আগস্ট’৭৫

  • 14 Aug
  • 10:11 PM

মো: আব্দুল আলিম 14 Aug, 21

“যদি রাত পোহালে শোনা যেতো,
বঙ্গবন্ধু মরে নাই”

বাংলার বন্ধু যদি সেদিন সপরিবারে বাংলাকে ছেড়ে ওপারে পাড়ি না জমাতেন ,তাহলে আজকের বাংলার রুপ কি অনেকটাই পালটে যেতো? এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর আছে। কিন্তু সে উত্তর মৃত নক্ষত্রের মতোই অন্ধকার, কারণ তিনি সত্যিই আমাদের মাঝে নেই।

শুক্রবারের ম্লান আলো ফুটেছে কি ফোটেনি, মুয়াজ্জিন ফজরের আজান দিয়েছে কি দেয়নি- ৭৫ এর ১৫ আগস্টের ঠিক এরকম একটি সময়েই বিকৃত প্রেতাত্মাদের আগমন ঘটে। ঘাতকের বেশে তারা এসেছিল রক্ত ঝরাতে! তারা শুধু বঙ্গবন্ধুর রক্ত ঝরিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তাদের বিকৃত মস্তিষ্কের চিন্তাধারা বুলেটের বেশে শিশু-নারী সকলেরই বুক ভেদ করেছে। মা পারেনি সন্তানের জন্য শোকে পাথর হতে, সন্তান পারেনি মায়ের জন্য বুকে সমুদ্রের মতো গভীর একটি ক্ষত তৈরি করতে। অপরাধহীন চোখগুলো ভোরের সূর্যের ঘুম ভাংতে না ভাংতেই চিরতরে ঘুমিয়ে পড়েছে। কি নিষ্ঠুর এ হত্যাকান্ড? কি জঘন্য মানসিকতা পাষন্ড হত্যাকারীদের! জাতি নিস্তব্ধ হয়ে যায়, পাখিরা ঘরে ফিরতে ভূলে যায়। সে শোকাতুর দিবস আজও বাঙালি ভূলতে পারেনি।

১৫ আগস্ট যেন সুবহে সাদিকে দেখা একটি দুঃসপ্ন যা ঘুম ভাংলেই শেষ হয়ে যাবে। এ ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য বাঙ্গালিরা ছটফট করেছে বহু বছর। কিন্তু মীর জাফরের প্রেতাত্মারা বাস্তবতাকে উলটে দিয়েছে মুহূর্তেই। ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নং রোডের বাড়িটিতে কাপুরুষরা এমন সময় হানা দিয়েছিল, যখন নিস্তব্ধ শহর নিদ্রার রাজ্যে। হয়তবা ঘুমিয়ে ছিল কিশোর শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যরাও; ঘুমিয়ে ছিলেন বঙ্গমাতাও। ঘুমানোর আগে না জানি তাদের কত পরিকল্পনা ছিল পরবর্তী সম্ভাব্য সুন্দর সূর্য ওঠার দিনটি নিয়ে। কিন্তু আযরাঈল (আ) এর অপ্রত্যাশিত আগমন সেই সূর্য ওঠা দিনটি দেখতে দেয়নি কাউকেই। পাষন্ড, নিষ্ঠুর, পাপিষ্ঠের দল এক এক করে বেদনাতুরভাবে হত্যা করে বাংলার বন্ধু, ৭ই মার্চের গর্জে ওঠা সেই বাংলার বাঘকে। এতেও তাদের ভরেনি হৃদয়। তারা এক এক করে কেড়ে নিল প্রেরণাময়ী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক শেখ কামাল, মেজো ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল, ছোট ছেলে স্নেহের শেখ রাসেল, পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে।

এখানেই শেষ হয়নি তাদের কাপুরুষত্ব! তারা হানা দিল মন্ত্রী আব্দুর রবের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে। হত্যা করা হলো বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি, অন্যান্য ছেলে-মেয়ে এমনকি ছোট নাতিকেও। রক্ষা পায়নি জাতীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণির অন্তঃসত্তা স্ত্রীও। এভাবে তারা হত্যা করলো বংগবন্ধুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্যকে।

সত্যিই যদি রাত পোহালে এ দুঃসপ্ন ভেঙ্গে যেতো, যদি ঘুম ভেঙ্গেই বাঙালি ইতিহাসের পাতাই ১৫ আগস্ট নামে কোন পৃষ্ঠা খুঁজে না পেতো, কালো পতাকা যদি উত্তোলনের প্রয়োজন না পড়তো! তবে রাত পোহালে সূর্যকে জাগতেই হয়। জেগে উঠুক এ দেশের প্রতিটি মানুষ সূর্যের মতো জ্বলন্ত শক্তিতে। আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে এ দেশকে সোনার দেশ বানাতে ভূমিকা পালন করি, তবে আগস্টের দুঃস্‌বপ্ন শেষ না হলেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিটা দিনের, প্রতিটা মাসের দেখা স্বপ্ন পূরন হবে।