• 22 Oct
  • 06:49 PM
গার্মেন্টসে চাকরি করতে চাওয়া সেই মেয়েটির স্বপ্নপূরণে ঢাবি ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিনিধি 22 Oct, 19

আর্থিক অনটনে গার্মেন্টসে চাকরি করতে যেতে চাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'খ' ইউনিটে সদ্য চান্সপ্রাপ্ত সেই মেয়েটির পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

অদম্য এই মেধাবীর নাম শান্তনা রানী সরকার। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ৮৫০ তম স্থান অর্জন করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস 'ডেইলি বাংলাদেশ' কে বলেন, "এরকম যে কয়জনই অস্বচ্ছল থাকবে, তাদেরকে আমরা সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে, প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে, তাদের ভর্তি করার ব্যবস্থা করবো।"

তিনি আরো বলেন, "আপনারা জানেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এর পক্ষ থেকে অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের, যারা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, তাদেরকে সহায়তা করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে একটি প্রেস রিলিজ দিয়েছি এবং আমরা খোজ-খবর রাখছি, শান্তনা রাণী সরকার বিষয়টিও আমাদের নলেজে আছে। "

যদিও এর আগে বাবার অসুস্থতা, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ, অভাবের সংসার ইত্যাদি সমস্যায় পড়ে একদিন পোশাক কারখানায় চাকরির সন্ধানে চলে যেতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু শিক্ষকদের প্রেরণা, নিজের অদম্য ইচ্ছা আর সকলের সহযোগিতায় তিনি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।

ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা করতে হয়েছে শান্তনা রানী সরকারকে। এসএসসি পরীক্ষার আগে শান্তনার কৃষক বাবা সজল সরকার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন শান্তনার চোখে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে।

বাধ্য হয়েই তিনি টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে শুরু করেন। সেইসঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ছোট ভাইটির পড়াশোনাও চালিয়ে নেন। কিন্তু এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় অভাবের সংসার যখন কিছুতেই চলছিল না, তখন বড় ভাইয়ের মতো তিনিও পোশাক কারখানায় চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন।

সে সময় শিক্ষকদের প্রেরণা ও সকলের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন শান্তনা। তার এই অদম্য চেষ্টার সফলতা আসে এইচএসসি পরীক্ষায় শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় থেকে জিপিএ ফাইভ পাওয়ার মধ্য দিয়ে।

শান্তনার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামে। তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগরের শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্যে দিয়ে তিনি তার স্বপ্নের আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন।