• 06 Sept
  • 11:08 PM
আর্টিস্টরা নীরব কবি, সংস্কারক

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 06 Sept, 19

ছোটবেলা থেকেই আর্টের প্রতি আগ্রহ ছিলো। সেই থেকে ঢাকা ইউনিভার্সিটির চারুকলায় ভর্তি হওয়া। প্রায় তিনমাস ক্লাসও করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম একটা বিষয়টা ভালো লাগছে না। শখ এখন পেশায় পরিনত হচ্ছে। আমি তো আঁকা বুকি শখের বসেই করি। দেখা গেলো কোনদিন হয়তো আঁকতে ইচ্ছে করছে না। তবুও স্কেচ প্যাড নিয়ে ছুটোছুটি করছি। নিতান্তই অনিচ্ছায়। তখন মনে হলো, এভাবে আর হচ্ছে না! শখ জিনিসটা শখের জায়গায়ই থাকুক। যখন ইচ্ছে আঁকবো, যখন ইচ্ছা আঁকবো না! এই ভেবেই সাস্টে আসা।

আমি ছোট বেলা থেকেই আঁকতে পছন্দ করি, কিন্তু সবসময় ম্যাটেরিয়ালস এর একটা অভাব বোধ করেছি। একবার একটা রঙ এর বক্স দেখলাম, যেখান ১২৮টা রঙ ছিলো। ঘুরে ঘুরে গেলাম রাজশাহীর সবচেয়ে বড় দোকানে। দোকানদার আমাকে ১২টা রঙ হাতে দিলো। আমি আরো বেশি রঙ চাইলে সে বলে আগে এগুলা শেষ করো! আমি বিরক্ত হয়ে রঙ না নিয়েই চলে আসি। এর বেশ কয়েকদিন পর টুকটাক ঘাটাঘাটি করে সন্ধান পাই ডিজিটাল মিডিয়ার। ১২৮ টা রঙ এর বদলে আমি পেয়ে গেলাম ষোল মিলিয়ন রঙ। যেমন ইচ্ছে তেমন রঙ নিচ্ছি! রঙ ফুরানোর কোন চিন্তা নেই। নতুন রঙ কিনার ভাবনা নেই। ভালোই লাগছিলো ব্যাপারগুলো। এভাবেই ডিজিটাল আর্টের সাথে পথচলা।

একদম শুরুর দিকে কাজ করতাম মাউস দিয়ে। এক একটা সম্পূর্ণ কাজ করতে প্রায় ১ থেকে ২দিন লেগে যেত। একেকটা কাজ শেষে হাতের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এরপর একবার এক বন্ধুর কাছে একটা ড্রইং ট্যাব দেখি। ওর থেকে সেটা নিয়ে আঁকতে চেষ্টা করি। অবাক হয়ে দেখলাম বিষয়টা মজার! এখন কাজ করতে আগের চেয়ে বেশি মজা পাচ্ছি। তাই কিছুদিনের মধ্যে একটা ড্রইং ট্যাব কিনে ফেলি। এরপর আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাই নি। একটু একটু করে কাজ করে যাচ্ছি।

আমার সবসময় ইচ্ছে ছিলো আমার কাজের মধ্যে একটা ক্ষুদেবার্তা দেয়া। এই লক্ষেই ভবিষ্যৎ এ কাজ করে যাবো৷ আমি মনে করি, আমরা আর্টিস্টরা নীরব কবি, সংস্কারক। তাই আর্টিস্ট হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব যে, যে কোন একটা অসংগতি অথবা কোন গল্প আমাদের কাজের মাধ্যমে তুলে ধরা, যাতে অন্যজন অনুপ্রেরণা পায়, স্বপ্ন দেখতে শিখে। এবং অবশ্যই আমাদের কাজের মধ্যে একটা স্বকীয়তা থাকা উচিৎ। শিল্প আর স্বকীয়তা দিয়ে বারবার আমরাই এই পৃথিবীকে সাজাবো।

এইতো বেশ ভালো আছি! ভালো লাগছে, তাই ভালো লাগাটাকেই ভালোবাসায় পরিনত করছি!

লেখকঃ জিয়াউর রহমান অভি, আর্কিটেকচার 2015-16,শাবি
সংগ্রহঃ Humans of SUST