আত্ম শব্দের অনুধাবন-ই পারে আত্মহত্যা নামক কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে

  • 23 Aug
  • 10:53 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 23 Aug, 21

আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়!
আত্মহত্যা করতে অনেক সাহস লাগে!
না জানি কতোটা চাপা কষ্ট নিয়ে ছেলেটা মারা গেলো!

খুব আই ক্যাচিং, রিয়েক্ট পাওয়ার মতো সমব্যাথী মৃত্যু পরবর্তী সমবেদনা বা দুঃখপ্রকাশ।

আমি বলবো এর একটা সমবেদনা বা একটা কথার ও কানাকড়ি দাম নেই। আত্মহত্যা সমাধান নয় সেটা সে জেনেও সমাধান না পেয়েই সমাধান এর সংজ্ঞা নিজের জন্য বদলে নিয়েছে।

আত্মহত্যা কোনো মহৎ কাজ নয় যার জন্য তার সাহস নিয়ে তুলনার গল্প রটাতে হবে।আত্মহত্যা মানুষ চাপা কষ্ট থেকেই করে,এমনি এমনি করে না। যে গিয়েছে সে ফিরবে না। তার জন্য শুধু দোয়াই করা যেতে পারে। কিন্তু যে আছে বা যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে হাসছে দিব্যি, তাকে একবার ছুয়ে দেখুন না!! আপনার ওই পরবর্তীকালীন পোস্ট গুলো থেকে বেশি ফায়দা হবে।"আত্ম" শব্দটি যে কতোটা ভারী,কতোগুলো মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং মায়ার জগৎ ঘিরে আমার আত্ম বা "আমি নিজে" সেটি আমাকে বুঝতে হবে। যার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর সাপোর্ট। আজ আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে কিন্তু তার এই পরিনতির আগে অবশ্যই এই সমাজ তাকে ততটা গুরুত্ব দেয় নি যতটা আসলে তার বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন থেকে পাওয়া উচিত ছিলো।যার পরিনতি এই অকাল বেলায় তার হারিয়ে যাওয়া। এখন সবাই সমব্যাথী হচ্ছে। এতে নিশ্চিতভাবে দোষের কিছু নেই কিন্তু আমাদের করার যে জায়গাটুকু আছে সেটিই আমি মূলত বলতে চাই এবং আমার মতো করে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।আপনি চাইলেই পারেন কারো জীবন রাঙিয়ে দিয়ে হয়ে যেতে এক জন্মজয়ী যোদ্ধা..হতে পারে তা বন্ধু হয়ে,প্রেমিক বা প্রেমিকা হয়ে, ছোট-বড় ভাই বা বোন হয়ে। নামহীন সম্পর্কেও যদি জয়ী হওয়ার গল্প রচিত হয়,তাতে মন্দ কিছু নেই। সময় খুব অদ্ভুত আচরণ করে মাঝে মাঝে, সে ই মুহুর্তে আপনার দরকার টা আপনিই খুজে বের করুন। কেউ সেধে এসে বলবে না যে, সে ভালোবেসে কষ্ট পেয়েছে, তার পরিবার তাকে দুঃখ দিয়েছে।
এটা আপনার দায়িত্ব। প্রশ্ন আসতে পারে যে আমি দায়িত্ব কেনো নিবো?
উত্তর এটাই,একটা পোস্ট কম করে একটা জীবন বাচানোর জন্য। আগামী জুড়ে অকালে হারিয়ে যাওয়া তাজা প্রানগুলো নিয়ে শেষ হাসি হাসার জন্য।
কী করবেন,কীভাবে করবেন সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু করুন। বাকি সবার মতো দায়িত্ব এড়িয়ে পিঠ বাচাতে বাচাতে না জানি সেই কালো অধ্যায় আপনার মস্তিষ্কে হানা দেয়!

জীবনের গুরুত্ব এতোটাই দিন যাতে সমাজের ছোট ছোট ব্যার্থতা বা উপহাস আপনার জীবনকে কলুষিত করে ভুল ভাবনায় ধাবিত না হতে দিতে পারে। আর আমরা সবাই মিলে চাইলে অবশ্যই সম্ভব। চাওয়ায় দৃঢ়তা এবং কাজে ধারাবাহিকতার সাথে ইচ্ছাগুলোর সৃজনশীল বহিঃপ্রকাশ করলেই সম্ভব।

তাই সময় থাকতেই করুন। এক জীবন এতোটাই উপভোগ করুন যতটা উপভোগে হাসতে হাসতে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে কালিমা পড়তে পারেন এবং আর যেন সাক্ষী হতে না হয় এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার।


শিক্ষার্থী
আইন বিভাগ
১৪ ব্যাচ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়