• 09 Oct
  • 08:21 AM
আবরার হত্যার প্রতিবাদে বুয়েট শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবি

বুয়েট প্রতিনিধি 09 Oct, 19

গত ০৭/১০/১৮ তারিখে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে ঘটে যাওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ১৭ ব্যাচের আবরার ফাহাদকে শারীরিক অত্যাচারের মাধ্যমে নৃশংস হত্যাকান্ডের জন্য সাধারন ছাত্রদের পক্ষথেকে নিম্নোক্ত ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হলোঃ


১. খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যনুসারে শনাক্তকারি খুনীদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. ৭২ ঘন্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিশ্চিতভাবে সনাক্তকৃত খুনীদের সকলের ছাত্রত্ব আজীবন বহিঃস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষন করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘন্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নি তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকাল ৫ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সাথে ডিএসডব্লিউ স্যার কেনো ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তা উনাকে আজ বিকাল ৫ টার মধ্যে সকলের সামনে জবাবদিহি করতে হবে।

৫. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সাথে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর,২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

৭. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

৮. বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটে হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়। জুনিয়র মোস্ট ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে যুক্ত করা হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোন সময় যেকোন হল থেকে সাধারন ছাত্রদের জোরপ্রদর্শনপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। রাজনৈতিক সংগঠনের এহেন কর্মকান্ডে সাধারন ছাত্রছাত্রীরা ক্ষুব্ধ, তাই আগামী ৭ দিনের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে বুয়েটে সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে।