• 24 Oct
  • 11:53 PM
ব্রেক্সিট ইস্যুতে করবিনের শরণাপন্ন হলেন বরিস

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 24 Oct, 19

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নিয়ে দেশটির বিরোধী লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। যেখানে তারা ব্রেক্সিট কার্যকরের বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এমন একটি সময় বৈঠকটি করলেন যখন চুক্তিটি নিয়ে আলোচনার জন্য পার্লামেন্টে তার দেওয়া তিন দিনের সময়সীমাও প্রত্যাখ্যাতও হয়েছে। যদিও ইইউ ব্রেক্সিট কার্যকরের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়াতে পারে বলেও এরই মধ্যে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘বিবিসি নিউজ’ জানায়, বুধবার (২৩ অক্টোবর) ব্রিটিশ লেবার পার্টির পক্ষ এক বিবৃতিতে দলটির নেতা করবিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বরিস মধ্যকার বৈঠকটির কথা নিশ্চিত করা হয়।
এ দিকে দলটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘করবিন ব্রেক্সিট ইস্যুতে একটি খসড়া চুক্তি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বরিসের কাছে যৌক্তিক সময়সীমা চেয়েছেন। যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হলেই লেবার পার্টি সাধারণ নির্বাচনকেও সমর্থন দেবে বলেও জানিয়েছেন।’
বিরোধী নেতা করবিনের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বরিস এবারের বৈঠকে করবিনের কাছে জানতে চেয়েছেন, ইইউ ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়নের মেয়াদ বৃদ্ধি না করলে তিনি আদ্যতে কী করবেন।’
এর আগে পার্লামেন্টে তিন দিনের সময়সীমা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। যদিও সেই ভোটাভুটির আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, আইনপ্রণেতারা ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দিলে তিনি প্রক্রিয়াটি স্থগিত করবেন।
অপর দিকে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক এক টুইটার বার্তায় বলেছিলেন, ‘ব্রেক্সিট কার্যকরের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য এরই মধ্যে আমি সুপারিশ করেছি। আশা করছি, ইইউ বিষয়টি বিবেচনা করবে।’
যদিও লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন মনে করেন, 'প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কখনোই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নন। তিনি কেবলই নিজ দলের সদস্যের ভোটে নির্বাচিত; তাই তাকে কোনোদিন গণতন্ত্রের পক্ষের লোক বলে বিবেচনা করা যাবে না।'
করবিনের ভাষায়, তিনি (বরিস) রাজনীতিতে সবসময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুসরণ করছেন। আর এ কারণেই ব্রিটিশ জনগণ বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চাকরিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।'
বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ কার্যকরের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে। যদিও ফ্রান্স একদমই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সেই মেয়াদ বাড়াতে চায়। যদিও এর জন্য ব্রিটেনের মোট ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রেরই সমর্থন প্রয়োজন।