• 09 May
  • 09:29 PM
বুটেক্স শিক্ষার্থীর পলিথিনের বিকল্প উদ্ভাবন

তাওহীদ মেহেদী, বুটেক্স প্রতিনিধি 09 May, 19

সম্প্রতি এশিয়ার সেরা ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান না পাওয়ার
পেছনে বিশেষজ্ঞগন গবেষণার অভাবকে দায়ী করেছেন। সেই অভাব দূর করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছেন, ইতিমধ্যেই তিনি সহপাঠীদের কাছে 'পরিবেশ চিন্তাবিদ' তকমা পেয়েছেন।

তানভীর উদ্ভাবন করেছেন মিষ্টি আলু থেকে পলিথিন সদৃশ বস্তু ‘‘ইকো স্টার্চ’’। যা শুধুমাত্র পরিবেশ বান্ধবই নয়, বরং পরিবেশের মাটির উর্বরতা বাড়াতেও সহায়তা করবে।

মিষ্টি আলুর বিশেষ উপাদান থেকে তৈরি এক ধরনের পলিমার এই ইকো স্টার্চের মূল উপাদান। মাত্র দেড় কেজি মিষ্টি আলু থেকে প্রাপ্ত ২৫০ গ্রাম ইকো স্টার্চ থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ৫০টি ব্যাগ। প্রত্যেকটি ব্যাগের আয়তন প্রায় ২৮৮ বর্গ ইঞ্চি। যা মূলত পণ্য বহনের পাশাপাশি অল্প জায়গায় অধিক পরিমাণে পণ্যদ্রব্য স্টোর করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

ইকো স্টার্চ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা মূলত ইকো স্টার্চকে 'ওয়ান টাইম' বস্তু হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা। কারণ, পলিথিন জাতীয় প্লাস্টিকের অনেক ব্যবহার থাকলেও প্লাস্টিকের তুলনায় পলিথিন আমাদের পরিবেশের জন্য অধিক হুমকি স্বরূপ। কেননা, পলিথিন কেবলমাত্র একবার ব্যবহার করেই পরিবেশে ফেলে দেয়া হয়। অন্যদিকে ইকো স্টার্চে ক্ষতিকারক রাসায়নিক নেই বলে এর প্রস্তুতিও পরিবেশ বান্ধব।’

তানভীরের উদ্ভাবিত ইকো স্টার্চের উপাদান পলিমারটি ইকো স্টার্চের পাশাপাশি কাগজ তৈরিতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, ‘স্পিনিং মিলের কটন ডাস্ট থেকে বীজ আলাদা করে উক্ত ডাস্ট থেকে মিষ্টি আলুর এ উপাদান দিয়ে কাগজ তৈরি করা যাবে। ফলে কাগজ তৈরিতে ব্যবহৃত গাছের ওপর চাপ কমে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দুইটা না, ইকো স্টার্চ আরও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। ইনোভেশন ফেয়ারে আমি শুধু এর দুইটি ব্যবহার দেখিয়েছি '।

এর আগে গত সোমবার (৬ মে) বুটেক্সের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট (টিইএম) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত 'আইডিয়া এবং ইনোভেশন ফেয়ার' এর মাধ্যমে তানভীরের এই উদ্ভাবন প্রকাশ পায়। বেস্ট কর্পোরেশন এর সহায়তায় 'উদ্ভাবনই পরবর্তী বড় জিনিস' স্লোগানে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দুইটি ক্যাটাগরিতে মোট ২১টি দল অংশ নেয়। যার প্রোটোটাইপ ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়া দলগুলোকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয় তানভীরের 'ইকো স্টার্চ' প্রকল্প।