• 11 Aug
  • 11:18 PM
ডেঙ্গু যখন মৃত্যুদূত ;আমাদের করণীয়

শিক্ষার্থী: খোরশেদ আলম বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 11 Aug, 19




বর্ষা যেমন রূপের পসরা নিয়ে আসে, তেমনই সঙ্গে করে নিয়ে আসে কিছু অসুবিধাও। এই সময়ে নানা রোগের উপদ্রব দেখা দেয়। সাধারণ জ্বর-ঠান্ডার পাশাপাশি ভয়াবহ যে সমস্যাটি সঙ্গে নিয়ে আসে সেটি হলো ডেঙ্গু। ডেঙ্গু এমনই ভয়ঙ্কর অসুখ যে অনেকসময় এটি প্রাণঘাতিও হতে পারে।

আমাদের দেশে প্রতি বছরই ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আপনি মানুন আর নাই মানুন, এর সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের অসচেতনতা আর উদাসীনতা।
শুধু রাজধানী ঢাকায়ই নয়, শহরতলি, প্রত্যন্ত জেলা ও গ্রামগুলোও এই অসুখে ভুক্তভোগী। ডেঙ্গু নিয়ে প্রতি বছরই সরকারি নানা কর্মকাণ্ড ও জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকলেও আমাদেরই উদাসিনতার কারণে এর প্রকোপ বাড়ছে।


সাধারণ মানুষ এর দায় ও সচেতনতায় অংশ না নিলে মশাবাহিত কোনো অসুখ থেকেই বাঁচা সম্ভব নয়। কিন্তু জমে থাকা পানি ও ময়লার স্তুপের পরিমাণ নেহায়েত কম নয়। ব্লিচিং বা কীটনাশক দিয়ে মশাকে কিছুটা প্রতিহত করতে পারলেও তার প্রভাব আধ-এক ঘণ্টার বেশি থাকে না। তাই যে সব জায়গায় মশা ডিম পাড়ে, সেই জায়গাগুলো ধ্বংস করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এক্ষেত্রে আমাদের ডেঙ্গু নির্মূল কমিটি নিতে হবে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ ।

বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু,এর ভয়াবহতা ও প্রতিকারে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে ।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সকল টিভি চ্যানেলে ও দৈনিক পত্রিকায় এর ভয়াবহতা,প্রতিরোধ এবং প্রতিকার সম্পর্কে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন ।

দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ সকল সরকারি-বেসরকারি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে গিয়ে এই ব্যাপারে তাদের সাথে কথা বলা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে ।

শহর ও গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা ও সবাইকে সচেতন করা যেতে পারে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাসায় বাসায় গিয়ে কিছু সচেতনতা বৃদ্ধি মূলক পোস্টটার বা প্রসপেক্টস দেয়া যেতে পারে (সেখানে দুইটা চিত্র থাকতে পারে,একটা -ডেঙ্গু মশা ও রোগী অন্যটা-পরিছন্ন পরিবেশ ও সুস্থ বেবি )

নির্মূল কমিটির সদস্যরা এলাকায় এলাকায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান,মানববন্ধন কর্মসূচি ও সকল প্রকার কর্মকান্ডে মানুষকে নিম্নের ব্যাপারে সচেতন করতে পারেন ও সবাইকে বুঝিয়ে বলা যেতে পারে যে,

ভাঙা টব ও পরিত্যক্ত টায়ার জমতে দেবেন না। এগুলো যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে ফেলুন।

নোংরা বা পরিষ্কার কোনোরকম পানিই জমে থাকতে দেবেন না। পানি যদি ধরে রাখার দরকার হয় তবে পানির বালতি ঢেকে রাখুন। বাড়ির চারপাশে যেন কোনোভাবেই পানি না জমতে পারে সেদিকে কড়া নজর রাখুন। প্রয়োজনে কর্পোরেশন, স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

ডেঙ্গু মশা জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। আশপাশে থাকা ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ারে পানি যাতে না জমে লক্ষ্য রাখুন। এমনিই বর্ষাকালে রাস্তাঘাট ভিজে থাকে, এর মধ্যে এসব জায়গায় পানি জমে থাকলে তা বিপদ আরও বাড়াবে।

জমে থাকা ইট, বালি-সিমেন্টের স্তূপ এসব মশা বসবাস করে। তাই আশপাশে একেবারেই এসব জমে থাকতে দেবেন না। একান্তই কোনো বাড়ি তৈরির পরিস্থিতি এলে ওই জায়গার চারপাশে নিয়মিত কীটনাশক ও মশা মারার স্প্রে দিন।


মশা নিধনে ব্লিচিং, কীটনাশক বা তেলে ভরসা করুন, তবে তারচেয়েও বেশি জোর দিন আগাছা পরিষ্কারে।

অন্তত বর্ষার সময়টা মশারির ভেতর ঘুমান। বাড়িতে শিশু থাকলেও বাড়ির চারপাশ অপরিষ্কার হলে অবশ্যই সারাদিন মশারি টাঙিয়ে রাখুন। এলাকায় কারও ডেঙ্গু হলেও এই উপায় অবশ্য পালনীয়। বর্ষার ক’দিন নেট লাগিয়ে রাখতে পারেন ঘরের জানালায়।

বাইরে বের হলে চেষ্টা করুন ফুল হাতা পোশাক পরতে। রাসায়নিক দেওয়া মশা নিরোধক ক্রিম মাখানোর চেয়ে ঘরোয়া কিছু উপায়ে মশা দমন করুন। তবে ভেষজ কোনো কোনো ধূপেও মশা যায়। সেসব প্রয়োগ করতেই পারেন। বাড়িতে মশা নিরোধক তেল ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।একান্তই মশা মারার ওষুধ বা তেল ব্যবহার করলে তার উপাদান দেখে নিন। শরীরের জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর ওষুধ বা তেল কিনুন। মাঝে মাঝেই বদলে দিন ওষুধ। একই ওষুধ অনেকদিন ব্যবহার করলে মশা নিজের শরীরেও সেই প্রতিষেধকের বিপরীতে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ফেলে।
এডিস মশা ও ডেঙ্গুজ্বরকে আমরা ভয় পাবো না, আমরা সচেতন হব এবং সুস্থ থাকবো ।
যদি কেউ অসুস্থ হয়ে যায় তবে যত দ্রুত সম্ভব তাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন করবেন,সবাই তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন এবং সেবা করবেন। আর সবাই একসাথে বলবো -
ডেঙ্গু করবো প্রতিরোধ,সুস্থ থাকবো রোজ রোজ।