• 24 July
  • 07:33 PM
বর্জ্য পলিথিন থেকে তেল,গ্যাস উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করলো রাবির একদল শিক্ষার্থী

রাবি প্রতিনিধি 24 July, 19

বর্তমান এই বিশ্বায়নের যুগে উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে বেড়ে চলছে বর্জ্যের পরিমাণ। বিশেষ করে পলিথিন বর্জ্যের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। যা পরিবেশের জন্য বিরাট হুমকিস্বরূপ। এর বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদেরকেই মাশুল গুণতে হবে।
তবে এবার বর্জ্য পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কার্বন কালি উৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। এই পদ্ধতির নাম পাইরোলাইসিস। এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পলিথিন থেকে ৭০ থেকে ৭৮ শতাংশ ফার্নেস তেল ও ৫ থেকে ৮ শতাংশ কার্বন কালি পাওয়া যাবে বলে উদ্ভাবন দলের সদস্যরা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ফার্নেস তেল হতে বর্জ্য তেল নিঃসরণ যন্ত্রের সাহায্যে ৬৫ শতাংশ পেট্রোল ও ৩০ শতাংশ পরিমার্জিত ডিজেলও পাওয়া যাবে।

এছাড়া পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ার সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় উচ্চতর ক্যালরিমূল্য সম্পন্ন ১০ থেকে ১৮ শতাংশ নন-কনডেন্সেবল গ্যাস তৈরি হয়। প্ল্যান্টটি তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল কাফীর নেতৃত্ব একটি দল। কাফী বলেন, তাদের উৎপাদিত জ্বালানি তেলের ক্যালরিফিক মান ফার্নেসের ক্ষেত্রে ৩৮.৫ মেগাজুল/কেজি ও পেট্রোলিয়াম পেট্রোলের ক্ষেত্রে ৪২.০৯ মেগাজুল/কেজি। এটি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) কর্তৃক পরীক্ষিত। উৎপাদিত এ ফার্নেস তেল শিল্প কলকারখানায় জ্বালানী উপকরণ হিসেবে এবং খনন যন্ত্র, রাস্তা বেলন বা লোডিং মেশিনের মতো নিম্নগতির ইঞ্জিনগুলোতে পরিমার্জিত ডিজেল ও পেট্রল ব্যবহার করা যাবে বলে জানান কাফী।

কার্বন কালি সম্পর্কে বলেন, কার্বন কালোটি মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি ইট বা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এ কার্বন কালো প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যসম্পন্ন এন-২২০ ও এন-৩৩০ কার্বন পাওয়া যায়। এছাড়াও এটি রঙের মাস্টার ব্যাচ হিসেবে পাইপ, কেবল জ্যাকেট প্রভৃতির মৌলিক উপাদান হিসাবে প্রক্রিয়াজাত করা যাবে। পুরো প্লান্ট প্রস্তুত ও জ্বালানি উৎপাদন করতে আটমাস একটানা কাজ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। তার উদ্ভাবিত এ প্লান্টে খুব বেশী খরচেরও প্রয়োজন নেই। ১৫০০ বর্গফুট জমির মধ্যেই হয়ে যাবে পুরো প্ল্যান্ট। ১ হাজার লিটার পানিতে চলে প্ল্যান্টটি। তাপ ও চাপের নিয়ন্ত্রণ, চুল্লি পরিচালনা ও উৎপাদন কাজের জন্য দুজন মানুষের প্রয়োজন। ডিস্টিলেশন প্ল্যান্টসহ পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট বানাতে খরচ পড়বে দুই লাখ টাকার মতো। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৭ ঘণ্টায় ৮০ কেজি হিসেবে বছরে ২৪ টন জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যাবে এ প্ল্যান্ট দিয়ে।