• 15 May
  • 07:51 PM
মেডিকেল এডমিশন টেস্ট-২০১৯ দিতে ইচ্ছুক ছোট ভাই-বোনদের উদ্দেশে

সাব্বির হাসান রাব্বি,রমেক 15 May, 19

আসসালামু আলাইকুম।



আশা করি সবাই সুস্থ আছো। এইচএসসি-২০১৯ এর লিখিত পরীক্ষা শেষ। ব্যবহারিকও শেষ হয়ে যাবে কয়েকদিনের মধ্যেই। দুই চারদিন একটু বিশ্রাম নিয়ে নাও।কারণ তারপর আপাতত কয়েক মাস আর কোন বিশ্রামের সময় পাবেনা। এক মাসের ও বেশি সময় নিয়ে চলা পরীক্ষা শেষের পথে। তবে দুঃখের বিষয় হলো অল্প কিছুদিন পর ই শুরু হতে যাচ্ছে এডমিশন নামক মহাযুদ্ধ। তোমাদের জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট,কারণ এখানে নেওয়া তোমার প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত ও ফলাফল পরবর্তী জীবনে কোন না কোনভাবে তোমার জীবনে প্রভাব ফেলবেই।কে কীভাবে সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি নিতে পারো তার সামান্য কিছু সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছি।আশা করি একটু হলেও উপকৃত হবে।



সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যা তোমাকে অবশ্যই ভাবতে হবেঃ যারা এবার এইচএসসি দিলে তারা ঠিক করে নাও। যদি আগে থেকে ঠিক করা না থাকে যে কে কোন পথে যাবে।তাহলে দেরি না করে এখনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নাও। মনে রাখবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের মতামতকে আগে প্রাধান্য দিবে সাথে বাবা-মার মতামতকে। ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসি + এসএসসি রেজাল্ট ও বই এর ওপর ভাল দখল থাকা একটা বিশাল প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এব্যাপারটাও মাথায় রাখবা। আবেগে কোন সিদ্ধান্ত নিও না।এবার আসি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে।প্রত্যেক বছর ই কম বেশি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহের যে কোন শুক্রবার হয়ে থাকে।তাহলে বলতে গেলে হাতে সময় আছে পুরো চার মাস।এই চারমাসের প্রস্তুতি+দু বছরের এইচএসসি প্রস্তুতি ই সব কিছু নির্ভর করবে ওই এক ঘণ্টার পরীক্ষার ওপর।তাহলে আসো এবার কীভাবে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেঃ



১. মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে এস.এস.সি ও এইচএসসি মিলে কমপক্ষে জিপিএ- ৯.০০ লাগবে।২.গতবছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সার্কুলার নামিয়ে নাও নেট থেকে।তাহলে ভর্তি সংক্রান্ত অনেক তথ্য ও তোমার অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবে।



৩.মেডিকেলে আবেদন করতে মোট SSC+HSC GPA মিলিয়ে কমপক্ষে 9 থাকতে হবে এবং ভর্তি পরীক্ষা মোট 300 নাম্বারের হয়।এর মধ্যে 200 নাম্বার থাকবে SSC ও HSC র GPA র ওপর (SSC GPA×15+HSC GPA×25=200)।অতএব তুমি SSC+HSC GPA তে সব 5 পেলে অলরেডি 200 পেয়ে যাবে।কিন্তু এখানে যাদের স্কোর 190 এর নিচে চলে যাবে বা ভাবছো রেজাল্ট অনেক খারাপ হবে তাদের ভার্সিটির প্রস্তুতি নেওয়া ভাল(কারো প্রাইভেট মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছা থাকলে অন্য ব্যাপার)।আর বাকি 100 র মধ্যে নাম্বার বণ্টন টা এমন-Biology-30 Chemistry-25 Physics-20 English-15 General knowledge-10 (6 from National affairs and 4 from international affairs)



চান্স পেতে আমার মতে কমপক্ষে 265 র প্রয়োজন হবে।এক এক বছর cut mark এর পার্থক্য হয় প্রশ্নের মান ও মেডিকেল কলেজের সিট বাড়ার কারণে।



৪.সবাই 2019 এর নিম্নলিখিত বই গুলো কিনে ফেলোঃ(অবশ্যই লেটেস্ট এডিশন হতে হবে)



উদ্ভিদবিজ্ঞান- আবুল হাসান স্যার



প্রাণীবিজ্ঞান-গাজী আজমল ও আব্দুল আলিম স্যার



রসায়ন-হাজারী ও নাগ স্যার



পদার্থবিজ্ঞান- ইসহাক স্যার ও তপন স্যার



ইংরেজি-Apex (Apex পড়তে যদিও সময়একটু বেশিই লাগবে। তবে ভালো করে বিগত সালের প্রশ্ন গুলো সলভ করতে হবে)



