• 11 July
  • 09:15 PM
নোবিপ্রবির প্রিয় মুখ: কৃষির আধুনিকায়নে কাজ করতে চান ওহী আলম

এস আহমেদ ফাহিম,নোবিপ্রবি প্রতিনিধি 11 July, 19

জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন সবাই দেখে।সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে চেষ্টা থাকে একেক জনের একেক রকম।আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থেকে ক্যারিয়ার গঠনে এগিয়ে যাওয়ার নজির খুব কম। কিন্তু নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী ওহী আলম, এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি শুধু একাডেমিক শিক্ষাই নয়,সহশিক্ষামূলক কাজে যুক্ত থেকে সফল হয়েছেন।বিকশিত করেছেন নিজের মেধা এবং প্রতিভাকে।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রয়েছে তার ব্যাপক সফলতা। কাজ করে যাচ্ছেন স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে।

ওহী আলম জিপিএ ৫ পেয়ে ২০১২ সালে উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ এসএসসি এবং ২০১৪ সালে কোয়ালিটি এডুকেশন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।এরপর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগে ভর্তি হন। কৃষিতে অনার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এ অধ্যয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্কুল-কলেজ থেকেই ছিল তার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনাগোনা। গান,কবিতা, অভিনয়,উপস্থাপনা, উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক সবগুলোতেই রয়েছে তার যথেষ্ট সুনাম। এইচএসসি পরীক্ষার শেষে তিনি যুক্ত হন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে। কাজ করেছেন জাগো ফাউন্ডেশন এর ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ও রেড ক্রিসেন্ট এর মত বড় অর্গানাইজেশনের সাথে ।এছাড়াও তিনি কোর ভলান্টিয়ার টিম হিসেবে চিল্ড্রেন সায়েন্স কংগ্রেস, প্রথমআলো-ডাচ বাংলা গণিত অলিম্পিয়াড, ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, বিজ্ঞান জনপ্রিয়করন সমিতি, গুগল বাংলার জন্য চার লাক্ষ, উইকিপিডিয়া সহ আরো অনেক সংগঠনের সাথে কাজ করেছেন।এছাড়াও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্য হিসেবে ডিজিটাল ওয়ার্ড বাংলাদেশ ও জয় বাংলা কন্সার্ট এর মত বড় আয়োজনে যুক্ত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনে এসেও তার এ কার্যক্রম থেমে থাকেনি।বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথমেই তিনি মশাল নামক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হন এবং সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করেন।তারপর কিছুদিন ক্যাম্পাস রাজনীতি সাথেও যুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তিতে যুক্ত হন সাংবাদিকতায়। তিনি জাগো ফাউন্ডেশনের ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ এর নোয়াখালী জেলার বোর্ড মেম্বার হিসেবে দ্বায়িত্বরত ছিলেন।

এসব কিছুর পাশাপাশি তিনি যোগদান করেন বিএনসিসি ও নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটিতে। বর্তমানে তিনি নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রচার সম্পাদক, বিএনসিসি নোবিপ্রবি প্লাটুনের ক্যাডেট সার্জেন্ট এবং নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। তাছাড়াও তিনি ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি সংগঠনের সাথেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ্য ভাবে সবসময়ই যুক্ত ছিলেন।

ওহী আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে থাকা কালীন তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্ভাবনী মেলার " solve a thon" নামক প্রতিযোগিতায় নোয়াখালী জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় হন এবং চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে পরে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন।

নোবিপ্রবি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,"নোবিপ্রবি একটি ফলের গাছ, যে গাছ এখনো পরিপক্বতা লাভ করে নি। কেবল ফুল দিতে শুরু করেছে। সময়ের সাথে সঠিক পরিচর্যা পেলে এ গাছ ফল দেবে অনেক। এবং সে ফলের স্বাদও হবে অনেক সুস্বাদু।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি বলেন," যে যেখান থেকে পারি দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। আমাদের একটু খানি চেষ্টা বদলে দিতে পারে পুরো বাংলাদেশ। আমরা শুধু মুখস্থ বিদ্যার পিছে না ছুটে, পাশাপাশি নিজেকেও গুছিয়ে নেই। এটাই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় নিজের ক্যারিয়ারকে গুছিয়ে তোলার"

একজন কৃষিবিদ হিসেবে দেশের সম্ভাবনাময় কৃষিখাতকে আধুনিকায়ন এ কাজ করতে চান ওহী আলম। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন কৃষিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে বাংলাদেশ।