• 17 July
  • 07:12 PM
দেখিয়ে দাও তুমি পরাজিত নয়, বিজয়ী!

মঈন উদ্দীন আহমদ শিবলী 17 July, 19

এতোদিন ছেলেটা হাসিখুশি। আজ হঠাৎ বদলে যাবে।মেয়েটা এতোদিন ইন্জিনিয়ারিং কোচিং করছিল।আজ থেকে নাকি আর কোচিংএ যাবে না! হুট করেই বদলে যাবে তাদের আচরণ-অভ্যাস। কেউ তাদের সাথে আগের মতো কথা বলে না। তাদের কাছে অসহ্য মনে হবে এ পৃথিবী। তারা কোন পাপ করে নি।তারা এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করেছে। এটা আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র।

আজ এইচএসসির ফলাফল প্রকাশিত হলো।কেউ হাসছে,কেউ কাঁদছে। কেউ ভাবছে সে বিজয়ী আর কেউ ভাবছে সে পরাজিত। পরিবারও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সহায় হয় না। সবাইকে ভাবা হয় সমাজের বোঝা। তারাও হতাশ হয়ে পড়ে।ভাবে,সব শেষ।আদতে যে কিছুই শেষ হয়নি সেটা আমাদের পরিবার, সমাজ কেউ বোঝানোর চেষ্টা করে না।

আজকে যারা ফলাফল খারাপ করেছো,তাদের হতাশ হবার কিছুই নেই। তোমাদের স্বপ্নও যে পূরণ হবে না এমনটি নয়।তোমার স্বপ্নও পূরণ হবে। তবে তা জন্য হয়ত ভিন্ন পথ ধরতে হবে।কিন্তু চেষ্টা থাকলে তোমার স্বপ্ন পূরণ হতে বাধ্য। এটা তুমি না মানতে পারো।তবে এটা প্রাকৃতিক সত্য!শুধু তোমাকে একটু দৃঢ় হতে হবে,বিশ্বাস রাখতে হবে।আত্মবিশ্বাস হারানো চলবে না।

আজকের দিনে কেউ আত্নবিশ্বাস হারালে তোমাকে সারাজীবন এর খেসারত দিতে হবে। তোমার এ হারানো আত্মবিশ্বাস তুমি চাকুরির বাজারে গিয়েও ফিরে পাবে না। প্রত্যয়ী হতে পারবে না। বেকারত্ব সঙ্গী হয়ে লেগে রবে। কিন্তু তোমার আজকের সিদ্ধান্ত তোমার ভবিষ্যৎ গাঁথবে।কিছুই লাগবে না! শুধু ভাবো,তুমি পরাজিত নও,কিছুই হারাওনি। আবার উঠে দাঁড়াও,যে ভবিষ্যৎের জন্য এতোদিন লেগে ছিলে আজও একই ভবিষ্যৎের জন্য। আগের মতো পড়া শুরু করো।এতে তোমারই ভালো হবে।

ধরো,তুমি ইন্জিনিয়ারিং এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ।এইচএসসিতে জিপি৫ আসেনি।ভাবছো,ভালো কোন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে না। সাধারণ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। সমাজের সামনে মুখ থাকবে না। এ নিয়ে ভেবে হতাশ হবার কিছুই নেই। তুমি চেষ্টা চালিয়ে যাও। তুমি সাধারণ থেকে অসাধারণ কিছু হবার চেষ্টা করো। শুধু হাল ছেড়ো না।একদিন দেখবে তুমি ভালো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীকেও ছাড়িয়ে গেছ।

আজ যারা অনেক বাজে চিন্তা মাথায় আনছো,সব ঝেড়ে ফেল। "আমার মনে হয় চান্স হবে না","আমি পারবো না"-এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল।প্রত্যয়ী হও।সময় এখনো ফুরোয়নি। আর হ্যাঁ, সমাজ কী বলবে?সমাজটা আমাদের। এটাকে বদলানোর দায়িত্বও আমাদের। যে সমাজ তুমি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে বলে ঠাট্টা করছে তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিও। তুমিও সেরা!তুমিও বিশ্বমানের! তুমিও বিশ্বমন্ঞ্চের প্রতিযোগী। সেদিন সমাজ তোমাকে ঠিকই বাহবা দেবে। শোধরে নেবে নিজেকে।শুধু সেদিনের অপেক্ষায় থেকে আজ তোমাকে আরো একবার গুছিয়ে নাও। হতাশ মনে হলে,মা-বাবার চেহারা মনে করো। শুনো,আমাদের সমাজকে আমাদের বদলাতে হবে। বুঝাতে হবে,শোধরাতে হবে।জিপিএ ৫ সবকিছু নয়,এটা বুঝানোর জন্য এগোতে হবে। চলো তবে বদলে দেই সবাইকে,গুছিয়ে নেই সবাইকে। জিপিএ-৫পাইনি তো কী হয়েছে? মুখে একটু হাসি এঁকে একটা বিজয়ের চিন্হ দেখাই।তারপর প্রস্তুতি নাও বিজয়ের। এ বিজয়ের চিন্হই তো একটু আগে দেখালে!