• 30 Mar
  • 06:05 PM
ঢামেকের সাবেক ছাত্রী মানসীর ৬৪ জেলা ভ্রমণ

30 Mar, 19

সেই ছোট্ট বেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলা ভ্রমণ করবেন।আজ তার মনের আশা পূরণ।ঘুরেফিরে দেখেছেন বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলা আর উপভোগ করেছেন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক স্বতন্ত্র সৌন্দর্য। তার নাম ডাঃ মানসী সাহা তুলি । ঢামেক থেকে এমবিবিএস শেষ করেছেন।

৬৪ জেলার ভ্রমণের কথা তিনি সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে জানান।তার ফেইসবুকের স্টাটাস হুবহু দেওয়া হল।

আজ একটা বিশাল প্রাপ্তির দিন। ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষ হইল।

তখন খুলনায় থাকি। করোনেশন স্কুলে পড়ি। দিন রাত গোগ্রাসে গল্পের বই পড়ি। বই এর পাতায় পাতায় দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াই। ঢাকাকে তখন মনে হত ভিনগ্রহের রাজধানী আর ঢাকার মানুষকে এলিয়েন। তখন সময় ছিল বাদশাহী আংটির লখনৌ, গ্যাংটকের গন্ডগোল, ডুয়ার্সের চা বাগান, মাসুদ রানার সাথে সাগরের গভীরে ডুব দিয়ে আসার। এমন সময় ছোড়দা একদিন ঘুরে এসে শোনায় এক দূর্গম লেকের কথা। অনেক কঠিন আর পাহাড়ী জংগলের পথ। তখন দুইহাজার চার পাঁচ সালের দিকে। হাতে গোনা অল্প কিছু মানুষ তখন সেখানে যেত। লেকের নাম বগা লেক। নামেই শিহরণ। তখন ভেবেছিলাম, বড় হই, একদিন যেতেই হবে সেখানে।

ঘোরার নেশা তারপর ঢুকে মেডিকেলে পড়তে এসে। আগুনে ঘি ঢালার কাজটা করত সাকু। একটা দুইটা করে নতুন জেলায় পা রাখা শুরু। হিসাব রাখা শুরু করলাম দশ টা হয়ে যাওয়ার পর। এর মধ্যেই শুরু করলাম নারীর চোখে বাংলাদেশ প্রজেক্ট। ৬৪ জেলা ঘুরব। নেশা তো বাড়তেই লাগল। মেঘনার পাশে রাত কাটানো, ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে দিয়ে সাঁই সাঁই করে বাইক চালিয়ে যাওয়া, বান্দরবানের গভীর ঝিরি পথে হেঁটে বিশাল ঝর্ণার দেখা পাওয়া, বঙ্গোপসাগরের নীল জলের পাশে চুপ করে বসে থাকা, নিঝুম দ্বীপে তারার সাথে ক্যাম্পিং,ছোট বেলার সমাজবিজ্ঞান বই এর পাতায় ছাপার অক্ষরে লেখা শব্দ গুলোকে নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। এই ছোট জীবনে এটাই বা কম কি।

বলা হয়ে থাকে ভ্রমণ সুখকর যখন ভ্রমণসঙ্গী মনের মত হয়। আর ভ্রমণকন্যার মত ভ্রমণসঙ্গী আর কয়জন হয়। তারা ছিল বলেই এই চৌষট্টিটা জেলার অভিজ্ঞতাগুলোর অনুভূতি চৌষট্টি লক্ষ গুণ বেড়ে গেছে।

আর, কি দেখলাম, কি পেলাম? প্রাণ ভরে পুরো বাংলাদেশ টা কে দেখলাম। এদেশের মানুষকে দেখলাম। 'স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা' গানটা গাইবার সময় এখন শুধু সুর তাল মিলিয়েই গাইব না। মন আর প্রাণ ও তার সাথে ঐকতান দিবে। সে আসলেই সকল দেশের রাণী।