• 05 May
  • 11:13 PM
মুন-ইমুর গল্প 'লাল পতাকা'

মুন-ইমু 05 May, 19

মোর নাম আম্বিয়া। মুই মোর বাপ মা আর ছোট্ট একটা বইনোক নিয়া একটা গ্রামত থাকং। মোর জীবনে এমন একটা রাইত আসপে মুই কোনদিন ভাইববার ও পাংনাই। মুই ১৯৭১ সালে ক্লাস নাইনত পড়ং। মোর সাথে সালাম, রফিক,কবির ওমরাগুলাও পড়ে। তখন তো আর টিভি টাবা ছিল না। রেডিওত শুনচোং বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠ "এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। গার পশম যেন কাটা দিয়া উঠছিল সেদিন। ১৯৭১ সালের ২৭এপ্রিল রাইতোত গ্রামত মিলিটারি অতর্কিতে হামলা করে। গুলির শব্দে কান ফাটি যায় এমন অবস্থা।

খালি ভটাস ভুটুস শব্দ হবার নাকছে। মুই ভয়তে খ্যাতার ভিতরা ঢুকিয়া থরথর করি কাইপপ্যার ধরছোং। আর মোর বইন ভয়তে মাক জড়ে ধরছে। এমন করি কুদি যে রাত পোয়াইছে কবার এ পায় না।

সকালে উঠি দেকং মোর বাপ মাক মিলিটারি গুলি করি আইগন্যাত ফেলে থুইছে আর মোর বইন রাবেয়া নাই। মুই বাপ মাক জড়ে ধরিম এমন সময় আবার গুলির ভটাস ভুটুস শব্দ। ভয়তে পালে গেইছোয়। পালে য্যায়া রফিক সালামের সাথে দেখা করনু।

ওমরা গুলা মোক কইল ওমরা গুলা যুদ্ধ কইরবার যাইবে। মুই ওমাগুলাক কনু মোকো তোমারগুলার সাথে নেও। ওমরা গুলা কইল তোর বয়স কম তুই পাবার নইস।মুই নাছোড়বান্দা মুই কনু মুই যাইম।

তখন ওমরাগুলা কইল তুই হামার খাবার পোটলাখান ধরি থাকিস। মুইও ওমার সাথে থাকতে থাকতে বন্দুক চালা শেখচোং। এমন করি যুদ্ধ চলতে আছে।

একদিন রাইতোত হামরা পাশের গ্রামত যুদ্ধ কইরবার যামো তখন অান্ধার ছিল মুই একটা খাইলোত ঠ্যাং আটকে পড়ি গেনু। মোর ঠ্যাং কাটা গেলো। ওমরাগুলা কিসের কিসের বা পাতার রস আনি দেইল বিষটা কমি গেল। মুই মিলিটারিক গুলি করচোং। মোর খালি মনে হছলো সোগগুলা মিলিটারির মাথার খুলি এক গুলিতে উড়ি দেয়। এমন করি হামর মেলা অপারেশন করনো। তারপর যুদ্ধ করতে করতে দ্যাশ স্বাধীন হইল। কিন্তু মোর মনোত এলাও দুঃখ। মুই বাপ মাক কবর দিবার পাং নাই। ছোট্ট বইনটাক খুজি পাং নাই।

স্বাধীন হইল দ্যাশ কিন্তুু দ্যাশের মানুষ কি এলাং স্বাধীনতার পূর্ণ ফল পাইছে। পায় নাই। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হয়া গেল --- মোর খালি মনে হয় মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ কবে পাইবে আর কবে??
এলাং ঐ যুদ্ধের মত মেয়েরা ধর্ষণনের শিকার হয়, ৩ বছরের বাচ্চাও বাদ যায় না মেয়েদের মানুষ মনে করা হয় না দ্যাশ খালি স্বাধীন হইছে দ্যাশের মানুষগুলা এখনো মাথা গোজার ঠাই পায় না মনত খালি প্রশ্ন কিসের জন্য যুদ্ধ করনো আর কবে স্বাধীনতার ফল সাধারণ মানুষ ভোগ করবে??