• 02 Dec
  • 01:20 PM
ছাত্রলীগের তৃণমূলেই নেই কমিটি :হতাশায় রাজনীতি ছাড়ছেন অনেকেই

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 02 Dec, 19

বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ । সংগঠনটির প্রতি বঙ্গবন্ধুর আলাদা আবেগ অনুভূতি ছিল অনেক। সে জন্যেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরম আদরের পরম যত্নের ।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে শোভন-রাব্বানী কে চাঁদাবাজির অভিযোগে সমালোচনার মুখে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ।

সেই সাথে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সংগঠনের ১ নম্বর সহ-সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় এবং ১ নম্বর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ।

জয়-লেখকের দায়িত্বের প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও তৃণমূলের কমিটি নিয়ে এখনো কোনো আশার কথা সিদ্ধান্ত হয় নি । সবার নজর কেন্দ্রের দিকে ।

কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া মাত্র চারটি মেয়াদকালীন কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির ১১১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ১০৭টি কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ। ছাত্রলীগ থেকে সম্প্রতি অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যে চারটি কমিটি করে গেছেন, শুধু সেগুলোরই মেয়াদ আছে। এমন অনেক কমিটি আছে যেগুলো চলছে আট থেকে নয় বছর ধরে। আবার আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই কোনও কোনও শাখা চলছে বছরের পর বছর। অনেক জায়গায় নেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দিয়ে চলছে অন্তত তিনটি কমিটি। এমন বেশ কয়েকটি জেলা কমিটি রয়েছে যে গুলো শুধু পূর্নাঙ্গ কমটি করেও তাদের কাজ শেষ বলে মনে করছে । উপজেলার কমিটি দেবার নাম নেই ।

জানা গেছে, ছাত্রলীগে কেন্দ্রের চেয়েও তৃণমূলে চলছে বেশি বিশৃঙ্খলা। কেননা, কমিটির মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ায় এখন আর মেয়াদোত্তীর্ণ শাখার শীর্ষ নেতাদের মানতে চাইছেন না কর্মীরা। বরং পদ প্রত্যাশীরা নিজেরাই এখন বলয় সৃষ্টি করছেন। আবার অনেক শাখায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বা আহ্বায়কের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা পেশাগত জীবন শুরু করেছেন। যদিও তারা এখনও পদ ছাড়েননি। সব মিলিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ শাখাগুলোর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। এদিকে দ্বিতীয় বা মধ্যমসারির যেসব নেতা শীর্ষ নেতৃত্বে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, কমিটি না হওয়ায় তাদেরও বয়সসীমা পার হয়ে যাচ্ছে। হতাশাগ্রস্ত হয়ে তারা রাজনীতি ছেড়ে চাকরির দিকে ঝুঁকছেন ।

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চারটি কমিটি দিয়েছেন । এর বাইরে সবগুলো জেলা বা জেলার মর্যাদাসম্পন্ন কমিটি এবং কেন্দ্রের অধীনে যেসব সাংগঠনিক ইউনিট আছে সেগুলোর সবই মেয়াদোত্তীর্ণ ।

একটি জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যমের ভরাত দিয়ে জানা যায় , আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে টাঙ্গাইল জেলা, ঢাকা কলেজ এবং ইডেন কলেজের কমিটি। শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে চলছে ময়মনসিংহ জেলা, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি। আর শুধু সভাপতি দিয়ে চলছে বরিশাল মহানগরের কমিটি। এদিকে ২০১৬ সালের নভেম্বরে গঠিত ঢাকা কলেজের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ককে এক মাসের মাথায় বহিষ্কারের পর আজ অবধি সেখানে কমিটি হয়নি, নতুন করে কাউকে আহ্বায়কের দায়িত্বও দেওয়া হয়নি।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, ফরিদপুর, মাদারীপুর, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম মহানগর, বাগেরহাট, খুলনা মহানগর, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর জেলা ও মহানগর, রাজশাহী জেলা ও মহানগর, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিলেট জেলা ও মহানগর, নেত্রকোনা, জামালপুর, বরিশাল জেলা ও বরিশাল মহানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কমিটির মেয়াদ সাত থেকে নয় বছর। আর ছাত্রলীগের সোহাগ-জাকিরের আমলে করা অর্ধশতাধিক কমিটির মেয়াদ চার থেকে পাঁচ বছর হয়েছে। পূর্নাঙ্গও হয় নি অনেক কমিটি ।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— রংপুর জেলা ও মহানগর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুনা, কুমিল্লা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ফেনী, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী ।

শোভন-রাব্বানী চারটি কমিটি গঠন ছাড়াও সম্মেলন করেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের। কিন্তু দুই মাস পার হলেও সেগুলোর কমিটি হয়নি। এছাড়া, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ভেঙে দেওয়া হলেও সেখানে সম্মেলন করে যেতে পারেননি তারা। নেত্রকোনা ও কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও সম্মেলন করে যেতে পারেনি শোভন-রাব্বানী ।