• 11 June
  • 10:32 PM
অগ্নিকন্যা লীলা নাগের বাবার বাড়িকে জাদুঘর করা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি 11 June, 19

মৌলভীবাজারের রাজনগরের পাঁচগাঁও গ্রামে উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিকন্যা লীলা নাগের বাবার বাড়িকে জাদুঘর করার দাবি উঠেছে। ১১ জুন নারী জাগরণের পথিকৃৎ নারীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ দাবি তুলেন লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদের সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমদ।

তিনি বলেন, লীলা নাগের স্মৃতি বিজড়িত পাঁচগাঁও গ্রামের বাবার বাড়িটি উদ্ধারে লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ বিভিন্ন সময়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের অনেক আবেদন করেছে। তবে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। প্রয়াত যুদ্ধাপরাধী আলাউদ্দিনের পরিবারের হাত থেকে বাড়িটি উদ্ধার করে জাদুঘর গড়ে তোলা হোক। এরই মধ্যে লীলা নাগের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বাড়ির বৈঠকখানাটি জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনো টিকে আছে। তাও ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। যে কোনো সময় শেষ স্মৃতিচিহ্ন বৈঠকখানাটিও ভেঙে যেতে পারে ।

যুদ্ধাপরাধী আলাউদ্দিন চৌধুরীর পরিবার বাড়িটি রক্ষায় মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতে মামলা করেন। সে মামলায় পরাজিত হলে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। মামলাটি এখনো চলছে।

নায়িকা সুচিত্রা সেনের পাবনার বাড়ি দখলমুক্ত হওয়ার পর লীলা নাগের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাড়িটি দখলমুক্ত করে জাদুঘর করার দাবি উঠে।

আলাউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ও কুঞ্জলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মুনিম চৌধুরী জানান, বাড়িটি জবর দখল করিনি। বাড়িটি নিয়ে আদালতে মামলা হলে হাইকোর্ট খাজনা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিল্পবী নারী ও বাংলা ভাষায় নারী সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা মাসিক জয়শ্রী পত্রিকার সম্পাদক লীলা নাগের বাড়ি পাঁচগাঁও গ্রামে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর লীলা নাগ ও অনিল রায় দম্পতি পূর্ববঙ্গে বসবাস করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু তৎকালীন মুসলিম লীগ শাসকেরা তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করে। মূলত সেই সময়েই লীলা নাগের বাবার বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় আলাউদ্দিন চৌধুরী ১৯৭১ সালে পাঁচগাঁও গ্রামে ৬৯ জনকে গণগত্যার পর ভীতি সৃষ্টি করে আশপাশের প্রায় শত কোটি টাকার ১৭ একর ফসলি জমি ও বাড়িটি দখলে নেয়। এতে তারা ধীরে ধীরে লীলা নাগের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলছে।