• 12 May
  • 03:51 AM
হাসপাতালে চলছে নারীর পেট কাঁটার রমরমা বিজনেস

ওয়ায়েছ আহমেদ আরিফ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক 12 May, 19

এক নার্স (সেবিকা) হলি-ক্রস মেডিকেলে কাজ করছেন! গত মাসে তার ফুটফুটে পুত্র সন্তান হয়। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম সিজারে অনেক বাচ্চা ই তো পৃথিবীতে নিয়ে
আসেন অপারেশন করে, এখন আপনার সিজার কোন চিকিৎসক করবে? উত্তরে জানায়, নরমাল ডেলিভারি'র জন্য প্রিপারেশন নেওয়া হয়েছে। কারণ! সিজারে বাচ্চা হলে একজন নারী ২য়, ৩য় বার পুনরায় মা হতে গেলে ঝুঁকি থাকে ৯০.৭%।

অনেক সময়েই বাচ্চার শরীর ছুরি , কাচি লেগে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হয়, যা আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ কাউকেই
বলেন না! অর্থের লোভে প্রত্যেক গর্ভবতী মাকে মেডিক্যাল চেকাপ এর আগে থেকেই বলে রাখা হয় সিজারে বাচ্চা নিতে হবে অন্যথায়! মৃত্যু ঝুঁকির ভয় দেখানো হয় ।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা WHO (World Health Organization) জানিয়েছে একটি দেশে'র ১৫% মেয়ে যদি একান্তই না পারে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া (নরমাল ডেলিভারি) তে বাচ্চা নিতে, সেক্ষেত্রে সিজার করাতে হবে। আমার দেশে বর্তমান সিজারে বাচ্চা হচ্ছে সে অনুপাতে ৯৭.৩% যা নারী স্বাস্থ্য'র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ । এই সিজারে বাচ্চা নিতে গেলে যেমন মা মারা যায় বেশীরভাগ সময় তেমনি ক্ষতি হয় নবজন্ম নেওয়া শিশুটির । সিজারে হওয়া বাচ্চা অনেক বেশী অসুস্থ থাকে একটু খেয়াল করে দেখবেন, যা নরমালে হওয়া বাচ্চাদের হয় না খুব একটা ।

প্রতি বছর সিজারে বাচ্চা হতে গিয়ে মারা যায় আমাদের দেশে ২৭.৯% মা এবং শিশু । এছাড়াও সিজার অপারেশনে রোগীর জন্য
রক্ত চাওয়া হয় কয়েক ব্যাগ, যা ব্যবহার কমই হয়, বাকীগুলো বিক্রি করা হয়। সামাজিক স্ট্যাটাস হয়ে গেছে এখন সিজারে বাচ্চা
নেওয়া! যা বর্তমান নারী দেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে নীরবে, চিকিৎসকরা সবই জানেন, বুঝেন কিন্তু হাঁসপাতালের মালিকদের খুশি রাখতে এবং নিজেদের অর্থনীতি কে শক্তিশালী করতে তারা করেন নারীর পেট কাঁটা বিজনেস।

সূত্রঃ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও
পিজি হাঁসপাতালের গাইনি বিভাগের
অধ্যাপক।

তথ্য: Independent TV (তালাশ_পর্ব-১০৮)