• 09 Oct
  • 01:43 PM
ছাত্রলীগ কখনোই কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় নাঃ জয়

ঢাবি প্রতিনিধি 09 Oct, 19

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রলীগের অতি উৎসাহী কিছু নেতাকর্মীদের নির্মমতার বলি হওয়া শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যবস্থার পর্যালোচনা এবং হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় সংসদ।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয় এ মন্তব্য করেন৷

এসময় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সহ কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয় লিখিত বক্তব্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেন-

আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যাকান্ডটি ছাত্রসমাজসহ প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে প্রচ-ভাবে নাড়া দেয়। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে বুয়েট ছাত্রলীগের কতিপয় নেতৃবৃন্দের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় আমরা দ্রুততার সঙ্গে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ কখনওই কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকা-কে প্রশ্রয় কিংবা উৎসাহ প্রদান করে না। সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে অতি উৎসাহী কোনো কর্মকা-কে ছাত্রলীগ অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও প্রশ্রয় দিবে না। সম্প্রতি আবরার হত্যাকা-ে ছাত্রলীগের পদক্ষেপে আবারও তা প্রমাণ পেয়েছে।

বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের প্রতি দেশরতœ শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশনা- ‘আমার চোখে সকল অপরাধীই সমান। অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। আবরার হত্যাকা-ে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।

দ্রুততম সময়ে হত্যাকা-ে জড়িত এজহারভুক্ত ১৯ জনের ১৩ জনকে গ্রেফতার করার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। পলাতকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে এজহারের বাইরে হত্যাকা-ে জড়িদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসারও আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগ সকল ধরণের সহযোগিতা করবে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবরার হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন করার জন্য যেন আবরার হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে সম্পন্ন করা হয়। এবং জড়িতদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, সে উপযোগী করে পুরো মামলাটি পরিচালনা করা হয়।

আবরার হত্যাকা- পরবর্তী পরবর্তীতে সরকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় প্রদানের পরও এবং ছাত্রলীগ সাংগঠনিক অবস্থান পরিষ্কার করার পরও কিছু কুচক্রী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ, ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা, দেশবিরোধী চুক্তির ধোঁয়া তুলে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন প্রচেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি ও কটুক্তিমূলক বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে কতিপয় নামসর্বস্ব, কর্মী ও কর্মসূচি বিহীন, ব্যানার নির্ভর ছাত্র সংগঠন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে তা ছাত্রলীগ কোনোমতেই মেনে নিতে পারে না। দেশের ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে এসব হীন কর্মকা- সর্বাত্মকভাবে মোকাবেলা করবে ছাত্রলীগ।

দেশের ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান, নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। আবরার হত্যাকা-ে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ যেন রাজনীতি চাঙ্গা করার নামে আন্দোলন আন্দোলন খেলায় মেতে উঠতে না পারে, হীন স্বার্থ সিদ্ধির জন্য পরিকল্পিত লাশ ছেড়ে সন্ত্রাস কায়েম করতে না পারে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকা ছাত্র সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।



এর আগে গত সোমবার রাতে আবরার হত্যাকান্ডে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠিত তদন্ত কমিটির তথ্যের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনটির ১১ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছিল।

প্রসঙ্গত, রবিবার রাত ২টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সহপাঠীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাতে, পায়ে ও পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ভোঁতা কিছু দিয়ে পেটানোর ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে আবরারের।

পুলিশ ইতোমধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগের ১৩ জন নেতাক্ব আটক করেছেন এবং ওই হলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। সোমবার রাতে মোট ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন আবরারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্র্যাককর্মী বরকতুল্লাহ।