নজরুল ইসলাম রলিফ ফেসবুক পোস্টে জানান, 'ভাষা প্রয়োগেই আপনাদের সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা ধারনা পেয়ে যাবে। যেখানে ইউ জি সি থেকে নির্দেশনা আছে সেমিস্টার ফি এর জন্য কোন শিক্ষার্থীদের চাপ দেয়া যাবে না সেখানে কোন ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে এই ধরনের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা দেখাচ্ছেন?

তিনি আরও বলেন, ''বিপদে স্বাভাবিকভাবেই আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবো, এটাই নিয়ম। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধি বানায় যাতে তাদের বিপদে প্রশাসনের কাছে কেউ গিয়ে কথা বলতে পারি। এই প্রক্রিয়া তো আপনারাই (প্রশাসন) তৈরী করেছেন। তাহলে কেন ছাত্র প্রতিনিধিদের টুটি চেপে ধরছেন? যদি কথাই বলতে না দেন তবে এই প্রতিনিধি নামক পুতুল বানানোর ধান্দা বাদ দেন।''

এদিকে নোটিশের ভাষা প্রয়োগ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। ''নিজের জীবন নিজেই নষ্ট করবেন এবং এতে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা'' নোটিশের এই অংশের সমালোচনা করে সাবেক কিছু শিক্ষার্থীরা বলেন, ''একটি বিশ্ববিদ্যালয় কি এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে? পূর্বেও তাঁরা শিক্ষার্থীদের কথা ভাবার চেয়ে নিজেদের স্বার্থের কথাই বেশি ভেবেছে। অবিলম্বে এমন শব্দের প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"