• 03 Oct
  • 06:24 PM
সমস্যার কেন্দ্রে আপনি কখনও সমাধান পাবেন না– গ্রেটা থানবার্গের প্রতি হ্যাকার সংগঠন অ্যানোনিমাস

03 Oct, 19

এটি গ্রেটা থানবার্গের উদ্দেশ্যে অ্যানোনিমাসের একটি বার্তা।
আমরা অনেক বিষয়েই আপনার সাথে একমত, বড় বড় দেশগুলো এবং ক্ষমতাবান কোম্পানীগুলো আসলেই আমাদের পৃথিবীটাকে নষ্ট করছে। যাইহোক, কিন্তু আপনার সাবধান থাকা উচিত, কারণ এই মানুষগুলো আসলে অনেক ক্ষমতাবান। এদের অনেকেই এখন আশেপাশে ঘুরঘুর করছে।

এরা শুধু আপনাকে একটা ব্রান্ড বানিয়েই রেখে দিতে চায় এবং সেই প্রক্রিয়া কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।

মানুষ আপনাকে দেখছে, আপনার প্রশংসা করছে, কিন্তু আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত, সেগুলো নিয়ে কয়জন ভাবছে?
যেসকল রাজনীতিবিদদের সাথে আপনি ছবি তুলেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই সেইসব কোম্পানীর সাথে জড়িত, যাদের বিরুদ্ধে আপনি বলেছেন।

আমাদের গ্রহকে রক্ষা করার জন্য আপনি যেসব পদক্ষেপের কথা বলছেন সেগুলোর মধ্যেও অনেকগুলোই এমন যে ওগুলো শুনতে ভালো লাগছে, কিন্তু আসলেও এতে করে ভালো কিছু হবে না। যেমন ধরুন অতিরিক্ত কার্বন করের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানী কোম্পানীগুলোর তেমন কোন সমস্যা হবে না! শুধু তাদের ব্যবসায় একটু বেশী টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। যেটা সম্ভবত তাদের একদিনের অর্জিত মুনাফার সমানও না!

আবার দেখুন, এদের বিরুদ্ধে আপনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন? এরা এতোটাই ক্ষমতাবান যে এরা নিজেদের জন্য একটা বিরাট আইনজীবি দল আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখেন, যাতে করে এইসব ঝামেলা এড়ানো যায়।

আরও একটা ব্যাপার কি জানেন? এদের বাৎসরিক বাজেটেও কিন্তু এইসব ব্যাপারে যে টাকাটুকু যাবে সেটুকু নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
চিন্তা করেছেন কতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে এরা আমাদের গ্রহটাকে নষ্ট করেছে?
যেসব পদক্ষেপের কথা আপনি বলছেন সেগুলো শুধুই ছোটখাটো কোম্পানীগুলোতে বিপদে ফেলে দেবে। কারণ ওদের টাকাও নেই, তাই ওরা এইসব ব্যবস্থা করতেও পারে না।
মোট কথা, এইসব কর যতোই বৃদ্ধি করা হোক না কেন, ওরা থামবে না!
আরও ভালো করে বোঝাই? কার্বন করের জন্য একটা গাড়ির মালিক মধ্যেবিত্ত মানুষটাকেও পাই-পয়সা আকারে পুরো করটাই শোধ করতে হবে। কিন্তু বড় কোম্পানীগুলো ঠিকই ফাঁক খুঁজে নেবে।
কারণ কী জানেন? ওরাই রাজনীতিবিদদের চালায়।

কর আরোপ করে আসলে তেমন কিছুই হবে না। এই যে এতো কর দিচ্ছে পশ্চিমা দেশের নাগরিকেরা, সেই টাকাগুলো কোথায় যাচ্ছে? কেউ এর হিসাব জানে?
খারাপ কাজ তো খারাপ কাজই! আপনি চুরির টাকা দিয়ে হাসপাতাল করলেই কি আপনার টাকাটা ভালো হয়ে যায়?
প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাজেট হচ্ছে পৃথিবীতে আবার ‘সবুজ’ বানিয়ে তোলার জন্য। কিন্তু তারপর? তারপর কী হয়? কেন পৃথিবীর এই অবস্থাই থেকে যায়? টাকাগুলোর কী হয়?
এগুলোর উত্তর কি কেউ জানে?
যেমন ধরুন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, যার সাথে আপনি কয়েকদিন আগেই দেখা করেছেন। উনি কিছুদিন আগে বলেছেন যে তেলের পাইপলাইন থেকে প্রাপ্ত কর থেকে গাছ লাগাবেন, বনায়ন কর্মসূচি গ্রহন করবেন...ইত্যাদি ইত্যাদি!
কানাডার আদিবাসীদের কাছ থেকে ক্রমাগত তাদের ভূমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে! সেখানে তেলের ব্যবসা জমজমাট করে তোলা হচ্ছে।

আর এই গাছগুলো ট্রুডো কোথায় লাগাবেন? মন্ট্রিলে? নাহ, দেখুন গিয়ে যে এইসব দখল করা ভূমির এক জায়গাতেই উনি গাছটাছ লাগিয়ে দু-চারটা ছবি তুলে নিজেকে ‘গ্রীন আর্থ’এর সমর্থক বলে সংবাদমাধ্যম কাঁপিয়ে দেবেন।
এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে পৃথিবীর এই অবস্থার জন্য ক্ষমতাবান দেশগুলো সেনাবাহিনীগুলোও দায়ী।
আমেরিকা, তাদের পশ্চিমা মিত্ররা, রাশিয়া এবং চীনের সেনাবাহিনীর নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলেই জলবায়ুর যে ভয়ানক পরিবর্তন হচ্ছে, তা নিয়ে কজন মানুষ ভাবে?

যারা আমাদের পৃথিবীটাকে শেষ করে দিচ্ছে, তাদেরকে প্রতিদিন আমরা টিভি আর ইন্টারনেটে দেখি, উনারা ভালোমানুষ সাজার চেষ্টা করেন! আমরাও তালি দেই!
ওহ হ্যা, মাঝে মাঝেই এদের গোমড় ফাঁস হয়ে যায়, তখন এদের কাছ থেকে বিরাট অংকের ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়!
কিন্তু ক্ষতিপূরণটা আমাদের কাছে বিরাট হলেও এদের কাছে নগণ্যই! ব্যাপারটা এমন যে এদের ধরে এনে পিঠে একটা চাপর দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো।
আমাদের গ্রহকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু তার চেয়েও বড় দায়িত্ব হলো সেইসব মানুষদের হাতে সমাধানের ভার না দেওয়া যাদের কারণে সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে।
আজ যারা আপনার আশেপাশে ঘুরছে এদের মধ্যে বেশীরভাগই আমাদের গ্রহের এই অবস্থার জন্য দায়ী। এদের থেকে সাবধান থাকুন, এদের সাথে ছবিতোলা থেকে বিরত থাকুন, মনে রাখবেন সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে কখনো সমাধান পাওয়া যায় না।

আপনি যদি সত্যিই আমাদের গ্রহটাকে ভালোবেসে থাকেন তবে প্রথমে তাদের ঘৃণা করতে শিখুন যারা আমাদের সুন্দর গ্রহটার এই অবস্থা করেছে।
আমরা অ্যানোনিমাস,
আমরা গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছি,
আমরা কখনও ভুলি না,
আমরা কখনও ক্ষমা করি না।

অনুবাদক- লুৎফুল কায়সার
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, রুয়েট