অসুস্থ বাংলাদেশে: আপনি নিরাপদ তো?

  • 25 Mar
  • 10:39 PM

মেহেদী হাসান, শিক্ষার্থী- ইংরেজি বিভাগ (ডিআইইউ) 25 Mar, 20

করোনা ভাইরাস সর্বপ্রথম ১৯৬০ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং সেটি মালোশিয়াতে। করোনা শব্দটির অর্থ হল পুষ্পমাল্য বা পুষ্পমুকুট। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরে। উহান শহরে ভাইরাসটি সনাক্ত হয় ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৯সালে। করোনা ভাইরাসটি কোভিড-১৯(COVID-19) যা নভেল করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের ৭ টি লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে।(WHO)World Health Organisation করোনা ভাইরাসকে প্যানডেমিক বা মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে ১১ মার্চ ২০২০ সালে। পরিসংখ্যান বলছে - বর্তমানে ১৫৯ টি দেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে চীন এবং ইতালিতে করোনা রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী - পৃথিবীতে মোট করণা রোগীর সংখ্যা ৪ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৯৮ জন,মৃত সংখ্যা ১৯ হাজার, সেরে উঠেছেন ১লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৫ জন। চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৮১ হাজার ১৭১ জন, মৃত ৩২৭৭ জন। ইতালিতে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত ৬৯ হাজার ১৭৬ জন, মোট মৃত ৬৮২০ জন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চারদিকে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়েছে।রোগ প্রতিরোধে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সমগ্র বিশ্ব। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়! সরকারি হিসাব মতে মোট করোনা শনাক্ত ৩৯ জন এবং মৃত্যু-৫ জনের। করোনা ভাইরাসে এ দেশে আরো একজনের মৃত্যু।গত ২৪ঘণ্টায় নতুন করে কেউ শনাক্ত হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে ৪৭জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ৭ জন। বেসরকারি হিসাব মতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, কেননা আমাদের চিকিৎসা ও টেস্ট কিট এর অভাব। লোকচক্ষুর অন্তরালে হারহামেশাই ঘুরে বেড়াচ্ছেন সম্ভব্য করোনা রোগীরা।

বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গণজমায়েত এড়িয়ে চলা সহ নানা রকম সর্তকতা অবলম্বনের কথা বলা হচ্ছে জোরালোভাবে। তাই দেশের ও জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ও করোনা ভাইরাস যাতে আক্রান্ত স্থান বা ব্যক্তি হতে ছড়াতে না পারে তাই ইতিমধ্যে কয়েকটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়, পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে পরিস্থিতি সামাল দিতে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ফেরত ছেলের সংস্পর্শে এসে মারা গেলেন কিডনি রোগে আক্রান্ত ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৯ টায় এই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। যেখানে সরকার বাধ্যতামূলক করেছে বিদেশ থেকে ফিরলে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য। সেখানে আমরা কতটুকু মানছি? কতটা আমরা সচেতন ? আপনার সামান্য অসচেতনতাই কেড়ে নিতে পারে আপনার-আমার বাবা-মা, ভাই-বোন এবং প্রিয় মানুষগুলোকে। ঝরে পড়তে পারে অজস্র সম্ভাবনাময় প্রাণ। আসুন নিজের পরিবার ও দেশকে রক্ষা করার জন্য নিজে সচেতন হই এবং অন্যকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করি ।