• 18 Sept
  • 10:45 AM
ইউরোপের বিখ্যাত ইরাসমাস বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেল চবির দুই শিক্ষার্থী।

চবি প্রতিনিধি 18 Sept, 19

ইউরোপের গোল্ডেন গেইট নেদারল্যান্ডস এর বিখ্যাত ইরাসমাস বিশ্ববিদ্যালয়ে (গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিং ৬৯) মাস্টার্স প্রোগ্রামে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। তৌহিদুল ইসলাম (সেশনঃ২০১১-১২) ও সুমাইয়া ইসলাম (সেশনঃ২০১২-১৩) নামের ওই দুই শিক্ষার্থী ইরাসমাস এর ইনস্টিটিউট ফর হাউসিং এ্যন্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস এ নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিষয়ে মাস্টার্স করেবেন। তারা যথাক্রমে সম্পূর্ণ অর্থায়িত OKP (Orange Knowledge Programme) ও OFID (OPEC Fund for International Development) স্কলারশিপ ২০১৯/২০ পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

উল্লেখ্য যে, OKP স্কলারশিপ নেদারল্যান্ডস সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কতৃক অর্থায়িত যা সহযোগী দেশসমূহে টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য সেসব দেশের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে। এটি পরবর্তী ৫ বছরের জন্য তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে যা বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান ২১০০ বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে সহায়তা করবে। অপরদিকে, OFID স্কলারশিপের অর্থয়ন করেন বিশ্বের তেল রপ্তানিকারী দেশ সমুহের সংস্থা ‘OPEC’। অ্যাওয়ার্ডটি উন্নয়নশীল দেশগুলির তরুণ ব্যক্তিদের সহায়তা করে যাতে তারা উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে উচ্চতর পড়াশোনা করতে সক্ষম হয়।



বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদুল ইসলাম ভার্সিটি ভয়েসকে বলেন, “উচ্চ শিক্ষার জন্য ইউরোপের দেশগুলো সব সময়েই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে তাই শিক্ষার মান, বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং এবং আবেদন প্রক্রিয়ার সাবলীলতার কথা চিন্তা করে আমি নেদারল্যান্ডকে বেছে নিয়েছি। তবে এই বিষয়ে আমাকে সরাসরি সহায়তা করেছেন, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা নাজনীন নাহার সুলতানা এবং বিভাগের বড় ভাই আকিব জাবেদ । ম্যাডাম আমাকে নোমিনেট না করলে হয়ত এত সাবলীলভাবে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারতাম না। আর উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে যাওয়ার সপ্ন দেখানো থেকে শুরু করে সেই সপ্ন পূরণের পথে আমাকে চালিত করেছেন অত্র বিভাগের ছাত্রপ্রিয় দুই সম্মানিত শিক্ষক ড. অলক পাল ও ড. আতিকুর রহমান যাদের সংস্পর্শে আসলে আপনি আপনার লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বসবেন।“



অন্যদিকে সুমাইয়া ইসলাম বলেন,"ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায় নগর সম্পর্কিত পাঠ্য এবং মাস্টার্স এর গবেষনা কাজ নগরের জলবায়ু থেকেই মূলত নগর বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনে আগ্রহ জন্মায়। ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষিকা শ্রদ্ধেয় নাজনীন নাহার সুলতানা ম্যাম ছিলেন নেদারল্যান্ডস এর ঠিক এই ইন্সটিটিউট এর একজন শিক্ষার্থী। তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে আবেদন করা। ভর্তি যখন নিশ্চিত হয় তখন আবেদন করি স্কলারশিপ এর জন্য। আবেদন এর ২ মাসের মধ্যেই পেয়ে যাই ফলাফল। তবে সেটা বিশ্বাস করাটা সেই মুহূর্তে কিছুটা স্বপ্নের মতই ছিলো। বিশ্বের নামকরা পেট্রলিয়াম এক্সপোর্টিং অর্গানাইজেশন ওপেক থেকে প্রতিবছর বিশ্বের ১০ জন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০% বৃত্তি প্রদান করা হয়। আলহামদুলিল্লাহ্‌ এই বছর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই বৃত্তি আমি অর্জন করি। আমার পরিবার, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং আপনজনদের দোয়া ও অনুপ্রেরণা আমাকে এতটুক অর্জন করতে সক্ষম করেছে। এই কৃতিত্ব আমি তাদের সর্বপ্রথম উৎসর্গ করতে চাই।"


এ নিয়ে ২০১৯-২০সেশনে চবি’র ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার্থে ইউরোপে যাচ্ছে, যারা দক্ষ মানব সম্পদ হয়ে ফিরে এসে দেশের উন্নয়নে কাজ করবে বলে বিশ্বাস অত্র বিভাগের শিক্ষদের।