• 14 May
  • 09:34 PM
সজনে পাতার পাউডারে মিলবে পুষ্টি:রাবি অধ্যাপকের অভাবনীয় আবিষ্কার

সাকিবুল ফারাবি,রাবি প্রতিনিধি 14 May, 19

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়(রাবির) অধ্যাপক উচ্চ পুষ্টির লক্ষ্যে সজনে পাতার পাউডার উদ্ভাবন করেছেন । দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণার পর সজনে পাতা প্রক্রিয়া করে এক ধরনের পাউডার তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম মনজুর হোসেন। তাঁর এই উদ্ভাবন বাংলাদেশসহ পুষ্টিসমস্যায় ভোগা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহজে ও স্বল্পমূল্যে উচ্চ পুষ্টি নিশ্চিত করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

গবেষণা সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষিণ এশিয়ার সহজলভ্য সজনে পাতায় রয়েছে উচ্চ মাত্রা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’। এমন পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্বব্যাপী গাছটি মিরাকল ট্রি হিসেবে পরিচিত। অধ্যাপক মনজুর হোসেন এই গাছ নিয়ে কাজ করছেন জানতে পেরে জাপানি গবেষক কিনজি টিসুজি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর গবেষণা সহকারী হিসেবে সজনে পাতা নিয়ে কাজ করেন। তাদের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বদ্ধভূমি সংলগ্ন এলাকায় ১ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার সজনে চারা রোপণ করা হয়।

অধ্যাপক মনজুর জানান, এই গবেষণা শেষে টিসুজি দেশে ফিরে গেছেন। এরপর জাপানের ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধ্যাপক মনজুর আরও বড় পরিসরে সজনে পাতা নিয়ে কাজ করবেন। তারা জাপানের পুষ্টি সমস্যা সমাধানে এই পাউডার নিয়ে যেতে চায়।

আরও জানা যায়, এ গাছের পাতাতে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে একটি পরিপূর্ণ কমলা থেকে ৬ গুণ বেশি, ভিটামিন ‘এ’ দুধ থেকে চারগুন বেশি। অধ্যাপক মনজুর উদ্ভাবিত এই পাউডারটি দিনে এক চা চামচ এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’সহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণ পাবে মানবশরীর। এছাড়াও বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ রোগ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা, বাতের ব্যথা নিরাময়েও দারুণ কাজ করে এ গাছের পাতা।

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, সজনে পাতার এই পাউডার শিশু খাদ্যে ফুড এডেটিভ হিসেবে ব্যবহার করলে শিশুর পুষ্টি সমস্যার সমাধান হতে পারে। এছাড়া মায়েরাও এই পাতা খেতে পারে। হার্ট ডিজিস, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, অ্যালঝেইমারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি শিশুদের মেধা বিকাশে, ক্ষয়জনিত রোগ প্রতিরোধে গাছটির পাতা খুব উপকারী।

তিনি আরও বলেন, সজনে পাতা সহজ লভ্য এবং এটির ব্যবহারও সহজ। কিন্তু এর উপকার অনেক। পুষ্টি সমস্যা সমাধানে সরকারের সজনে পাতার প্রচার করা উচিৎ। এর পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার নিয়ে ক্যাম্পেইন চালানো উচিৎ।