• 09 July
  • 10:40 PM
ঢাবিতে অনিয়ন্ত্রিত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে এস এম হল ছাত্র সংসদ এর অভিযান

ঢাবি প্রতিনিধি 09 July, 19

গতকাল সোমবার রাতে ঢাবি ক্যাম্পাসে অনিয়ন্ত্রিত ও বাণিজ্যিক ভারী যান চলাচল বন্ধ করার জন্য অভিযান কর্মসূচিতে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে, এ অভিযান কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন এস এম হল ভিপি মুজাহিদ কামাল।

এ অভিযানে ১৯ জন গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় আর জরিমানা করা হয়েছে ৮৭০০ টাকা। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ডিএমপি রমনা জোনের শাহবাগ থানার সার্জেন্ট জাফর।

রাত হলেই দেখা যায়, ঢাবি ক্যাম্পাসে ভারী ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল বাড়তেই থাকে। গাড়িগুলোর বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনার মত ভয়ংকর ঘটনা, বাড়ছে শব্দ দূষণের আধিক্য। আর এ জন্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতাকেই প্রধান কারণ মনে করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হল সংসদের ভিপি এম. এম. কামাল উদ্দীন বলেন, ট্রাকগুলো যেভাবে বেপরোয়া গতিতে চলে, এইজন্যে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা প্রশাসনকে একধিকবার অনুরোধ করলেও তারা এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। তাই আজ আমি নিজ উদ্দ্যোগেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে রাজপথে নেমেছি।

তিনি আরো বলেন, এটা শুধু আমার একার পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব না। তাই আমি বিশ্ববিদ্যলয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানাচ্ছি, সকলে যদি আমরা নিজ নিজ স্থান থেকে এগিয়ে আসি, তাহলে এই ধরনের ভারী যান চলাচল বন্ধ করা সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর অধ্যপক গোলাম রাব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিতরে এই ধরনের যানবাহন চলার কোন বৈধতা নেই। এটাকে বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি কিন্তু তারা তা মানছে না।

বিশ্ববিদ্যলয়ে প্রবেশমুখে গেইটম্যান না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি এবং আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম সব সময় সক্রিয় আছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে গিয়ে দেখা যায় যে, অধিকাংশ জায়গায় নেই কোন গেইট ম্যান, নেই ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এর ব্যবস্থা, নেই কোনো হাইট রেস্ট্রিকশন বেড়িয়ার। ফলে বিনা বাধায় প্রবেশ করছে ভারী যানবাহন।

এস এম হল সংসদের সমাজ সেবা সম্পাদক খান মিলন হোসাইন নীরব বলেন, আমরা প্রশাসনকে অতি সত্বর এ বিষয়ে আহবান জানাচ্ছি। আরা তারা যদি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে যে কোনো দুর্ঘটনার দায়ভার তাদের গ্রহণ করতে হবে।

এস এম হল ছাত্রলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ রানা ভার্সিটি ভয়েসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। তাই আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেত বাধ্য হয়েছি।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় ব্যারিকেড রাখার ঘোষণা দিলেও সকাল থেকেই আবার ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।