• 24 May
  • 09:14 PM
রাবি শিক্ষকের নতুন উদ্ভাবন কাঁচা মরিচের গুড়া

রাবি প্রতিনিধি 24 May, 19

প্রতিদিনের রান্নায় শুকনো মরিচের গুঁড়ো বেশি ব্যবহার হলেও তরকারি, সালাদ বা অন্য খাবার তৈরিতে কাঁচা মরিচের চাহিদাও কম নয়। নিত্যপণ্য, দামের ওঠানামা ও দ্রুত পচনশীল হওয়ায় কাঁচা মরিচ নিয়ে নানা ঝক্কি পোহাতে হয়। সেসব বিবেচনায় বাজারজাতকরণের উপযোগী কাঁচা মরিচের গুঁড়ো তৈরি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনজুর হোসেন।

দুই বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উদ্ভাবিত এই গুঁড়ো ব্যবহার করা যাবে কাঁচা মরিচের বিকল্প হিসেবে। কোনো ধরনের রাসায়নিক ছাড়াই তৈরি গুঁড়োর রং, ঘ্রাণ, স্বাদেরও কোনো পরিবর্তন হয়নি। গবেষক এর নাম দিয়েছেন ‘গ্রিন চিলি পাউডার’। এই গুঁড়োর রং কাঁচা মরিচের রঙের মতোই। দামও বেশি নয়।




অধ্যাপক মনজুর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুকনা মরিচের গুঁড়ো খেলে অনেকের আলসারের সমস্যা হয়। এতে তেমন কোনো পুষ্টিগুণও থাকে না; যেটা কাঁচা মরিচে থাকে। তাই কাঁচা মরিচকে ডিহাইড্রেশন করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এ গুঁড়োটা তৈরি।’ তিনি জানান, কাঁচা মরিচের এই গুঁড়োয় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘বি-৬’ রয়েছে। এর উচ্চশক্তির ক্যাপসাইসিন মেদ কমায় এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধি কমিয়ে হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এই গুঁড়োর মানের স্বীকৃতি দিয়েছে বলে জানান গবেষক।

জাপানি অধ্যাপক কিনজি টিসুজির তত্ত্বাবধানে ও আর্থিক সহায়তায় দুই বছর আগে এ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। রাজশাহীর কাটাখালী এলাকার ক্যানসার হাসপাতাল-সংলগ্ন আলো আশার স্কুলে চলে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এই গবেষণা দলে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জরিপ করে দেখেছেন এই গুঁড়োর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হলে এতে আর্থিক সাফল্য পাওয়া যাবে।



মজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, বিশ্বে কাঁচা মরিচের গুঁড়ো উদ্ভাবন এটিই প্রথম। এতে কেন্দ্র করে কোনো কোম্পানি বা নতুন মার্কেট গড়ে উঠলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এ গুঁড়ো বিদেশে রপ্তানিও করা যাবে।’