• 11 June
  • 11:15 PM
৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হতে চেয়েছিলেন এই বাছিরের স্ত্রী

যায়েদ হোসেন 11 June, 19

৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হতে চেয়েছিলেন রুমানা শাহীন শেফা।তিনি বরখাস্ত হওয়া দুদকের উপপরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের স্ত্রী। তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

গত ২৭ এপ্রিল সকালে লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১৫ জন প্রার্থীর অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন।পরে মোট ১০ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফাকে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়,যিনি লিখিত পরীক্ষায় মাত্র সাড়ে ৩ নম্বর পেয়েছেন। তবে মৌখিক পরীক্ষায় ও একাডেমিক পারফরমেন্সের মাধ্যমে তাকে পরীক্ষায় প্রথম করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

খন্দকার এনামুল বাছিরকে বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। পাশাপাশি তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

সোমবার (১০ জুন) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন,পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানে কাছে তথ্য ফাঁস করায় দুদক এর উপপরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তিনি জানান,এনামুল বাছির পুলিশের ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি তদন্ত করছিলেন।কমিশনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

৩০ নম্বরের নিয়োগ পরীক্ষায় সাড়ে ৩ পেলেও ভিকারুননিসার পরিচালনা কমিটির কতিপয় সদস্য ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবিরের যোগসাজশে অধ্যক্ষ হতে চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে ওই নিয়োগ স্থগিত হয়ে যায়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, সেই প্রতিবেদন এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র জানা যায়,পরীক্ষার দিন বিকেলে গভর্নিং বডির বৈঠকের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী আকন্দ,কে কত পেয়েছে তা জানতে চান।তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় কে কত নম্বর পেয়েছে আমি জানতে চাই।কিন্তু,তারা গভর্নিং বডির অন্য সদস্যদের তা জানাতে গড়িমসি করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর কে কত নম্বর পেয়েছে তা জানানো হয়। দেখা গেছে, সবাই ফেল করেছে। এই সদস্য বলেন, সবাই যেহেতু পরীক্ষায় ফেল করেছে এ কারণে আমাকে খাতা ও নম্বর দেখাতে চাইছিল না তারা।

জানা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ফেল করলেও মৌখিক পরীক্ষায় ও একাডেমিক পারফরমেন্স মিলিয়ে রুমানা শাহীন শেফাকে ১৯ নম্বর দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীরা যথাক্রমে সাড়ে ১৮ ও ১৮ নম্বর পেয়েছেন। আর প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম পেয়েছেন ১৭।
অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগে বিতর্কিত পরিচালনা কমিটির এজেন্ডা বাস্তবায়নে জড়িত মো. শাহেদুল খবিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকরা। সব অনিয়ম দূর ও শাহেদুলের শাস্তি দাবিতে তারা প্রধানমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।