• 10 Sept
  • 08:12 PM
দুদকের 'চুজ এন্ড পিক' অপারেশন!

মিনার রশিদ 10 Sept, 19

ডিজি শিপিংএর বর্তমান শিপ সার্ভেয়র এবং নৌ -প্রকৌশলী দুদকের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন । মাত্র কিছুদিন আগে আগের দুজনও একইভাবে পাকড়াও হয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন !
ন্যাড়া মাত্র একবার বেলতলায় যায় । কিন্তু ডিজি শিপিং এর সার্ভেয়ারগণ এবার নিয়ে তিনবার এই বেলতলাটিতে গেলেন !

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অনেক প্রশ্ন, খানেকটা বিস্ময় এবং কিছু কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে ।
সারা দেশে যেখানে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে সেখানে দুদকের এই ‘ চুজ এন্ড পিক ‘ খেলাটি শুধু ডিজি শিপিংয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে কেন ?

এই মুল্লুকে একটি বালিশের দাম ছয় হাজার টাকা , একটি বইয়ের দাম ৮৫ হাজার টাকা , একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ টাকা । এই হিসাবটি বলে দেয় সরকারের পুরো পারচেইজ মেশিনটি কেমন ভয়ংকর লুটপাটে জড়িয়ে গেছে !
এই কিছিমের বা কাছাকাছি শত শত কেনাকাটায় দুদক দুর্নীতি খুজে পায় না । বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশী খরচ করে যে রাস্তা বানানো হয় -সেগুলি মানের দিক থেকে এশিয়ায় সর্বনিম্নে অবস্থান করে । তারপরেও দুদক সেখানে দুর্নীতির কোনও গন্ধ খুঁজে পায় না ।
দেড় লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের কোথায়ও দুদক দুর্নীতি দেখতে পায় না । গত এগারো বছরে দেশ থেকে সাত লাখ কোটি টাকার বেশী পাচার হয়ে গেছে - দুদক সেখানে দুর্নীতির কণাও খুজে পায় না । শেয়ার বাজার থেকে কয়েক লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে গেল - অথচ দুদক সেই দরবেশ বাবাজিদের টিকিটিরও নাগাল পেলো না ! বাংলাদেশ ব্যাংকের আটশ কোটি টাকার রিজার্ভ গায়েব হলো , রিজার্ভের সোনা তামা হয়ে গেল - দুদক এর কিছুই টের পেল না । হলমার্ক , বিসমিল্লাহ গ্রুপ , সোনালী ব্যাংক , জনতা ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেংকারীর খবর রটলো - কিন্তু দুদক তেমন কাউকে পাকড়াও করতে পারলো না !
অথচ সেই একই দুদক ডিজি শিপিং এ বিরাট খনি খুঁজে পেল ! বিষয়টি অনেকের কাছেই খটকা লেগেছে !

আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে পুরো প্রশাসনযন্ত্রই
আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে । দুদক সহ অন্যান্য সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সবগুলোই হয়ে পড়েছে মাথা খারাপ একেকটি থার্মোমিটারের মত । যেখানে তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রী সেটাকে মাপছে নব্বই ডিগ্রী । আবার যেটির তাপমাত্রা ১০০ এর উপরে সেটি দেখাচ্ছে মাত্র ২০ ডিগ্রী !
এই সব ত্রুটিযুক্ত পরিমাপকের বদৌলতে
সমাজের / ডিপার্টমেন্টের ধূর্ত, বিবেকহীন, মেধাহীন ও প্রজ্ঞাহীন মানুষগুলি যত সামনে এগোচ্ছে জাতির গলার ফাঁস তত শক্ত হচ্ছে ।

যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই জাতিকে চরম ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারতো - এরা নিজেরাই আজ জাতির গলার কাঁটা হয়ে পড়েছে । এরা উদোর পিন্ডি যেমন বুদোর ঘাড়ে লাগাচ্ছে তেমনি চুজ এন্ড পিক নামক একটি ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছে ।

এগুলি অবলোকন করে একজন নগণ্য সমাজ চিন্তক হিসাবে চুপ করে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে ।এ সমাজের বিবেক ও চিন্তাশীল অংশকে এসবের পেছনের রুট কজগুলি খোঁজার অনুরোধ জানাচ্ছি ।

