আইআইইউসি'তে সব ধরণের রাজনীতি নিষিদ্ধ

  • 10 Feb
  • 09:18 PM

নিজস্ব প্রতিনিধি 10 Feb, 20

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এ সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার হলে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কে এম গোলাম মহিউদ্দিন এর পক্ষে এ ঘোষণা পাঠ করে শুনান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্ণেল (অবঃ) মোহাম্মাদ কাশেম

এই সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তোলে ধরা হয় বিশেষ করে ছাএ নির্যাতন ও শিক্ষক লাঞ্চনা।এছাড়া ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয় সেটি হলো "বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চাইলে সরকার কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।"

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের বরাত দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর ধারা ১৮ এবং ধারা ৩৭ অনুযায়ী বিগত ২২৯ তম সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আজ হতে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ক্যাম্পাসে র‌্যাগিং ও সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়।

উল্লেখ্য গত ২৭জানুয়ারী বিকাল ৪.০০ টায় কুরআনিক সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট এর দ্বিতীয় সেমিস্টার এর শিক্ষার্থী আদনানকে উসমান (রাঃ) হলের ৪১৩ নম্বার রুমে নিয়ে যায় ইইই বিভাগের বিতর্কিত ছাএলীগ নেতা জুবায়ের ইসলাম ডলারের অনুসারী উচো মারমা, রবিউল ইসলাম রনি ও শফিউল ইসলাম নামের ছাত্রলীগ কর্মীরা। এরপর থেকে শিবির অপবাদ দিয়ে আদনানকে রাত ১২.০০ টা পর্যন্ত অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

তার শরীরের সব অংশে রড ও বেল্ট দিয়ে আঘাত করা হয়। হাত, পায়ের নিচে, কোমর থেকে পা পর্যন্ত অসংখ্য জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট। তাকে গলায় রশি দিয়ে নিশ্বাস বন্ধ করে মেরে ফেলতে উদ্ধত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট জুনায়েদ কবীর ও প্রোক্টরিয়াল বডির একটি টিম গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাধারন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আন্দোলন মানববন্ধন করে।এছাড়া এ ঘটনার পর ছাএলীগের কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বাজে ব্যবহার করে।এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি অবনতি হতে শুরু করে।পরে জরুরী সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় এর সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় যা এখনো বলবৎ।