• 02 Dec
  • 01:03 PM
ডাকসু ভিপি-এজিএসের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ঢাবি প্রতিনিধি 02 Dec, 19

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ নিতে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর লবিং-তদবিরে ব্যস্ত আছেন বলে অভিযোগ করেছেন এজিএস সাদ্দাম হোসাইন। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে সাদ্দাম মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন বলে আখ্যা দিয়েছেন নুর।

রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনে আয়োজিত পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন ডাকসুর এ দুই নেতা।

আগামী ৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পায়রা চত্ত্বরে ডাকসুর উদ্যোগে ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নুরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনেন ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম।

তিনি বলেন, তিনি (নুর) ছাত্রদলের কমিটিতে পদ নেওয়ার জন্য লবিং-তদবির করছেন। যেহেতু ছাত্রদল বিবাহিতদের সংগঠন, তাই নুরের সেখানে পদ নিতে আরো সুবিধা হবে।

উপাচার্যের সঙ্গে ডাকসু নেতাদের আলোচনা সভায় ভিপি কেন অনুপস্থিত ছিলেন?- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম বলেন, নুর নিজের রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত আছেন। ক্যাম্পাসে খুব বেশি সময় দেন না। এজন্য তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ডাকসু তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে আমরা শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কাজ করেছি। আমরা জো-বাইক চালু করেছি, ভেন্ডিং মেশিন চালু করতে যাচ্ছি। সামনে ক্যাম্পাসে ইজি বাইকের ব্যবস্থা করা হবে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ডাকসুর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, ছাত্র পরিবহণ সম্পাদক শামস-ঈ-নোমান, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর, সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ফরিদা পারভীনসহ অধিকাংশ ডাকসু নেতা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে, সাদ্দাম হোসাইনের এই অভিযোগ অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, এটা একটা প্রোপাগান্ডা। এর আগে আমার বিরুদ্ধে শিবিরেরও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি ডাকসুর ভিপি। এর চেয়ে বড় পরিচয় আর নেই।

তিনি আরো বলেন, এটা ছাত্রলীগের গতানুগতিক কথা। সাদ্দাম কী বললেন না বললেন, সেটা নিয়ে আমার মাথা ঘামানোর কিছু নেই।

এসময় নুর বলেন, সাদ্দাম পুরোপুরি সুস্থ নেই। তিনি এখনো অসুস্থ। মানসিকভাবেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। তার ভালো ডাক্তার দেখানো উচিত।

ডাকসু কয়েকটি কাজ করলেও তারা শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন নুর।

শিক্ষার্থীরা হলে মেধার ভিত্তিতে সিট পায় না। গঠনমূলক কথা বললেই তাদের মারধর করা হয়। গেস্টরুম এখনো অব্যাহত আছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ডাকসুর অন্যান্য নেতা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেন না।

নুর দাবি করেন, ডাকসু যেভাবে কার্যকর করা দরকার সেটি করা হচ্ছে না। এটি এখন ডাকসু লীগে পরিণত হয়েছে। উপাচার্য চাঁদাবাজের সঙ্গে মিটিং করেন। কিন্তু আমরা দাবি জানিয়েছিলাম তাকে ডাকসু থেকে বহিষ্কার করতে।

এসময় আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে হলগুলোতে মেধাভিত্তিক সিট বরাদ্দ এবং বহিরাগতদের হল থেকে বের করে দেওয়া না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা আন্দোলনে নামবেন বলে ঘোষণা দেন নুর।