গণতন্ত্রহীনতা ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতিই আজ এই অবস্থায় আমাদেরকে পৌছে দিয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নাই । নিজের মনের ঘৃণা এবং ক্ষোভ যেন আমাদেরকে অন্ধ বিদ্বেষ ও অন্ধ আনুগত্যের দিকে ঠেলে না দেয় । সত্য যার পক্ষেই যাক আর যার বিপক্ষেই যাক না কেন - আমাদেরকে নির্ভয়ে তা উচ্চারণ করতে হবে । উদ্ভুত পরিস্থিতিতে
আমাদের বেঁচে থাকার জন্যে বোধহয় অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই ।
এখন পুরো সিষ্টেমকে অভারহলিং করার চেয়ে সবাই ইয়া -নাফসি মোডে আছি ।এই আজাব থেকে বাঁচার জন্যে কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছে , কেউ আনইজি এক্সেপ্টেন্স হিসাবে সকল কিছুর সঙ্গে
এডজাস্ট করে নিচ্ছে ।
আবার কেউ এখান থেকেই সুবিধা নেয়ার চেষ্টায় মত্ত আছে । এতে কারও পুড়ছে ঘর , আর কেউ বা সেই আগুনে শুকিয়ে নিচ্ছে নিজের ভেজা কাপড় । কিন্তু শেষ ক্যালকুলেশনে কেউ রক্ষা পাচ্ছে না । সবাই এই দেশটিকে বসবাসের জন্যে অনিরাপদ গণ্য করছে । যে ক্রিমিনাল বর্গ সোনার এই দেশটিকে নরক বানাচ্ছে সেই গণ শত্রুদের প্রত্যেকেই এই দেশ ছেড়ে বাইরে থাকার ব্যবস্থা করে ফেলেছে বা তা করছে ।

আমরা সবাই ভাবছি - উক্তরূপ প্রশাসনিক , সামাজিক ও নৈতিক বিশৃঙ্খলা আমাকে হয়তোবা স্পর্শ করবে না । শুধু অন্যরা এই নির্যাতন উপভোগ করবে ।নিজের গায়ে লাগবে না ।

যখন কাদের মোল্লাকে ‘কসাই মোল্লা ‘ কিংবা মওলানা সাঈদীকে ‘দেলু শিকদার ‘ বানানো হলো -আইনের শাসনের নামে এই চরম গোঁজামিল দেখেও আমরা চুপ মেরে রইলাম । সনাতন হিন্দু ধর্মের একমাত্র সুখ রঞ্জন বালী ছাড়া অন্য কেউ এই অবিচারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিবাদ করলো না ! মুখ খুললেই রাজাকার হবো - এই ভয়ে আমরা সকলেই নীরব থাকলাম ।
আমাদের সান্ত্বনা এই ছিল যে আমরা বা আমি তো আর জামায়াত করি না ।কাজেই এই ঝড় আমার উপর দিয়ে যাবে না । এই কথা বলে বুকের উপর কলিজা বরাবর থুথু দিলাম !
এরপর যখন বেগম খালেদা জিয়াকে একটি এতিম খানার টাকা নিয়ে নেহায়েত পদ্ধতিগত ত্রুটি দেখিয়ে সাজা দেওয়া হলো - আমরা তখনও চুপ করে রইলাম । কারণ আমরা বা আমি বিএনপিও করি না ।
এরকম অনেক আত্ম সন্তুষ্টি দেশটিকে নরকের প্রান্তে নিয়ে এসেছে ।

এরকমভাবে প্রতিটা ক্ষেত্রে নিজে সমস্যা থেকে দূরে আছি বলে এক ধরণের তৃপ্তি বা স্বস্তি অনুভব করি । এই আত্ম সন্তুষ্টি যে আত্ম প্রবন্চনার নামান্তর তা বুঝতে পারি না ।

বুঝতে পারি না যে এই বিপদ থেকে আমরা কেউ দূরে নই , কখন এই বিপদ/ আপদ কার মাথায় পতিত হয় তা আমরা কেউ বলতে পারি না ।

কমেন্টে দেয়া ভিডিওটিতে চতুর্থ গ্রেডের
উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা আমাদের ছোট ভাইয়ের এই আহাজারি সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় ।
জানি না এরকম একজন একজনের হুঁশ না ফিরে কখন আমাদের সার্বিক হুশটি এক সঙ্গে ফিরবে ?