• 15 May
  • 10:32 PM
রোহিঙ্গারাই বর্তমানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্তের প্রতি বড় হুমকি! (Part-1)

15 May, 19

মিয়ানমারের সেনা ও রাখাইনদের চালানো পরিকল্পিত পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের সময় পালিয়ে সীমান্তবর্তী দেশ বাংলাদেশে এপর্যন্ত অনুপ্রবেশ করেছে প্রায় ১২-১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয়রা সেসময় তাদের প্রতি একধরনের সহমর্মিতা ও মানবিকতার কারণে তাদেরকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে তাদের সেই সহানুভূতি ভোতা হতে বসেছে। এ যেন খাল কেটে কুমির আনার মত বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের অপকর্ম, অত্যাচার, নির্যাতনে অতিষ্ঠ স্থানীয় জনগোষ্ঠী। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুন, হানাহানি, নিজেদের মধ্যে মারামারি, পুলিশ ও স্থানীয়দের ওপর হামলা এগুলো প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়া ইয়াবা পাচার, চুরি- ডাকাতি, মানব পাচার, হামলা, বনভূমি দখল, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজেওজড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা । এসব কারণে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা সহ সমগ্র দেশবাসী।

তবে তাদের অপকর্ম এখন আর শুধু ঐ কক্সবাজার উখিয়া টেকনাফ আর রোহিঙ্গা পল্লিতেই সীমাবদ্ধ নেই, এখন তাদের অপরাধ সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়ে পড়েছে এবং রীতিমতো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি থ্রেট হয়ে দাড়িয়েছে দেশে ও বিদেশে। তাদের সৃষ্ট কিছু অপরাধমূলক কর্মকান্ডের নমুনা নিয়েই আজকের লেখা :ঃ----

★★ বাংলাদেশের শ্রমবাজার ধ্বংস ::: কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশী ভূয়া পাসপোর্ট সংগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের বিদেশে পাচার করছে। তাদেরকে সহায়তা করছে অর্থলোভী অসৎ কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও বিমানবন্দরের কিছু অসাধু নিরাপত্তাকর্মী। গোয়েন্দা রিপোর্ট মতে বিমানবন্দরকেন্দ্িক ১০০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে যারা হযরত শাহজালাল ও শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে তাদের নিরাপদে বহির্গমনে সহায়তা করছে। যাদের মধ্যে থেকে গতবছরে ১৫৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। তারা বিদেশ যেয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে, তারা সেখানে নানা রকম অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হচ্ছে যার ফলে বাংলাদেশের সুনাম ও শ্রমবাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া নদীপথেও প্রচুর রোহিঙ্গা মালয়েশিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে। গত কিছুদিন আগেও ১০৫ জনকে পাচারকালে নৌকা ডুবিতে ৪০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হয়েছে, বাকি সবাইকে আটক করেছে মিয়ানমার কোস্টগার্ড। তাছাড়া এই চক্র ২০১৮ সালে ৫০০'শর বেশী রোহিঙ্গা পাচার করেছে যারা সবাই বাংলাদশী পাসপোর্ট ব্যবহার করেছে। মধ্যপ্রাচ্য আমাদের জন্য অন্যাতম একটি শ্রম বাজার, অথচ এই রোহিঙ্গাদের সৃষ্ট কর্মকান্ডের জন্য বাংলাদেশের উপর এটার বিরুপ প্রভাব পড়ছে ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশী শ্রমিক নেওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

★★ মাদক চোরাচালান ::: বর্তমানে রোহিঙ্গা পল্লীতে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্ত উপকূল ব্যবহার করে তারা এই মাদক আমদানী করছে এবং তা একটা সরব চক্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার হচ্ছে। মাদকের যোগান পর্যাপ্ত হওয়ার কারনে কমদামেই মাদক পৌছে যাচ্ছে হাতের নাগালে, ফলে সহজের যুবসমাজের এই মাদক গ্রহন করছে ও নিশ্চিত ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। গত ০৬ মে টেকনাফে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়, যাদের কাছে বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র, ৭ রাউন্ড গুলি, ২০০০ পিস ইয়াবা ও সাড়ে ছয় লাখ টাকা পাওয়া যায়। তারা সেই ভোরে টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে ইয়াবা বিনিময় করছিল।
মাদক মুলত জল- স্থল দুই পথেই আসছে, রোহিঙ্গা পল্লীগুলোর ভেতরে সবসময় প্রশাসনের নজর রাখা সম্ভব হয় না সেখানকার ঘিঞ্জি পরিবেশের কারনে এবং তারা অত্যান্ত হিংস্র, যখন তখন যে কাউকেই হত্যা করতে পিছপা হয় না তারা, অত্যান্ত বর্বর জাতিও তারা বটে, আর এই সুযোগটা তারা কাজে লাগিয়ে ক্যাম্প গুলোকে মাদকের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলছে।

