কুবিতে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ স্বর্ণপদক জয়ী শিক্ষার্থীর

  • 11 Dec
  • 02:32 PM

মাহমুদুল হাসান নয়ন, কুবি প্রতিনিধি 11 Dec, 21

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার খাতা যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের এবং ইংরেজি বিভাগের একমাত্র স্বর্ণপদক জয়ী শিক্ষার্থী মেরিয়া নুসরাত সরকার।

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে এ লিখিত অভিযোগ জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তর।

অভিযোগ পত্রে সেই সাবেক শিক্ষার্থী বলেছেন, "আমার পরীক্ষা যথেষ্ট ভালো হয়েছিল। কিন্তু আমাকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগই দেয়া হয়নি। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, লিখিত পরীক্ষার পর কয়েকজন প্রার্থী মাত্র দুইটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলো বলে আমাকে জানায়। অথচ তারাও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, "আমি প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক প্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী হিসাবে মনে করি পরীক্ষা যথেষ্ট ভালো দেয়ার পরও আমার খাতা ইচ্ছাকৃতভাবে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় নি।"

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই শিক্ষার্থী কুবির ইংরেজি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ইংরেজি বিভাগ থেকে প্রথম এবং একমাত্র স্বর্ণপদক জয় লাভ করেছেন। ইতোমধ্যে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ বছর ধরে তিনি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও তার একাধিক মৌলিক প্রকাশনাও রয়েছে।

এদিকে, স্বর্ণপদক জয়ী একজন শিক্ষার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ দেখানোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পদের একজন শিক্ষক বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকেই একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফলাফল করেছে। আমরাই তাকে শ্রেষ্ঠত্বের খেতাব দিয়েছি। আবার আমরাই তাকে লিখিত পরীক্ষায় বাতিল ঘোষণা করছি। এর মতো লজ্জাজনক কর্মকান্ড আর কিছু হতে পারে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহকারী অধ্যাপক পদের একজন শিক্ষক এ বিষয়ে বলেন, দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে থেকেও কোন শিক্ষকের আত্মীয়তার সূত্রে নিয়োগ পেয়েছে এমন শিক্ষকও তো আমাদের মধ্যে রয়েছে। আর যে শিক্ষার্থীর কথা হচ্ছে সে তো একজন স্বর্ণপদক জয়ী শিক্ষার্থী এবং সে একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়াচ্ছেনও। তাহলে তাকে লিখিত থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু দেখছি না। এরকম চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা আর পড়ালেখার দিকে আগ্রহী হবে না।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বনানী বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষার সাথে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। আর এগুলো গোপনীয় বিষয় তাই আমি কিছু বলতে পারছি না।

কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম এ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, রিটেন যে পরীক্ষা হয়েছে ঐটার খাতা তো কোডিং করে হয়েছে। কারো নাম, রোল নাম্বার দিয়ে হয় নি। তাই বিষয় টা অন্যভাবে চিন্তা করা সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।

এ ব্যাপারে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.এমরান কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিখিত পরীক্ষার স্বচ্ছতার কথা ব্যাখ্যা করে পরীক্ষার বাছাই পদ্ধতি নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠতে পারেনা দাবি করেন।

উল্লেখ্য, একই বিভাগে এর আগে পছন্দের প্রার্থীকে শিক্ষক বানাতে আবেদনের ন্যুনতম যোগ্যতা কমিয়ে নিয়োগ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।