নিজস্ব অর্থায়নে গড়া পদ্মা সেতু হবে কৃষিতে অগ্রযাত্রার মাইলফলক

  • 23 June
  • 09:49 PM

ইসরাত জাহান,বাকৃবি প্রতিনিধি 23 June, 22

নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু গতিশীলতা আনবে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে কৃষিতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ছয় কোটি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। উৎপাদিত কৃষি পণ্য অল্প সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে পারবে এবং ন্যায্যমূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে । এছাড়াও প্রতিবছর ০.৮৪ ভাগ দরিদ্রতা দূর হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ রমিজ উদ্দিন। ২৩ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১ টায় বাকৃবির শিক্ষক কমপ্লেক্সে 'স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন ও কৃষিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন' শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, সেতু চালু হলে খুলনা ও বাগেরহাটের মাছ, যশোরের সবজি আর গদখালীর ফুল, বরিশালের ধান ও পান এবং পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি পণ্য ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব হবে। যশোর ও ফরিদপুরের খেজুরের গুড়ের  রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। পটুয়াখালী থেকে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ মেট্রিকটন মাছ জেলার বাইরে রপ্তানি হয়। সেতু উদ্বোধনের ফলে মাগুরার লিচু চাষিরা আগামী বছর থেকে প্রতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার বাড়তি লিচু বিক্রি করতে সক্ষম হবেন। লিচুর পাশাপাশি মাগুরায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি, ১২ হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়। এসব পণ্য দ্রুত ঢাকার বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে।

গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস বলেন, মাংস ও দুধ উৎপাদনের জন্য শরিয়তপুর দেশব্যাপী পরিচিত। সেতুর উদ্বোধন হলে উৎপাদিত এই পণ্যগুলো মাত্র ২ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। পূর্বে ফেরিঘাটের ভোগান্তির কারণে এসব মাংস ও দুধ ঢাকায় সঠিক সময়ে সরবরাহ করে বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। পদ্মা সেতু চালু হলে পরিবহনে আর বাড়তি সময় লাগবে না।

এছাড়াও সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, চিংড়ি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য। চিংড়ি উৎপাদনের ৯০% এরও বেশি উৎপাদিত হয় খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে। বর্তমানে চিংড়ি উৎপাদন খামারগুলো তাদের সক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ চিংড়ি উৎপাদন করতে পারছে। সেতু চালু হলে চিংড়ি খামারের উৎপাদনশীলতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক মানদন্ডে চিংড়ি উৎপাদিত হবে এবং বিদেশে চিংড়ি রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। অধিক চিংড়ি রপ্তানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে বিশেষ করে রাজধানী শহর এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে চিংড়ির সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে কৃষক ও উৎপাদকরা তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু এবং বাকৃবির গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের প্রায় ৩০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।