সাধারণ জ্ঞান-মেডি জ্ঞানকোষ/MP3 (মেডি জ্ঞানকোষ টা শর্টকাটে মেডিকেলের প্রিপারেশনের জন্য ভাল বই।MP3 টা তারাই কিনো যারা DU এর ঘ UNIT এ পরীক্ষা দিবা।চোঁখ কান খোলা রাখবা।এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের খোঁজ খবর রেখো)



সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের জন্যঃ জুবায়ের GK (অবশ্যই পড়বা বইটা। প্রতিমাসে একটা করে এডিশন বের হয়।অল্প সময়ে সাম্প্রতিকের প্রস্ততিটা হয়ে যাবে)



সহায়ক বই হিসেবেঃ প্রশ্ন ব্যাংক ও রয়েল গাইড



৫.এবার কোচিং এর ব্যাপারে আসা যাক।সবাই যে ব্যাপারটা নিয়ে একটু বেশিই চিন্তিত। কোন কোচিং এ ভর্তি হবা তাই তো??যাদের নিজের এরিয়া তেই কোচিং সেন্টার আছে তারা প্লিজ কষ্ট করে দূরে কোথাও বা ঢাকায় যাওয়ার কোন দরকার নেই।এই চারটা মাস কোন অহেতুক কাজে সময় নষ্ট করার কোন মানে নেই।নতুন জায়গায় এডজাস্ট করতেই টাইম লেগে যাবে।আর এখন সব নামকরা কোচিং এর সব শাখা তেই কম-বেশি একই রকম সার্ভিস দেয়।তাই Retina/Medico /Unmesh যেটায় ভর্তি হও চলবে।নিজের এলাকায় থেকেই যথাসম্ভব কোচিং করার চেষ্টা করিও। [বি.দ্র-কোন কোচিং ই সব দিক দিয়ে ভাল বা স্বয়ৎসম্পূর্ণ নয়।সবার ই ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকে।কোচিং তোমাকে গাইডলাইন বা টেকনিক শেখায় দেবে।কিন্তু পড়তে হবে তোমাকেই।]



আর কোচিং যে করতেই হবে এমন কোন কথা নেই।কিন্তু কোচিং এ রেগুলার পরীক্ষা হয় ও তোমার পড়া যাচাই হয়।৬.তোমাকে একটা টার্গেট ধরে আগাতে হবে।যেমন কোচিং এ বা বাসায় একটা পড়া দিল বা আজ কোন পরীক্ষা দিলে।সবার প্রথমেই যখন নিজে পড়তে বসবে তখন ই আগে নিজের ভুল গুলোর উত্তর বই খুলে আবার দেখবে।এতে তোমার সেই ভুল গুলো করার চান্স ও কমে যাবে ও আবার পড়াও হয়ে গেল।এসবের পর তোমার প্রতিদিনের পড়া শুরু করবে।আগে চ্যাপ্টার গুলো সব যাস্ট একবার পুরোটা রিডিং দিয়ে যাবা সব লাইন বোঝো আর না বোঝো।এরপর দাগায় দেওয়া লাইন গুলো পড়বে ভাল করে।তারপর অনুশীলনে mcq গুলো পড়বে।এবং সবার শেষে কোন সহায়ক বই থেকে ওই চ্যাপ্টার গুলোর mcq আবার দেখবে।এভাবে 3-4 টা চ্যাপ্টার পড়তে 4-5 ঘণ্টা সময় লাগবে।এরপর GK+English চলবে 2 ঘণ্টা র মতো।অর্থাৎ দৈনিক 7-8 ঘণ্টা কমপক্ষে নিজের পড়তে হবে পরীক্ষার আগ পর্যন্ত।কারো কারো বেশিও লাগতে পারে।



৭.এই কয়টা মাস নিজের মনোযোগ,ধ্যানজ্ঞান অন্যদিকে দিও না।পরীক্ষার পর আরো সময় পাবা অনেক।কিন্তু এই সময় টা পাওয়া আবার হয়তো হবে না।



৮.আর ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ও মানসিকতা নিয়েই মেডিকেল কোচিং এ যেয়ো আর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করো।নিজের জন্য ডাক্তার হতে এসো,মানবদেহ সম্পর্কে জানতে ও মানুষের রোগ ধরতে এবং নিরাময় করতেই ডাক্তার হতে এসো।বাবা-মা র জন্য নয়।শখের বসেও নয়।কারণ মেডিকেলে প্রথম ডাক্তার হতে ও জুনিয়র ডাক্তার থেকে বিশেষজ্ঞ হতে অনেক কষ্ট করতে হয়,ধৈর্য ধরতে হয়।তাই সব বুঝেশুনেই এই পথে এসো।