• 06 Sept
  • 09:21 PM
হারিকেনে পারমাণবিক বোমা মারলে কী হবে?

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 06 Sept, 19

পারমাণবিক বোমা মেরে ঘূর্নিঝড় থামানোর আইডিয়া কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই প্রথম দেননি। এর আগে বহু মানুষই এইভাবেই হারিকেন থামানোর চিন্তা করেছিলেন।
সর্বপ্রথম জ্যাক ডব্লিউ. রিড নামের একজন বৈজ্ঞানিক ১৯৫৯ সালে হারিকেনের কেন্দ্রে পারমাণবিক বোমা মারার প্রস্তাবনা দেন।
রিড বলেন, "যখন কোথাও পারমানবিক বোমা ফেলা হয় তখন সেটা পরিবেশ ওপর বিরাট এক বায়ুস্তম্ভের সৃষ্টি করে, যেটা দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২ কিলোমিটার হয়ে থাকে।"
তো উনার প্রস্তাবনা ছিলো যে একটা সাবমেরিনে করে পারমানবিক মিসাইল নিয়ে একদম হারিকেনের নিচে চলে যেতে হবে, তারপর সেখান থেকে ঝড়ের কেন্দ্রে মিসাইল মারতে হবে। এতে করে কেন্দ্রে ঠান্ডা বায়ুর আধিক্য বাড়বে এবং একটা সময়ে সেটাই হারিকেনকে শান্ত করে দেবে।
কিন্তু এই ধারণাতে কিছু খুঁত আছে।
একটা মাঝারি ধরণের হারিকেন প্রতি সেকেন্ডে ৬০০ ট্রিলিয়ন জুল শক্তি উদগিরণ করে। এটা প্রায় দশটা হিরোশিমাতে ফেলা পারমানবিক বোমার সমান।
শুধু একদিনে একটা মাঝারি আকারের হারিকেন গোটা আমেরিকার ২০০৯ সালে ব্যবহার করা বিদ্যুতের সমান!
আজ পর্যন্ত মানুষের পরীক্ষা করা সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হলো, "জার বম্বা"। এটি কিন্তু ততো বিখ্যাত নয়। এটার ব্যাপারে কিছুটা বলা প্রয়োজন। এটি মুলত একটি হাইড্রোজেন বোমা ছিলো। আপনারা প্রায় সবাই জানেন যে হাইড্রোজেন বোমা কতোটা মারাত্মক।
ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রচুর পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা করে। জার বম্বাকে সোভিয়েতরা বলতো, “প্রজেক্ট ২৭০০” যেটাকে ইউরোপীয়রা পরে নাম দেয় ‘জার বম্বা’ বা ‘বোমাদের রাজা’।
এটার ভর ছিলো ২৭০০০ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ছিলো প্রায় ৮ মিটারের মতো। ২.১ মিটার ব্যসের এই রাক্ষুসে বোমাটি সে আমলের মানুষের মনে তীব্র আতংকের সৃষ্টি করেছিলো।
এটি এতোটাই ক্ষমতাবান ছিলো একটি বিমান থেকে যদি মাটিতে ফেলা হতো তবে সেই বিমানটিরও বাঁচার সম্ভাবনা ছিলো মাত্র ৩০% শতাংশ। তাও যদি বিমানটি ২০০ কিলোমিটার দূরে সরতে পারে তবেই!
তো করা হয়েছিলো কী, বিমান থেকে এটা ফেলার সময় এটার সাথে একটা প্যারাস্যুট লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিলো যাতে করে এটি ধীরে ধীরে পড়ে।
এই বোমা ফেলার পর কী হয়েছিলো? প্রায় ৬৩০ মাইল দূর পর্যন্ত এটার বিস্ফোরণ দৃশ্যমান হয়েছিলো! বিস্ফোরণের উচ্চতা হয়েছিলো প্রায় চল্লিশ মাইলের মতো।
সবচেয়ে আজব ব্যাপার কী জানেন? যেখানে এই বোমাটি ফেলা হয়েছিলো সেখানে কিন্তু একটা গ্রাম ছিলো! এবং ওখানকার সব বাড়ির আর কোন চিহ্নই ছিলো না বিস্ফোরণের পর।
সোভিয়ের কর্তৃপক্ষ বলে যে ওইসব বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিলো, যদি আমেরিকান মিডিয়া সবসময়ই ওখানকার বাসিন্দাদের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়ে যা কখনোই জানায়নি তৎকালীন সোভিয়েত এবং বর্তমান রুশ কর্তৃপক্ষ!
আচ্ছা, পৃথিবীর সব ভয়াবহ পারমাণবিক বোমার কথা তো শুনলেন, এবার হারিকেনে ফিরে আসি?
আর একটা সাধারণ হারিকেনের সমান শক্তি উৎপন্ন করতে হলেও প্রায় ২৪০ টা জার বম্বা মারতে হবে হারিকেনের কেন্দ্রে!
এতে করে পৃথিবীই শেষ হয়ে পারে!
আর যদি একটা বোম মেরে বসে থাকেন, তবে হারিকেন থামবে না, তবে এটা পরিণত হবে একটা নিউক্লিয়ার হারিকেনে।
তবে এটা সত্য যে ট্রাম্পের মতো এতো সিরিয়াসলি এর আগে কেউই রিডের আইডিয়াকে নেয়নি।

লুৎফুল কায়সার
বি.এস.সি(যন্ত্রকৌশল, রুয়েট)
তথ্যসূত্র- ইন্টারনেট