• 26 Aug
  • 01:06 PM
পাঁচটি কবিতা:তানহিম আহমেদ

নিজস্ব প্রতিনিধি 26 Aug, 19

মানুষ

রঙহীন তামাটে এক জড় পাথরকে ঘিরে
আমরা ক’জন মিলে একটি বলয় তৈরি করি
যার কেন্দ্রে রাখা রয়েছে লোভ, ক্ষুধা এবং কাম।

তাকে অবিরাম প্রদক্ষিণ করে চলেছে নক্ষত্রপুঞ্জ
বিগড়ে যাওয়া বিশ হাজার নষ্ট নিউরন সেল
অজানা জটিল যত রোগের প্রতিষেধক—

আমরা তৎক্ষনাৎ.. তার নাম দিয়ে দেই— মানুষ।


❑ জরাসন্ধ ❑

আর কিছু নেই বাকি– ভুলে যাওয়ার মত। পথে
ফেলে এসেছি সব। যেখানে গিয়েছে ডুবে তাবৎ
ম্রিয়মান নিভু নিভু সন্ধ্যা বাতি। ধুলিমাখা মাঠে।
যেখানে– বসে থাকে ঘরমুখো শালিক। হারানো
মানুষ। প্রতীক্ষায়। সেখানে। যেখানে– মাছরাঙা
হয়ে হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় মৃদু ভেজাগন্ধ। গাঢ়
কোনো অন্ধকারে, একদা– সেখানে নিতে গিয়ে
নিজ শেকড়ের সন্ধান। কবেকার পথে– এসেছি
ফেলে যত– অবেলায় কুড়িয়ে পাওয়া বিস্মৃতি।



❑ দরোজা ❑

সময়— একটি বহুব্রীহি ভাস্কর্য।

পৃথিবীর সমসাময়িক দরোজা। যার থরে
থরে সাজানো হরেক রকমের পরিচ্ছেদ।

মানুষের। স্বতন্ত্র স্বর ও ভঙিমা।

যার, রন্ধ্রে রন্ধ্রে— ঢুকে গিয়েছে
ঘাতকের ছুড়ি। চিৎকার ও মৃত্যুর নামতা—

সময়— এক। দক্ষ মূকাভিনেতা।

প্রাচীন মুদ্রা ভেবে। যে— উড়িয়ে
দেয় গাঢ় ব্যর্থতার ম্লান হাসি।


❑ সন্ধ্যা ❑

এভাবে—নীরবে ভাঙে—অন্ধকারের রঙ। সন্ধ্যের বিদগ্ধ
বাতাসে ঘোরগ্রস্ত গন্ধ। বিগত গ্রীষ্মের মতন। মৃত বৃক্ষের
ডালে বসে এক অন্ধ বোবা রাত—শোনে অক্ষম মানুষের
গান—একটি পাখি সেখানে, ফেলে রাখে জীবনের বীজ।
সেই বীজ থেকে সকল সৌরভ ঝরে গেলে—আমার বুকে
তুমি এক বিরল হলুদ রঙা প্রজাপতি হয়ে জন্মাও।


❑ ডুব ❑

০১.

এবঙ– জেনে রেখো। মানুষ হোলো এক
অতি দক্ষ ডুবুরি। গাঢ় সমুদ্রের নাম। বারবার
তাকে পাঠ করতে গিয়ে জেনেছি– এভাবে
অবিরত ক্ষয়ে যাওয়ার ডাকনাম জীবন।

বারবার– তার চোখে। ডুবে যেতে যেতে।
কেবল জেনেছি নিঃসঙ্গ মানুষের বুকে জমিয়ে
রাখা দীর্ঘশ্বাস। প্রবাহমান হাওয়ার মতন। অম্লান
বিমুখ সময়ের কাছে রেখে যায়– কিছু গান।

তার মুখ জুড়ে সাদাকালো তৃষ্ণাদগ্ধ মুখোশ
অদেখা জন্মদাগের মতন– লেগে থাকে–
যেনো উটের থরথর প্রসন্ন গ্রীবাদ্বয়।


০২.

জেনেছ কি– দ্বিধার বৃক্ষ। হে নারী– তোমার
অক্ষয়প্রাপ্ত চোখে। বিতৃষ্ণার মত– চিরকাল
কেবল ফুটে থাকে হয়ে এক দীর্ঘকালীন ডুব।