আম ব্যবসায় চমক দেখালেন ঢাবি শিক্ষার্থী

  • 04 July
  • 04:35 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি 04 July, 20

করোনার লকডাউনে এবারে আম মানুষের কাছে পৌছানো ছিল অনিশ্চিত। আম চাষীরাও ছিল দুশ্চিন্তায়। এবার আমের ন্যায্য মূল্য মিলবে তো? তখনই এগিয়ে এলো ৩ তরুণ উদ্যোক্তা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী আখতারুল করিম রুবেল শুরু করলেন রংপুরের হাঁড়ি ভাঙা আম সরবরাহের উদ্যোগ। তার সাথে উদ্যোগে সামিল হলেন সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান সৌরভ। আরো যুক্ত হলেন নাহিদ।সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌছে দেয়ার উদ্যোগ নিলেন রসালো, মিষ্টি ও সুস্বাদু হাঁড়ি ভাঙা আম। মুহূর্তেই পরে গেল সাড়া, সাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক মণ আম সরবরাহ করে সবাইকে ছাঁপিয়ে গেলেন এই তিন উদ্যোক্তা।

এ প্রসঙ্গে আখতারুল করিম রুবেল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আশ্রয় করে গড়ে তোলা আমাদের আম ব্যাবসার তথ্য নিতে আসে অনেকেই। আমাদের খোজ খবর নিয়ে তারা বলে, আমরা নাকি তরুণ এবং সফল উদ্যোগতা। আমি তাদেরকে বলেছি, বেচাকেনা টাকা পয়সা দিয়ে সাফল্যের ওজন হয়না। যেদিন দেখেছি আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগে ১০-১২ জনের পরিবারের মুখে হাসি, সেদিনেই নিজেদের সফল ঘোষণা করেছি। এটাইতো অনেক বড় পাওয়া আমাদের। টাকার জন্যতো এগুলা করছিনা। এই লকডাউনে দেখেছি অনেক বেকারের চাপা কান্না। জাতির দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ সামর্থ্য হয়নি, কিন্তু অন্তত ১০জনের মুখের হাসির কারণ হতে পারবো এই ভাবনা থেকেই এগিয়ে চলা আমাদের। আমের ব্যবসা তো কিছুইনা, দোয়া করবেন যেন বৃহৎ পরিসরে বেশি সংখ্যক মানুষের হাসির কারণ হতে পারি।


এদিকে সৌরভ বলেন, আমাদের উদ্যোগ দেখে অনেকেই আমের ব্যবসায় নামলেও সুবিধা করে উঠতে পারে নি, কারণ আমরা সরবরাহ করেছি বাগানের ফ্রেশ অর্জিনাল হাঁড়িভাঙা। স্বাদে ও মানে সবারটা ছাঁপিয়ে যেতে পেরেছি বলেই আমরা সফল।

সর্বকনিষ্ঠ উদ্যোক্তা নাহিদ বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি এই লকডাউনে বসে না থেকে কিছু করতে চেয়েছি। কোন কাজই ছোট নয়। আম ব্যবসায় সম্পৃক্ত থেকে যে অভিজ্ঞতা হলো তা আজীবন কাজে লাগবে।

তিন শিক্ষার্থীর এই আমের ব্যবসা ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসার মাধ্যমে দেশ ব্যাপী প্রশংসাও পেয়েছে। সারাদেশে ইতিমধ্যে তারা সরবরাহ করেছে রংপুরের ২৫০০ মণ গাছ পাঁকা হাঁড়িভাঙা আম।

কুরিয়ারে সারাদেশে পৌছে যাচ্ছে বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় আম রংপুরের বাগানের হাঁড়িভাঙা।