আতঙ্কিত জনপদ - ধূসর ভবিষ্যৎ!

  • 22 Mar
  • 08:54 PM

ডা. এজাজ বারী চৌধুরী, ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় প্রধান 22 Mar, 20

১৮ মার্চ পর্যন্ত আমরা ছিলাম জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনের উৎসাহ এবং আনন্দে বিভোর৷ আর তার পরবর্তী দুই দিনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলা হলো যে, সুস্হ মানুষগুলোও একে অপরকে সন্দেহ করছে আর মনের অজান্তেই, সবাই সবাইকে করোনার বাহক বলে ভয় পাচ্ছে৷

ধারণা করা হচ্ছে, সাধারণ সর্দি কাশি জ্বরের রোগীদের জন্য.... সামনে বিশাল ভোগান্তি অপেক্ষা করছে এবং তাদের কারো কারো বিনা চিকিৎসায় মারা যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে৷

পরিস্থিতি এতোটাই নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে যে, আতঙ্কে অস্থির মানুষ.... সন্দেহভাজন করোনা রোগী দেখলে, তাদের পরিবারসহ অমানবিক নির্যাতন চালাতে পারে৷

প্রকৃতপক্ষে, আতঙ্ক আরো বাড়লে.... একটা Viscious Circle তৈরী হবে৷

Stress এবং আতঙ্কের কারণে..... মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়৷ ফলে তারা সহজেই করোনা কিংবা অন্য যেকোন ভাইরাল বা সিজনাল infection এর শিকার হয়৷ এছাড়া stress বা আতঙ্কে নিঃসরণ হওয়া হরমোনগুলোর কারণে তাদের recovery ও hampered হয়৷ সুতরাং শুধু আতঙ্কের consequence হিসেবেই .... তাদের মধ্যে মৃত্যুহার বেড়ে যেতে পারে৷ এবং প্রতিটি মৃত্যু আতঙ্ককে বাড়াতে থাকবে৷

শুধু তাই না৷ জ্বর-সর্দি-কাশির রোগীরা নিজেরাও চরম টেনশনে পড়ে যাবেন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কিংবা সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয়ে ডাক্তারের কাছে খুব খারাপ অবস্হায় না পৌঁছানো পর্যন্ত যেতে চাইবেন না৷

আবার জ্বর-কাশি সহ খারাপ condition এর রোগীরা, এখনই প্রায় সব যায়গাতেই অচ্ছ্যুৎ এর মতো আচরণ পাচ্ছেন এবং তাদেরকে ভর্তি না করে রেফার করা হচ্ছে৷ পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে, এরকম অনেক রোগীকেই বিনা চিকিৎসায় এবং বিনা ডায়াগনোসিস এ মৃত্যুর দেশে পাড়ি জমাতে হবে৷ তখন সেই কেসটিকে suspected corona infection এ গননা করে, তার পরিবারের উপর অপবাদ, দোষারোপ এমনকি শাস্তিও চাপিয়ে দেয়া হতে পারে৷

প্রত্যেক বছর এসময় অন্তত তিন চার রকমের জ্বরের প্রকোপ থাকে৷

১) সিজনাল ফ্লু ....যেটাকে আমরা সাধারণ সিজন চেন্জের জ্বর বলেই ভাবি এবং বাংলাদেশের এমন কোন পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবেনা, যাদের কেউ না কেউ এতে আক্রান্ত না হন৷ অঙ্কের হিসেবে এই জ্বরের প্রাদুর্ভাব কোটি ছাড়িয়ে যাবে৷ এবং সবচেয়ে দূর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, এই জ্বরের সাথে করোনা ভাইরাসের জ্বরের অনেকটাই similarity.

Flu আর করোনার লক্ষনগুলোর সাদৃশ্য এতোই বেশি যে, করোনা মনে করে যদি Flu এর রোগীদেরকেও আমরা চিকিৎসা না করে ফিরিয়ে দিই তাহলে মৃত্যুর মিছিল অনেক লম্বা হয়ে যেতে পারে৷

২) ডেঙ্গু .... এটাও ভাইরাস দিয়ে হয় এবং মহামারির রুপ নিতে পারে৷

৩) টাইফয়েড ...

৪) RTI .... ফুসফুস বা শ্বাসনালীর ইনফেকশন জনিত জ্বর৷ এটার সাথেও করোনা ভাইরাস জ্বরের কিছুটা মিল আছে৷

এছাড়া এজমা এবং COPD র রোগীরা এবং smoker রা প্রায় সারাবছরই কাশিতে ভোগেন এবং কেউ কেউ শ্বাসকষ্টেও ভোগেন৷

সুতরাং জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট দেখলেই রোগীকে করোনা ভেবে চিকিৎসা করতে ভয় পাওয়া কিংবা করোনা সেন্টারগুলোতে রেফার করলে.... করোনায় মৃত্যুর চেয়ে বহুগুন বেশী মৃত্যু এইসব রোগগুলোকে take care এর অভাব থেকে হবার সম্ভাবনা রয়েছে৷

সুতরাং জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হলেও.... আতঙ্কিত হবেন না৷ আতঙ্ক আপনাকে ক্ষতি ছাড়া কোনোই লাভ দিবেনা৷ এমনকি স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও আপনার কমে যাবে৷