• 04 Nov
  • 07:22 PM
ডা. ফাতেমা,শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 04 Nov, 19

নবজাতক শিশুর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন নাহার ফাতেমা। যিনি বাংলাদেশে প্রথম শিশু হৃদরোগ সার্জন হিসেবে কাজ শুরু করেন। সফলতার সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা করেছেন। এ বছর চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান রাখায় দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করেছেন।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় প্রথম তিনিই এ পদক অর্জন করেন।

তাঁকে বাংলাদেশের ‘মাদার অব পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট’ বলা হয়। সম্প্রতি ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল প্রশাসনিক ভবনে আলাপকালে তিনি বলেন, "যে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছি, তার জন্য স্রষ্টার নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছি। মানুষের ভালোবাসা আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। শিশুর জন্মগত হৃদরোগ সারিয়ে তোলার পর যে আনন্দ পাওয়া যায়, তা সব আনন্দের চেয়ে বহুগুণ বড়"।

চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পেশার শুরুতে বিদেশের মাটিতে প্রশিক্ষণরত থাকাকালীন কঠিন এক মুহূর্ত অতিক্রম করেছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতায় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়াসহ বহুদিন আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে বেঁচে যাওয়ার পর পণ করেছিলেন ফিরে পাওয়া জীবন বিলিয়ে দেবেন জনসেবায়। বিনামূল্যে শিশুদের চিকিৎসা করবেন। ডা. ফাতেমা শিশু চিকিৎসার আরেক প্রতিকৃৎ অধ্যাপক ডা. এমআর খানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন ‘চাইল্ড হার্ট ট্রাস্ট বাংলাদেশ’। তার মা-বাবার নামে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ওয়াদুদ-ময়মুন্নেছা ফাউন্ডেশন’। যে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ফ্রি চিকিৎসাসেবাসহ ওষুধ দিয়ে আসছেন তিনি।

ডা. ফাতেমার স্বপ্ন অনেক বড়। দেশের মাটিতে শিশুদের চিকিৎসায় একটি বিশেষায়িত জাতীয় কার্ডিয়াক হাসপাতাল তৈরি করতে চান। যেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে। যেখানে অসচ্ছল মা-বাবার সন্তানরা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবে।