আইন লঙ্ঘন করে নোবিপ্রবিতে ডীন নিয়োগের অভিযোগ

  • 28 May
  • 09:47 PM

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি 28 May, 21

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপককে নিয়মবহির্ভূত ভাবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের এই ডীন নিয়োগকে নিয়মবহির্ভূত বলছেন বিভাগের জ্যৈষ্ঠ শিক্ষকরা। এ নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সুস্পষ্ঠ লংঘন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগামী ২ বছরের জন্য ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ও বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন ড. সেলিম হোসেনকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ এর ২৩ নং ধারার ৫ নং উপধারায় উল্লেখ আছে “প্রত্যেক অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক নির্দিষ্টকৃতভাবে অধ্যাপকের মধ্যে ইহার ডীন পদ আবর্তিত হইবে এবং তিনি দুই বৎসরের মেয়াদে তাহার পদে বহাল থাকিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিভাগে অধ্যাপক না থাকিলে সেই বিভাগের জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপক ডীন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবে এবং কোন বিভাগের একজন অধ্যাপক ডীনের দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিলে ঐ বিভাগের পরবর্তী পালাসমূহে বাকী অধ্যাপকগণ জ্যেষ্ঠার ভিত্তিতে ডীন পদে নিযুক্তির সুযোগ পাইবেন।

আরো শর্ত থাকে যে, একাধিক বিভাগে সমজ্যেষ্ঠ অধ্যাপক অথবা সহযোগী অধ্যাপক থাকিলে, সে ক্ষেত্রে তাহাদের মধ্যে ডীন পদের আবর্তনক্রম ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক নির্দিষ্ট হইবে”।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, অনুষদের ডীন একটি একাডেমিক পদ এই পদে একজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন আছে এবং তার বিধান আছে। এটি এমন কোন পদ নয় যেখানে প্রশাসন ইচ্ছামত নিয়োগ দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের উপযুক্ত শিক্ষক থাকার পরেও বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ডিন নিয়োগ সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের আইনের ব্যত্যয় কখনো কাম্য হতে পারে না।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে ডীন হওয়ার মতো যোগ্য লোক থাকা সত্বেও বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ডীন নিয়োগ কতটা যুক্তিসংগত? আমরা চাই, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী যিনি ব্যাবসা প্রশাসনে অনুষদের ডীন হওয়ার যোগ্য তাকেই নিয়োগ দেয়া হোক।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, এর আগেও এই অনুষদে ডীন হিসেবে অন্য বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় নানান সমস্যার সম্মুক্ষীন হয়েছে বিভাগগুলো। তাছাড়া এর আগের ডীন গত দুই বছরে একটিও অফিসিয়াল মিটিং ডাকেননি।

ডীন নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে যে তিনজন সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন তাদের জৈষ্ঠতা নিয়ে একটা সমস্যা রয়েছে। যোগদানের দিক দিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জৈষ্ঠ শিক্ষক হলেও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই বিষয়টা সমাধান হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অনুষদ পরিচালনা করার জন্য এই ডীন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ দিদার-উল-আলম বলেন, এটা আমার কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়। বিষয়টি আলাপ আলোচনা করেই ডীন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কাকে দিয়ে কি চালানো যাবে এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভালো বুঝে। সেই প্রেক্ষিতেই আমরা ডীন নিয়োগ দিয়েছি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড সেলিমকে এর আগে বিজ্ঞান অনুষদের ডীন নিয়োগ দেয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিলো। তখন একই বিভাগের অধ্যাপক ড শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযোগ দিয়েও সুরাহা না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।