★★ গুপ্তচরদের আস্তানা ::: রোহিঙ্গাদের সাথে সাথে মিয়ানমার সরকারের কিছু গুপ্তচরও শরনার্থী সেজে এদেশে ঢুকে পড়ে। তারা কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় অবস্থান করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করছে। তাদের মধ্যে সবসময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। কিছু অস্বাভাবিক খুন খারাবি তারা করেছে যেগুলো রোহিঙ্গাদেরকেও ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলেছে, যেমন রোহিঙ্গা নেতা আরিফ ও ৩ নেতা সহ ২৫ জন কে খুন করে তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে তৈরী করেছে । সাধারণের বেশে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, তারা দেশের তথ্য পাচার করে তারা এদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।
এদের মধ্যে গুপ্তচর " আখতার আলম " কে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ বাহিনী ও সাথে ২৭ জন হিন্দুও ছিল যারা বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিতো, যদিও পরে তাদেরকে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মীরা সেখানে মিয়ানমারের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে, তারা বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত করছে, তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে ছড়িয়ে যেতে সাহায্য করছে গোপনে। তারা মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন এজেন্ডা এদেশে বাস্তবায়ন করে রোহিঙ্গা সংকটকে জটিল করো তুলছে যা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্টতই হুমকী।
এছাড়া রোহিঙ্গা স্বর্ণ ব্যাবসায়ীরাও সরকারের কাছে তথ্য দিয়ে তাদের আনুকুল্যে যাওয়ার চেষ্টায় গুপ্তচরবৃত্তি করছে এদেশে।।

★★ খুনখারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ::: আশ্রিত রোহিঙ্গারা আস্তে আস্তে হিংস্র হয়ে উঠতেছে। স্থানীয়দের উপর হামলা, নিরাপত্তা রক্ষীদের উপর হামলা, নিজেদের মধ্যে মারামারি, হত্যা খুন খারাবি-তে মেতে উঠেছে তারা। কক্সবাজার ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে ছোট- ছোট অনেক সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। তারা ব্যবহার করছে দেশী- বিদেশী বিভিন্ন ছোটবড় অস্ত্রপাতি। উখিয়া ক্যাম্পের বালুখালিতে সম্প্রতি র্যাব অভিযান চালিয়ে এমন কয়েকটি বাহিনীকে আটক করেছে। তারা আক্রমন করপ সম্প্রতি ২ জন স্থানীয়কে খুন করেছে। গতবছরের ১৯ অক্টোবর মৌলভীপাড়ায় আঃ সিদ্দিক নামে একজনকে এক রোহিঙ্গা ছুরিকাঘাত করে, পরদিন তার মৃত্যি হয়, একই মাসের ২৮ অক্টোবর রামুর রোহিঙ্গাপল্লির এক রোহিঙ্গা যুবক দা দিয়ে কুপিয়ে জাবাই করে হত্যা করে স্থানীয় এক যুবককে। ২৭ অক্টোবরে উখিয়ার বালুখালির রোহিঙ্গাপল্লিতে হামলায় ৫ বাংলাদেশী গুরুতর আহত হন, পুলিশ সশস্ত্র অবস্থায় ১০ রোহিঙ্গাকে আটক করে। ১৬ সেপ্টেম্বর তারা নিজেরাই একজন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে, ১৭ ই সেপ্টেম্বর তারা স্থানীয় একজন মুরগীর খামারিকে হত্যা করার উদ্দেশ্য আঘাত করে। ১৮ ই সেপ্টেম্বর বান্দরবানের ঘুমধূম উপজেলার সীমান্ত থেকে গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একদিন রাতে স্থানীয় লোকালয় থেকে ৬ টি মোবাইলফোন চুরি করে পালাবার সময় গ্রামবাসীর হাতে আটক হয় এক রোহিঙ্গা।
তাছাড়া ডাকাতি করতে গিয়েও এখন পর্য়ন্ত অনেক রোহিঙ্গা আটক হয়েছে যাদের কে প্রহর করে স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়।

রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক সকল কর্মকান্ড পর্যবেক্ষন করে এটা প্রতীয়মান হয় যে, তারা যদি দীর্ঘমেয়াদে এদেশে অবস্থান করে তাহলে দেশের আইনশৃঙ্খলা অবস্থার ভয়ানক অবনতি ঘটবে, যুবসমাজ যারা আগামীদিনের ভবিষ্যত তারা মাদকের গর্ভ পড়ে ধ্বংস হবে, দেশের সর্বত্র অস্ত্রসস্ত্র সহজলভ্য হয়ে যাবে যা আমাদের জীবনকে নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিবে, ব্যাপক বন ও পাহাড় ধ্বংসের কারণে প্রাকতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে যা বিভিন্ন প্রকৃতিক দূর্যোগ ডেকে আনবে। রোহিঙ্গাদের বংশবৃদ্ধির ফলে কক্সবাজার, টেকনাফ, রামু অঞ্চলের স্থানীয় জনগনের জীবন হুমকির মুখে পড়বে। ঐঅঞ্চলের আবহাওয়া বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে, পর্যটনশিল্প ধ্বংস হবে, যা সর্বোপরি বাংলাদেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিবে।

তাই আমাদের সরকারের দ্বায়িত্বশীল সকল কর্মকর্তা ও বিশ্বনেতাদের কাছে বিণীত অনুরোধ থাকবে, তাদের কে যতদ্রুত সম্ভব পুনরায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ব্যাবস্থা করুন, নতুবা বাংলাদেশের জন্য এক বৃহৎ বিপর্যয় অবস্থান করছে। এককথায়, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক , রাজনৈতিক সহ সর্বক্ষেত্রে এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



মোঃ মারুফুজ্জামান,
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।